ঢাকা, রোববার 18 December 2016 ৪ পৌষ ১৪২৩, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কক্সবাজার-মহেশখালী ফেরিঘাটে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে

সরওয়ার কামাল, মহেশখালী : মহেশখালীর প্রায় ৪ লাখ জনগণের যাতায়াতের একমাত্র ফেরিঘাট ড্রেসিং না হওয়ায় প্রতিদিন ভাটাঁর সময় পারাপারে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের সম্মূখীন হচ্ছে। প্রতি বছর এ জেটি থেকে মহেশখালী পৌরসভা ৩০/৪০ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় করলেও জেটিঘাট ব্যাপারে কারো মাথা ব্যথা নেই যার ফলে যাত্রীদের ভোগান্তির মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। জানা গেছে, মহেশখালী উপজেলার গোরকঘাটার পূর্ব পাশে ১৯৮৮ সালে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে জেটিটি নির্মাণ করা হয়। ৫০০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৩.৩ মিটার প্রস্থ জেটিটি নির্মাণ করার পর দীর্ঘ বছর ধরে সংস্কার  করা না হলে ও সম্প্রতি সংস্কার করা হয়েছে। ২০০০ সালে প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে জেটি ১০০ মিটার সম্প্রসারণ করা হলেও খাল ড্রেসিং না করায় যাত্রীদের কোন কাজে আসছে না। জেটির পার্শ্ববর্তী এরিয়া দিন দিন ভরাট হয়ে যাওয়ায় ভাটার সময় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। কোন উপায় না থাকায় বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীরা ভাটার সময় যাতায়াত করতে হয়। মহেশখালী জেটিঘাটের পাশাপাশি কক্সবাজার জেটিঘাটের অবস্থা আরো করুণ। ভুক্তভোগীদের দাবী, যাত্রীরা পারাপারের সময় রাজস্ব দিচ্ছে কিন্তু যাত্রীদের সুবিধার জন্য কোন ব্যবস্থা করেনি। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায় মহেশখালী জেটিঘাট থেকে যাত্রীরা ভাটার সময় নৌকা দিয়ে বোটে বা স্পীড বোটে উঠে এ সময় যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়ে। কক্সবাজার-মহেশখালী ফেরি পারাপারের ইজারাদার জানান, গুটি কয়েক স্পীড বোট ও কাঠের বোট দিয়ে যথাসময়ে যাত্রীরা পারাপার হচ্ছে। কাঠের বোট দিয়ে ২৫ টাকা এবং স্পীড বোট দিয়ে পারাপার করলে ৭৫ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হয়। জেটিঘাট ড্রেসিং না হওয়ায় যাত্রীদের পাশাপাশি বিদেশ থেকে আসা পর্যটকরা চরম দুভোর্গের সম্মুখীন হতে হয়। যার কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছরের পর্যটক তুলনা মুলকভাবে কমে গেছে। এবারে লাভ তো দূরের কথা জেটি ঘাটে লোকসান গুনতে হবে। ঘাটের এক কর্মচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জেটিঘাট থেকে প্রতি বছর লাখ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় করা হলেও জেটিঘাটটি ড্রেসিং করা হয়নি। যার ফলে ভাটার সময় সাগরের পানি নেমে গেলে যাত্রীরা উঠা নামা করতে দুর্ভোগের সম্মুখীন হয়। জেটিঘাট ড্রেসিং করা অতিব প্রয়োজন।
পৌর কমিশনার জানান, এক সময় জেটিটি পর্যটকদের নজর কাড়লেও খাল ড্রেসিং না হওয়ায় আগের মতো পর্যটক আসেনা। বিশেষ করে ভাটা হলে পারাপারের সময় যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ দেখে পর্যটকরা ভাটার সময় আসতে চায়না। পৌর মেয়র আলহাজ্ব মকছুদ মিয়া বলেন, খাল খনন হলে যাত্রীদের পারাপারের সুবিধা হত। না হওয়াতে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ