ঢাকা, রোববার 18 December 2016 ৪ পৌষ ১৪২৩, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ভারতীয় চ্যানেলগুলো বাংলাদেশের পারিবারিক বন্ধন ধ্বংস করছে

স্টাফ রিপোর্টার : নাট্যব্যক্তিত্ব ও ফেডারেশন অব টেলিভিশন প্রফেশনালস অর্গানাইজেশনের (এফটিপিও) আহ্বায়ক মামুনুর রশীদ বলেছেন, স্টার প্লাস, জি বাংলার মতো ভারতীয় চ্যানেলগুলো বাংলাদেশের পারিবারিক বন্ধনকে ধ্বংস করছে।
গতকাল শনিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন মামুনুর রশীদ। এফটিপিওর আহ্বায়ক মামুনুর রশীদ এবং সদস্যসচিব ও ডিরেক্টরস গিল্ডের সভাপতি গাজী রাকায়েত, নাট্যকার সংঘের সভাপতি মাসুম রেজা, প্রেজেন্টার্স প্ল্যাটফর্ম অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক আনজাম মাসুদ প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন
সম্মেলনে দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে বাংলায় ডাবিংকৃত বিদেশি অনুষ্ঠান প্রচার বন্ধের দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশে অবৈধভাবে কর্মরত বিদেশি শিল্পী-কলাকুশলীদের নিষিদ্ধেরও দাবি জানানো হয়।
মামুনুর রশীদ বলেন, ‘দেশের বেসরকারি চ্যানেলে বাংলায় ডাবিংকৃত বিদেশি সিরিয়াল অনুষ্ঠান বন্ধ করতে হবে। আমরা বিদেশি অনুষ্ঠানের কথা বলেছি। বিদেশি অনুষ্ঠানও বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, স্টার প্লাস , জি বাংলা, এগুলো একেবারে ২৪ ঘণ্টার চ্যানেল হিসেবে আমাদের দেশে চলছে এবং আমাদের পারিবারিক বন্ধনকে গত ২০ বছর ধরে ধ্বংস করছে। আমরা আশা করি, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই সরকার আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেবে।
সম্মেলনে অভিযোগ করে বলা হয়, বিদেশি চ্যানেল ও অনুষ্ঠানের কারণে বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে মহামারী শুরু হয়েছে। বিদেশি চ্যানেলে দেশীয় বিজ্ঞাপন এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিজ্ঞাপন বন্ধে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
 সম্মেলনে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের চ্যানেলগুলোর অসম ডাউন লিংক ফি কমানোর জন্য সরকারের যথাযথ হস্তক্ষেপ কামনা করেন সংগঠনটির নেতারা।বিজয় দিবসের মধ্যে দেশের চ্যানেলে ডাবিং করা বিদেশি ধারাবাহিক বন্ধের জন্য ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত  সময় বেঁধে দিয়েছিল টিভি শিল্পী-কলাকুশলীদের সংগঠনগুলোর জোট ফেডারেশন অব টেলিভিশন প্রফেশনালস অর্গানাইজেশন (এফটিপিও)। এরই মধ্যে চারটি চ্যানেল ছাড়া সবাই তাদের এই শর্ত মেনে নিয়েছে। এবার যে চারটি চ্যানেলে বিদেশি সিরিয়াল চলছে সেই চ্যানেলের সামনে ‘এফটিপিও’র ব্যানারে অবস্থান নেবে টিভি শিল্পী-কলাকুশলীরা।
সম্মেলনে এফটিপিওর নেতারা জানান, দেশের সব টিভি চ্যানেল যেন দ্রুত বিদেশি ডাবিংকৃত সিরিয়াল বন্ধ করে এবং আমাদের অন্যান্য দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সেজন্য এই অবস্থান কর্মসূচি।
এফটিপিও'র পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ১৯ ডিসেম্বর দীপ্ত টেলিভিশন, ২০ ডিসেম্বর একুশে টেলিভিশন, ২৮ ডিসেম্বর এসএ টিভি এবং ২৯ ডিসেম্বর মাছরাঙা টেলিভিশন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেবে এফটিপিও। সকাল ১১টা থেকে দুই ঘণ্টা করে অবস্থান কর্মসূচি চলবে।
‘শিল্পে বাঁচি, শিল্প বাঁচাই’ মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে এফটিপিও'র অধীনে মোট ১৪টি সংগঠন এই আন্দোলন করছে। টিভি সংশ্লিষ্ট ১৩টি সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে গঠিত এফটিপিওতে নতুন যুক্ত হয়েছে প্রেজেন্টার্স প্লাটফর্ম অব বাংলাদেশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ