ঢাকা, রোববার 18 December 2016 ৪ পৌষ ১৪২৩, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিএনপি-আ’লীগ প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি

নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা : সবার মুখে একটাই কথা জিতবে কে সাখাওয়াত না আইভী। আবার অনেকে বলছেন বিজয়ী হবেন কে ধানের শীষ না নৌকা। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী-বিএনপির প্রার্থী এড.সাখাওয়াত হোসেন খান বিজয় নিশ্চিত মনে করে শেষ পর্যায়ের প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রার্থীরা দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ধানের শীষ-নৌকা  প্রতীকের নির্বাচনে অন্য নির্বাচনের তুলনায় ভোটারদের মাঝে বাড়তি উল্লাস দেখা যাচ্ছে। দলীয় প্রতীকের নির্বাচনে বিএনপি-আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়। এমন প্রত্যয় নিয়ে তারা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকাগুলো চষে বেড়াচ্ছেন।
এদিকে নাসিক নির্বাচন ৪ দিন বাকী থাকলেও আওয়ামীলীগ-বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে কেন্দ্রীয় নেতারা সকাল হতে নারায়ণগঞ্জে অবস্থান করছেন। তারা স্থানীয় নেতাদের সাথে নিয়ে দলীয় প্রতীকের পক্ষে কাজ করছেন এবং ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন। নারায়ণগঞ্জে বিএনপি-আওয়ামীলীগের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল থাকলেও কেন্দ্রীয় নেতাদের নারায়ণগঞ্জে আগমনের পর স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতি দেখে মনে হয় না স্থানীয় নেতাদের কোন্দল রয়েছে। বিশেষ করে বিএনপিতে যেধরনের কোন্দল ছিল কেন্দ্রীয় নেতাদের ভূমিকায় অনেকটাই দূর হয়েছে। তারা চায় নারায়ণগঞ্জ হতে ধানের শীষের বিজয়ের যাত্রা শুরু করবেন। যার কারণে আগের চেয়ে বিএনপিতে অনেকটাই ঐক্যের সুর বেজে উঠেছে। স্থানীয় শীর্ষ নেতারা ধানের শীষের প্রতীককে বিজয়ী করার লক্ষ্যে কাজ করছেন। আর আওয়ামীলীগের মধ্যে এখনো সেই ঐক্যের সুবাতাস সৃষ্টি হয়নি।
এদিকে শনিবার সকাল হতে দুপুর পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বন্দরের ২১, ২২ নং ওয়ার্ডে প্রচারণার চালিয়েছেন আওয়ামীলীগের প্রার্থী ডা.সেলিনা হায়াত আইভী। তিনি দিচ্ছেন নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি। আর তিনি বিএনপির প্রার্থীর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এমনকি আইভী সাখাওয়াত হোসেন খানের বক্তব্য ও অভিযোগকে রাজনৈতিক স্ট্যান্ডবাজী হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।
আইভী বলেন, উনি আমার বিরুদ্ধে যেসকল অভিযোগ করছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে সাখাওয়াত কখনো পার পাবে না। ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, আমার মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে জনগণের ভোট পাওয়ার কোন দরকার নাই। জনগণ আমাকে যোগ্য মনে করলে আমাকে ভোট দিবেন। আমি কঠিন সত্যের মধ্যে দাড়িয়েও সত্য কথা বলি। কঠিন প্রতিকূলতার মধ্যে দাঁড়িয়েও আমি কখনো মিথ্যার আশ্রয় নেই নাই। আমি তো বলেই দিয়েছি ২২ তারিখে জনগণ যা সিদ্ধান্ত নিবে তাই মেনে নিব। ২৭টি ওয়ার্ডের এমন একটি ওয়ার্ডের কথাও বলতে পারবে না যেখানে ওনার প্রচার প্রচারণায় বাদ দিয়েছে। ওনিও সকল মানুষ কাছে যাচ্ছেন আমিও যাচ্ছি।
এদিকে বিএনিপর প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খান বিভিন্ন স্থানে প্রচারণা করে অভিযোগ করেন তার নেতাকর্মীদের বাসায় গিয়ে আওয়ামীলীগের লোকজন হুমকি ধমকি দিচ্ছেন। যাতে তারা সাখাওয়াত হোসেনের পক্ষে নির্বাচনে কাজ না করে।
অপরদিকে শনিবার সকাল হতে দুপুর পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সিদ্ধিরগঞ্জের ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেছেন বিএনপির প্রার্থী এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনসহ নগরীকে উন্নয়ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গণসংযোগ করে চলছেন। এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন, নির্র্বাচনের সিদ্ধিরগঞ্জের প্রধান সমন্বয়কারী বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদিন ফারুক, আবুল খায়ের ভূঁইয়ার, হাবিবুর রহমান হাবিব, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিমউদ্দিন আলম, ডা: দেওয়ান সালাহ উদ্দিন বাবু প্রমুখ। অপর দিকে ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য গিয়াস উদ্দিন, সালাউদ্দিন ভূঁইয়া শিশির, একরামুল হক বিপ্লব, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি প্রমুখ।
সাখাওয়াতের পক্ষ নিয়ে সরে গেলেন এলডিপি’র কামাল প্রধান
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন লিবারেল ডেমোক্রেটিভ পার্টির (এলডিপি) মেয়র প্রার্থী কামাল প্রধান। তিনি ২০ দলীয় জোট তথা বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে সমর্থন জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে সাখাওয়াত ২০ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দের সমর্থিত প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও এলডিপি’র কামাল ছাতা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। আর নির্বাচনের বাকী মাত্র ৪ দিন। হঠাৎ করে কামাল প্রধান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শনিবার দুপুরে শহরের শায়েস্তা খান রোডের বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দিপু ভূঁইয়ার বাড়িতে গঠিত মিডিয়া সেলে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে কামাল প্রধান এ ঘোষণা দেন।
কামাল প্রধান বলেন, রাজনৈতিক ভাবে যেহেতু আমরা ২০ দলে আছি এবং আমাদের জোটের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি ২০ দলের জোটের পক্ষ হতে সাখাওয়াত হোসেনকে নাসিক নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসাবে মনোনীত করেছেন। তাই আমাদের সকলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে এই নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী ও ধানের শীষের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। আমি নিজে আজ থেকে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ শুরু করবো এবং ধানের শীষের পক্ষে মানুষের কাছে ভোট প্রার্থনা করবো।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান মেজর হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, কামাল প্রধান আমাদের প্রার্থী ও ধানের শীষের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সরে গিয়ে আমাদের পক্ষে আজ থেকে মাঠে নামবেন তার এই সিদ্ধান্তকে আমরা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে স্বাগত জানাচ্ছি।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খাইরুল কবির খোকন, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূঁইয়া, এলডিপির যুগ্ম সম্পাদক শাহাদাত হোসেন সেলিম, বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশারফ হোসেন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম, সহ সমাজকল্যাণ সম্পাদক আবুল বাশার, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হাসান মামুন প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ