ঢাকা, রোববার 18 December 2016 ৪ পৌষ ১৪২৩, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রাখাইনে কাঁদছে মানবতা॥ থামেনি গণহত্যা-গণধর্ষণ

সংগ্রাম ডেস্ক : মিয়ানমারের রাখাইনে বর্মি সামরিক বাহিনী কর্তৃক রোহিঙ্গা নারীদের ওপর যৌন নিপীড়নের ঘটনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। থামেনি গণহত্যাও।  
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রায় প্রতিদিনই এ সম্পর্কিত রিপোর্ট প্রকাশিত হচ্ছে। গণহত্যা ও নির্যাতন বন্ধে আন্তর্জাতিক চাপকে অগ্রাহ্য করেই এসব দমন-পীড়ন চালাচ্ছে সেনাবাহিনী।
গত মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে উত্তর মংডুর ‘কিয়ানপাক পাইজু’ গ্রামে অভিযান চালায় বার্মিজ সৈন্যরা। এসময় তাদের হাতে দুই কিশোরী বোন গণধর্ষণের শিকার হযেেছন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার ভোরে অভিযান শুরুর পরপরই সৈন্যরা গ্রামের পুরুষ লোকদের গ্রেফতার করার জন্য একটানা ধাওযা করে এবং তাদের গ্রামটি থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়। তারপর সৈন্যরা গ্রামের সব নারীদেরকে একটি স্থানে একত্রিত করে। সেখানে কয়েক ডজন অল্প বয়স্ক নারীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
নাম গোপন রাখার শর্তে রোহিঙ্গা ভিশনের প্রতিবেদককে গ্রামটির একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ‘সৈন্যরা নারীদের শরীর তল্লাশি করে তাদের (নারীদের) অলংকার লুটপাট করে এবং তারপর তাদের কাপড় খুলে নগ্ন করা হয়। পরে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর অঙ্গে ক্রমাগত হাত দিতে থাকে।’ রোহিঙ্গা ভিশন।
তিনি বলেন, ‘এটা অপমানজনক এবং অসহনীয়।’
ধর্ষণের শিকার ওই দুই কিশোরী গ্রামের নুরুল ইসলামের (আসল নাম নয়) কন্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের বয়স যথাক্রমে ১৭ ও ১৯ বছর। তাদের একটি ঘরের মধ্যে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে টানা কয়েক ঘণ্টাব্যাপী গণধর্ষণ করে সৈন্যরা।
ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে অবরোধ অবস্থা থেকে ওই দুই কিশোরীকে গ্রামের পূর্বদিকে অবস্থিত একটি বনের মধ্যে ছেড়ে দেয়া হয়।
বর্মি সৈন্যদের ওই একই গ্রুপ সোমবার ( ১২ ডিসেম্বর) ‘জিপিন চাং’ গ্রামের ‘শঙ্খলা’ পল্লীতে অভিযানের সময় তাদের হাতে আট রোহিঙ্গা নারী গণধর্ষণের শিকার হয়।
উত্তর মংডু থেকে রোহিঙ্গা ভিশনের সংবাদদাতা জানান, ১২ ডিসেম্বর দুপুরে তদন্ত কমিশন পার্শ্ববর্তী ‘ইয়িখেচাং খোসুন’ গ্রাম ত্যাগ করার পরপরই বর্মি সৈন্যরা তিন নারীকে নিকটবর্তী একটি জঙ্গলে ধরে নিয়ে গিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধর্ষণ করে।
সহিংসতা বন্ধ করার জন্য অব্যাহত আন্তর্জাতিক চাপ অগ্রাহ্য করে বর্মি সামরিক বাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর অমনুষ্যোচিত নির্যাতন চালাচ্ছে। রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মনোবল ভেঙে দিতে এবং যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ক্রমবর্ধমানভাবে নারীদের ধর্ষণ করে যাচ্ছে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক চাপ কমাতে বর্মি প্রেসিডেন্ট কর্তৃক তৈরি করা একটি আন্তর্জাতিক তদন্ত দল মংডুতে পাঠানো হয়। উত্তর মংডুতে তদন্ত দলটি তাদের সফর শেষ করেছে এবং বর্মি সামরিক বাহিনীর নৃশংসতাকে আড়াল করতে একটি সাজানো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মিয়ানমারে অং সান সু চি’র নেতৃত্বাধীন সরকার রোহিঙ্গা মুসলিমদের সঙ্গে যে আচরণ করছে তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষযক দপ্তরের প্রধান যাইদ রাদ আল হুসেইন বলেছেন, তারা মিয়ানমার থেকে প্রায় প্রতিদিনই হত্যা, নির্যাতন এবং ধর্ষণের মতো ঘটনার খবর পাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, রাখাইন রাজ্যের সমস্যা মোকাবেলায় মায়ানমার সরকার যে নীতি নিযেেছ তাতে বরং উল্টো ফল হচ্ছে।
গত ৯ অক্টোবর থেকে রাখাইন রাজ্যের মংডুতে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ চালাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী।
সর্বশেষ সহিংসতায় ৭ শতাধিকেরও বেশি রোহিঙ্গা নাগরিক নিহত হয়েছে। অন্তত ৩,০০০ ঘরবাড়ি ধ্বংস করার মাধ্যমে ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষকে বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে। তাদের নির্যাতনে ২৭ হাজারেরও বেশি মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করতে বাধ্য হয়েছে এবং ৫ শতাধিকেরও বেশি রোহিঙ্গা নারী বর্মি সৈন্যদের হাতে ধর্ষিত হয়েছেন।
মিয়ানমারকে সতর্ক করলো জাতিসংঘ : রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে মিয়ানমারকে সতর্ক করলো জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার জেইদ রা’দ আল হুসেন এক বিবৃতিতে এই কথা জানিয়েছেন। বিবৃতিতে তিন বলেন, মিয়ানমার সরকারের ‘গাছাড়া’ ভাব বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে দেশটির ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেত্রী নোবেলজয়ী অং সান সু চিকে বিরোধপূর্ণ উত্তরাঞ্চল পরিদর্শনের আহ্বান জানানোর সপ্তাহখানেক পর এক সতর্কবার্তায় হাই কমিশনার এ শঙ্কা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন “মিয়ানমার উত্তর রাখাইনের পরিস্থিতি যেভাবে সামলাচ্ছে তা খারাপ পরিস্থিতিকে কী করে নিকৃ”  অবস্থায় নিয়ে যাওয়া যায় তার একটি উদাহরণ হতে পারে।”  “আমি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে পেছনে ফিরে দীর্ঘদিন ধরে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের স্বার্থে ওই অঞ্চলে চালানো নিরাপত্তা অভিযানের প্রভাব বিবেচনা করতে অনুরোধ করছি।”
নিরাপত্তা বাহিনীর এমন মনোভাবকে ‘ভুল’ বলেও অ্যাখ্যা দেন জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান। বিবৃতিতে অক্টোবরে সীমান্ত পোস্টে এবং পরে গত ১২ নভেম্বর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলারও তীব্র নিন্দা জানান জেইদ। নিউইয়র্ক টাইমস/আমাদের সময়।
গত ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের তিনটি সীমান্ত পোস্টে ‘বিচ্ছিন্নতা বাদীদের’ হামলায় নয় সীমান্ত পুলিশ নিহত হওয়ার পর রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত জেলাগুলোতে শুরুহয় সেনা অভিযান। এরপর থেকে সহিংসতায় বহু রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে, সহিংসতা থেকে বাঁচতে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে। ২০১২ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় শতাধিক মারা যাওয়ার পর এ দফাই এত বেশি রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু বাংলাদেশ সীমান্ত পানে ছুটছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। এবারের সেনা অভিযানে রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ, ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া এবং বেসামরিকদের হত্যার অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তবে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সরকার তা অস্বীকার করেছে।
বিরোধপূর্ণ ওই এলাকায় বিদেশি সাংবাদিক ও ত্রাণকর্মীদের ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না, এ নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনের প্রধান জেইদ বলেন “কর্তৃপক্ষের যদি লুকানোর কিছু না থাকে, তাহলে কেন তারা সেখানে যেতে বাধা দিচ্ছে? বারবার আমাদের অনুমতি দিতে ব্যর্থতায় আমাদের শঙ্কা, সেখানে ভয়াবহ কিছু হতে পারে।”
তিনি আরো বলেন, “রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও জালিয়াতি অ্যাখ্যা দিয়ে সেখানে নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকদের প্রবেশের আবেদন ধারাবাহিক খারিজ করা হচ্ছে, যা নির্যাতিতদের জন্য অপমানস্বরূপ এবং আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট  লঙ্ঘন।” রোহিঙ্গা অধ্যুষিত অঞ্চল পরিদর্শনে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের আবেদন ‘এখনও গৃহীত না হওয়ায়’ তীব্র হতাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ার পর অনিবন্ধিত শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে অনেক রোহিঙ্গা বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ার পর অনিবন্ধিত শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে অনেক রোহিঙ্গা বিরোধপূর্ণ উত্তর রাখাইনে শান্তি ফেরাতে দেশটির সরকারকে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে জমে থাকা দীর্ঘদিনের ক্ষোভ নিরসনে ব্যবস্থা নিতেও অনুরোধ জানান তিনি।
“এগুলো কঠিন অপরাধ; এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও পরিকল্পনাকারীদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ। কিন্তু যতদূর শুনেছি, ওই অপরাধের জন্য নিরাপত্তাবাহিনী পুরো সম্প্রদায়কে শাস্তি দিচ্ছে। তাদের প্রতিহিংসার আগুনে পুড়ছে রোহিঙ্গা মুসলিমরা, এবং মাত্র দুই মাসের মধ্যে কম করে হলেও ২৭ হাজার রোহিঙ্গা প্রতিবেশি বাংলাদেশের সীমান্ত অভিমুখে পালিয়ে গেছে।”
“দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, দুনিয়ায় এখন এমন অসংখ্য উদাহরণ বিদ্যমান যেখানে- সমস্যার মূল না খুঁজে নিরাপত্তার নামে সশস্ত্র বাহিনীকে ব্যবহার চলছে। ফল হয়েছে ভয়ানক, অনেকেই বাস্তুহারা হয়েছেন, বিকাশ ঘটেছে সহিংস জঙ্গিবাদের এবং শেষ পর্যন্ত সবাই পরাজিত হয়েছি।”
রোহিঙ্গা ঠেকাতে সতর্ক বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীরা রোহিঙ্গা ঠেকাতে সতর্ক বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীরা
শান্তি ফেরাতে মিয়ানমারের রাজনীতিক ও সামরিক নেতারা এক হয়ে বিরোধপূর্ণ অঞ্চলটির সম্প্রদায়গুলোকে আশ্বস্ত করার কর্মসূচি নিতে পারে বলেও পরামর্শ দেন জেইদ।
“ক্ষোভের কথা শুনতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ে তা মেটাতে কাজ করতে হবে; যেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ মিলবে সেখানে নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করে দুষ্কৃতকারীদের- তারা যেই হোক না কেন, বিচারের আওতায় আনতে হবে।”  মিয়ানমার সরকারকে এ বিষয়ে পরামর্শ দিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয় প্রস্তুত আছে বলেও জানান হাইকমিশনার। পরিস্থিতির উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ দেয়ারও আশ্বাস দেন তিনি।
রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে মিয়ানমার সরকারের তদন্ত কমিশন গঠন করার কথা উল্লেখ করে জেইদ নিরপেক্ষ পর‌্যবেক্ষদের শর্তহীনভাবে বিরোধপূর্ণ ওই অঞ্চল পরিদর্শনে অনুমতি দেয়ার ওপর জোর দেন। তিনি বিস্তৃত আকারে ছড়িয়ে পড়া রাখাইন সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা নিতে মিয়ানমার সরকারকে আহ্বান জানান। “মিয়ানমার সরকারকে বিপজ্জনক ও অসহনীয় রাখাইন সঙ্কট, যা এরই মধ্যে বিস্তৃত হয়ে অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে তার সমাধানে আন্তর্জাতিক সহায়তা গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি,”  বলেন তিনি।
জেইদের পরামর্শ
শান্তি ফেরাতে মিয়ানমারের রাজনীতিক ও সামরিক নেতারা এক হয়ে বিরোধপূর্ণ অঞ্চলটির সম্প্রদায়গুলোকে আশ্বস্ত করার কর্মসূচি নিতে পারে বলেও পরামর্শ দেন জেইদ।
“ক্ষোভের কথা শুনতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ে তা মেটাতে কাজ করতে হবে; যেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ মিলবে সেখানে নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করে দুষ্কৃতকারীদের- তারা যেই হোক না কেন, বিচারের আওতায় আনতে হবে।”
মিয়ানমার সরকারকে এ বিষয়ে পরামর্শ দিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয় প্রস্তুত আছে বলেও জানান হাইকমিশনার। পরিস্থিতির উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ দেয়ারও আশ্বাস দেন তিনি।
রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে মিয়ানমার সরকারের তদন্ত কমিশন গঠন করার কথা উল্লেখ করে জেইদ নিরপেক্ষ পর‌্যবেক্ষদের শর্তহীনভাবে বিরোধপূর্ণ ওই অঞ্চল পরিদর্শনে অনুমতি দেয়ার ওপর জোর দেন।
তিনি বিস্তৃত আকারে ছড়িয়ে পড়া রাখাইন সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা নিতে মিয়ানমার সরকারকে আহ্বান জানান।
“মিয়ানমার সরকারকে বিপজ্জনক ও অসহনীয় রাখাইন সঙ্কট, যা এরই মধ্যে বিস্তৃত হয়ে অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে তার সমাধানে আন্তর্জাতিক সহায়তা গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি,”  বলেন তিনি।
আরও ৬ গ্রামে আগুন
কমরুদ্দিন মুকুল, উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা : আমার বাবা নুর আহমদ (২৮)কে কুপিয়ে হত্যা করেছে। ঘরে আগুন দিয়ে ৪ বছর বয়সী ছোট ভাই আরকায়াকে আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে। পরে বর্মী সশস্ত্র হায়েনারা ধারালো কিরিচের ভয় দেখিয়ে আমি ও পাশের বাড়ির তসলিমা (১১) ও নুর আয়েশা (১৮)সহ ৩ জনকে একটি খালি ঘরে বিবস্ত্র করে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে। এ পৈচাশিক নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন গতকাল শনিবার ভোর রাতে মংডুর জামবনিয়া থেকে এসে কুতুপালং বস্তিতে মা ও ৩ ভাইসহ আশ্রয় নেয়া ১৫ বছর বয়সী ধর্ষিতা কিশোরী নুর কায়াস। সে জানায়, তাদের মতো সর্বস্ব হারিয়ে টেকনাফের হ্নীলা পয়েন্ট দিয়ে ২টি নৌকায় আরো ১০ পরিবারের ৫০ জন রোহিঙ্গা তাদের সাথে এসেছে। এপর্যন্তও তারা কিছু খেতে পারেনি।
কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা নেতা ডাক্তার ফয়সাল আনোয়ার সাংবাদিকদের জানান, সে মুঠোফোনে খবর নিয়ে জেনেছেন, শুক্রবার রাতে বর্মী সেনারা কাউয়ারখোপ গ্রামের আরো ৬টি বাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। সহায় সম্পদ লুটপাট করে নিয়ে গেছে। যে কারণে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ থামছে না। তিনি জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজার অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশু নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা বস্তিতে আশ্রয় নিলেও এরা কোন রকম ত্রাণ সামগ্রী পায়নি। প্রশাসনের অগোচরে কেউ কোন ত্রাণ সামগ্রী, নগদ টাকা পয়সা বিতরণ করলে বস্তি নেতা নামধারী আবু ছিদ্দিক তা কেড়ে নিচ্ছে। ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের নিকট থেকে চাঁদা আদায় করছে। তবে ওই রোহিঙ্গা নেতা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
গতকাল শনিবার কুতুপালং বস্তি ও ক্যাম্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার দ্বারে দ্বারে ১৫/২০ জন করে রোহিঙ্গা নারী-শিশু ত্রাণের জন্য অপেক্ষা করছে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে রোহিঙ্গারা। অনিয়ন্ত্রিত এসব রোহিঙ্গাদের অনেকেই সড়ক পথে বিভিন্ন স্থানে চলে যেতে শুরু করেছে। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের জানান, রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প ত্যাগ প্রতিরোধে পুলিশের নজরদারি রয়েছে। একথার সত্যতা মিললেও রোহিঙ্গারা ঠিকই যার যার অবস্থানে চলে যাচ্ছে।
ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের ব্যাপারে ডব্লিউএফপির প্রোগ্রাম অফিসার এসকে হাসানের সাথে আলাপ করে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, মানবিক কারণে নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের সাহায্য সহযোগিতা করা দরকার। তিনি আরো বলেন, এ নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ আলোচনা করা হলে জানা যাবে। তাবে আইওএম ও ইউএনএইচসিআর ত্রাণ সামগ্রী দিচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ