ঢাকা, রোববার 18 December 2016 ৪ পৌষ ১৪২৩, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আজ রাষ্ট্রপতির সাথে বিএনপির বৈঠক

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন। নতুন বছরের শুরুতেই বর্তমান কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে। তাই সবার কাছে একটি গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবি সর্বমহলের। তারই ধারাবাহিকতায় নির্বাচন কমিশন নিয়োগ নিয়ে সার্চ কমিটি গঠন প্রশ্নে আজ রোববার রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে বৈঠক করবে বিএনপি। বিকেল সাড়ে ৪টায় বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিবেন দলেল চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বৈঠকে বিএনপির দশ সিনিয়র নেতার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির সাথে অনুষ্ঠিতব্য এই সংলাপে খালেদা জিয়া নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে তার দেয়া প্রস্তাবই তুলে ধরবেন। তিনি এর পক্ষে তার অবস্থান ব্যাখ্যা করবেন। রাষ্ট্রপতির সংলাপ যদি কার্যকর হয়, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ (সিইসি) নির্বাচন কমিশনার পদেও নামের তালিকা দেবেন বেগম জিয়া। পরবর্তীতে নির্বাচনকালীন ‘সহায়ক সরকার’ নিয়েও প্রয়োজনে আরেকদফা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে বসার অনুরোধ জানাবেন বিএনপি প্রধান। বৈঠকের বিষয় নিয়ে গতকাল শনিবার রাতে দলের সিনিয়র নেতাদের সাথে বৈঠক করেছেন তিনি। এদিকে রাষ্ট্রপতির সাথে বহুল প্রতিক্ষিত বিএনপির এই সংলাপের দিকে তাকিয়ে আছে দেশের সুশীলসমাজসহ পুরো দেশ। সবার আশা রাষ্ট্রপতির সাথে বিএনপির এই সাংলাপের মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও যোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের পথ তৈরী হবে।
সূত্রমতে, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বঙ্গভবনে যাচ্ছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার  মোশাররফ  হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, লে. জেনারেল মাহবুবুর রহমান (অব.), গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ড. আবদুল মঈন খান ও আমীর খসরু মাহমুদ  চৌধুরী। এ ছাড়াও বঙ্গভবনের অনুমতি সাপেক্ষে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (অব.), রুহুল আলম চৌধুরী ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদও যেতে পারেন। ১০ থেকে বেড়ে ১৫ জনের তালিকা আজ চূড়ান্ত হবে বলে জানা গেছে।
দলের স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানান, বিএনপি মূলত খালেদা জিয়ার ১৩ দফা প্রস্তাবের ওপরই গুরুত্ব দেবে। তারপরও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি যদি নির্বাচন কমিশন নিয়ে নামের তালিকা চান, তাহলে বিএনপির পক্ষ থেকে তা দেওয়া হবে। এজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েই বঙ্গভবনে যাবে বিএনপি। গত ১২ ডিসেম্বর বঙ্গভবন থেকে চিঠি পাঠিয়ে সংলাপের জন্য বিএনপির কাছে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নাম চাওয়া হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে খালেদা জিয়াসহ বিএনপির ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নামের তালিকা বঙ্গভবনে পাঠানো হয়। বিএনপির অনুরোধে আরও পাঁচ জনের নামের তালিকার সম্মতি দিয়েছে বঙ্গভবন। গতকাল ওই পাঁচ সদস্যের তালিকা বঙ্গভবনে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, সার্চ কমিটির প্রধানের তালিকায় সাবেক তিনজন প্রধান বিচারপতির নাম প্রস্তাব করবেন বেগম জিয়া। এ ছাড়া এ কমিটিতে সদস্য হিসেবে আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারপতি, একজন সাবেক আমলা, একজন সাবেক ভিসি ও একজন নারী সদস্যের নামও রাষ্ট্রপতিকে হস্তান্তর করবেন বেগম জিয়া। গতকাল রাতে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তালিকা আজ চূড়ান্ত করেন বিএনপি প্রধান। বিএনপি আশা করছে, সার্চ কমিটিতে তাদের তালিকা থেকে রাষ্ট্রপতি একাধিক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেবেন।
সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপকালে খালেদা জিয়া লিখিত বক্তব্য দেবেন। প্রথমেই দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেবেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। খালেদা জিয়া তার বক্তব্যে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেয়ার কারণসহ দেশের চলমান গণতন্ত্রহীন পরিস্থিতি তুলে ধরবেন। দেশের চলমান সংকটময় পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক সমঝোতার উদ্যোগ নিতে রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ জানাতে পারেন তিনি। লিখিত বক্তব্যে প্রস্তাবের পক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেবেন খালেদা জিয়া। বৈঠকে বিরোধী জোটের উপর সরকারের চলমান হামলা, মামলার একটি চিত্র তুলে ধরা হবে। এ ছাড়া বিরোধীদের সভা-সমাবেশের অনুমতি প্রদানসহ সংলাপকে কার্যকর ও অর্থবহ করার অনুরোধও রাষ্ট্রপতিকে জানানো হবে। লিখিত বক্তৃতার কপি ছাড়াও নির্বাচন কমিশন নিয়োগে ১৩ দফা প্রস্তাবনা সংবলিত বইটিও রাষ্ট্রপতির হাতে তুলে দেবেন বেগম জিয়া।
বিএনপি ছাড়াও প্রাথমিক পর্যায়ে আরও চার দল জাতীয় পার্টি, এলডিপি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদকেও সংলাপে ডাকা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত অন্য দলকেও সংলাপের আমন্ত্রণ জানানো হবে। বিএনপি সূত্রে জানা যায়, সার্চ কমিটি গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপকে ‘ টেস্ট কেস’ হিসেবে দেখছে বিএনপি। নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের পরপরই নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরবেন তিনি।
 বৈঠকে আলোচনার বিষয় প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দৈনিক সংগ্রামকে জানান, সার্চ কমিটিতে কারা আসছেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন নিয়ে আমাদের চেয়ারপার্সন যে প্রস্তাবনা দিয়েছেন, তার নিরিখেই সার্চ কমিটির নাম সিলেক্ট করা হচ্ছে। বিভিন্নভাবে অনেক নামই আসছে। এগুলো চূড়ান্ত করবেন বেগম জিয়া। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে দলের চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে প্রস্তাব দিয়েছেন তার আলোকেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিএনপি আলোচনায় বসবে।  তিনি আশা করছেন, এই সংলাপের মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও যোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন হবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, তারা ১৩ দফা দাবি নিয়েই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। এই সংলাপে নির্বাচন কমিশনে নিয়োগের বিষয়ে বিএনপি কোনো প্রস্তাব দেবে কি না-জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল কোনো জবাব না দিয়ে বলেন, আপনারা জানতে পারবেন। বিএনপি নেতা বলেন, সুষ্ঠু ও সত্যিকার অর্থে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে সক্ষম হবে, সেই ধরনের একটি যোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন করার জন্য আমরা বার বার বলে এসেছি। সেজন্য একটা প্রস্তাবও দিয়েছেন আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আমরা সেই প্রস্তাব পেশ করব।
কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ফেব্রুয়ারিতে। এর আগেই নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন হবে। এই কমিশনের অধীনেই হবে আগামী সংসদ নির্বাচন। এ নিয়ে গত ১৮ নবেম্বর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিএনপি চেয়ারপার্সন। কেমন হবে নতুন নির্বাচন কমিশন? এ নিয়ে যখন জল্পনা-কল্পনা তুঙ্গে তখন খালেদা জিয়া ইসি পুনর্গঠনে ১৩ দফা প্রস্তাব তুলে ধরে বললেন, নতুন কমিশন নিয়োগ দেওয়ার আগে রাষ্ট্রপতি সব দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি বাছাই কমিটি গঠন করবেন। এই বাছাই কমিটি রাষ্ট্রপতির কাছে সিইসি এবং কমিশনার নিয়োগে নাম প্রস্তাব করবে। পুরো প্রক্রিয়া কেমন হবে সে ব্যাপারেও একটা প্রস্তাব দেন বিএনপি নেত্রী। প্রস্তাবটি রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছেও পৌঁছে দিয়েছে বিএনপির প্রতিনিধি দল। বিএনপির ১৩ দফার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। তিনি তখন হাঙ্গেরি থেকে ফিরে সাংবাদিক সম্মেলনে বললেন, এটা রাষ্ট্রপতি ভালো বুঝবেন। তিনি পদক্ষেপ নেবেন। যে পদক্ষেপ নেবেন সেটাই হবে। এখানে আমাদের বলার কোনো কিছু নেই।
বিএনপি বলেছে, রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি বাছাই কমিটি গঠন করবেন। তিনি সর্বজন শ্রদ্ধেয় সৎ, নিরপেক্ষ, অভিজ্ঞ, প্রাজ্ঞ এবং নৈতিকতা ও ব্যক্তিত্বস¤পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে পাঁচ সদস্যের একটি বাছাই কমিটি গঠন করবেন। বাছাই কমিটির আহ্বায়ক হবেন অবসরপ্রাপ্ত এবং কর্মক্ষম একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি, যিনি বিতর্কিত নন এবং অবসর গ্রহণের পর সরকারের কোনো লাভজনক পদে ছিলেন না। অপর সদস্যরা হবেন আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি, সচিব। তারা হবেন অবসরপ্রাপ্ত। বিতর্কিত নন এবং অবসর গ্রহণের পর সরকারের কোনো লাভজনক পদে ছিলেন না। অবসরপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হবেন দলনিরপেক্ষ ও সর্বজন শ্রদ্ধেয়। শিক্ষাবিদ হিসেবে সুখ্যাতি থাকতে হবে। কমিটিতে একজন নারীকে রাখতে হবে। তিনি হবেন সর্বজন শ্রদ্ধেয়, দলনিরপেক্ষ, সৎ, দক্ষ ও যোগ্য। তবে অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন কোনো কর্মকর্তা বাছাই কমিটির সদস্য হতে পারবেন না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী ১৩ দফা নিয়ে সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রপতির দিকে ঠেলে দিলেও এ বিষয়ে আসলে তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। কারণ, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোনো ক্ষমতাই নেই রাষ্ট্রপতির। আবার প্রধানমন্ত্রী যদিও রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন, তারপরও ১৩ দফা সম্পর্কে তার নেতিবাচক মনোভাবও প্রকাশ করেছেন। এই অবস্থায় ১৩ দফা নিয়ে বঙ্গভবনের সিদ্ধান্ত বিএনপির পক্ষে যাওয়ার সুযোগ খুবই কম বলেই ধারণা করা হচ্ছে। আজ বহুল প্রতিক্ষিত রাষ্ট্রপতির সেঙ্গ সেই সংলাপে বসবে বিএনপি। অবশ্য এই সংলাপ ২০১২ সালে নির্বাচন কমিশন গঠনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতি যেভাবে আলোচনা করেছিলেনÑএমন কোনো বিষয় কি নাÑএটা এখনও নিশ্চিত নয়।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপি প্রস্তাবনার বিষয়টিকে ‘তামাশা’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন। বলেছেন, খালেদা জিয়া যে বক্তব্য প্রদান করেছেন, আমাদের মনে হয়েছে, এটা চর্বিতচর্বণ। ৪৫ মিনিটের অন্তঃসারশূন্য বক্তব্য প্রমাণ করেছে, তিনি জনগণের ওপর আস্থাশীল নন। তার বক্তব্যে এমন কিছু প্রসঙ্গ এসেছে, যা ইতোমধ্যে আমাদের সংবিধান এবং নির্বাচন আইনে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটা জাতির সঙ্গে তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়।
এদিকে সরকারি দলের পক্ষ থেকে নেতিবাচক মনোভাব থাকলেও দেশের বিশিষ্টজনরা বলছেন, নির্বাচন কমিশন নিয়ে সবার মতামত নেয়া প্রয়োজন।  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেন, সব দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন সময়ের দাবি।
 প্রবীণ আইনজীবী রফিক-উল হক বিএনপির প্রস্তাবের ব্যাপারে বলেন, আমি কোনো রাজনীতি করি না। নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করি বলে হয়ত অনেকে পছন্দ করে বা খাতির করে। এ দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমি বলব, শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন চাই, সুষ্ঠু নির্বাচন চাই এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ চাই। এ আলোচনা ও সমঝোতা দরকার।
আরেক বিশিষ্ট ব্যক্তি সুশাসনের জন্য নাগিরক সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও ভোট সুরক্ষায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া যে প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন, আমি তাকে সাম্প্রতিককালে যেসব বিতর্ক এসেছে তার আলোকে দেখতে চাই। আমি মনে করি তার বক্তব্যগুলো ও প্রস্তাবটি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা জরুরি।  এটাকে তামাশা, অন্তঃসারশূন্য বা গৎবাঁধা বলে উড়িয়ে দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। মনে রাখতে হবে বিএনপি একটি বড় দল। আর সেই দলের প্রধান হিসেবেই প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন খালেদা জিয়া। তাই তার বক্তব্য বিবেচনায় নেয়া জরুরি। আমাদের নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিতর্ক সব সময়ই ছিল। আগেও ছিল, এখনও আছে। তাই বিতর্ক এড়াতে বিএনপির প্রস্তাব বিবেচনা করতে হবে।
জানিপপ চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ’র মতে, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়াসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে গত ১৮ নবেম্বর বিএনপি চেয়ারপার্সন যে রূপরেখা তুলে ধরেছেন তাতে বিএনপির আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তার এ প্রস্তাবনার পর নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়াসহ আগামী জাতীয় নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য সৃষ্টি হবে, এটাই সবার প্রত্যাশা। তবে ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ তাতে সাড়া দেবেন কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়াসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে সেভাবে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে, এটাই কাম্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ