ঢাকা, রোববার 18 December 2016 ৪ পৌষ ১৪২৩, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ছেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেই আছে

স্টাফ রিপোর্টার : একদল সাদা পোশাকধারী রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকা থেকে গত ১৪ অক্টোবর তুলে নেয়া চিকিৎসক ইকবাল মাহমুদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেই আছে বলে দাবি করছেন তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম নুরুল আলম। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীতে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) ‘ডা. ইকবাল সম্পর্কে প্রকাশিত মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক খবরের প্রতিবাদে’ আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই দাবি করেন। এ সময় তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান।
সাংবাদিক সম্মেলনে এ কে এম নুরুল আলম বলেন, তার সাংবাদিক সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল গোয়েন্দা বাহিনীকে উদ্ধৃত করে একটি পত্রিকায় তার ছেলেকে নিয়ে ছাপা দুটি প্রতিবেদন নিয়ে কথা বলা। ওই প্রতিবেদনে গোয়েন্দা বাহিনীর অনামা সূত্র ব্যবহার করে দাবি করা হয়েছে, ইকবাল মাহমুদ জঙ্গিবাদে জড়িত। তার পেন ড্রাইভ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। নুরুল আলম বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ এখন পর্যন্ত তার ছেলে জঙ্গিবাদে জড়িত, এমন কোনো তথ্য তাকে বা আদালতকে জানায়নি।
তার প্রশ্ন, প্রতিবেদনে উত্থাপিত তথ্য বানোয়াট, নাকি আদালতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেয়া প্রতিবেদনে অস্পষ্টতা আছে? তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান। তিনি দাবি করেন, ছেলে স্নাতকোত্তর পড়ালেখায় ব্যস্ত থাকায় অন্য কোনো দিকে মনোযোগ দেয়ার সময় তার ছিল না। সে এক গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে। এতে সন্দেহ আসেই। কারণ যে জায়গা থেকে আমার ছেলেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে পুলিশের গাড়ি ছিল। অন্য কেউ নিলে পুলিশ তাৎক্ষণিক অ্যাকশনে যেত।
এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ছেলেকে খোঁজার নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যা করছে, তাতে তিনি সন্তুষ্ট নন। পুলিশ, র‌্যাব তাকে ও আদালতকে জানিয়েছে, তারা কমিটি করেছে। বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট বসিয়েছে। কিন্তু ঘটনাস্থলে থাকা একটি মাইক্রোবাস, একটি মোটরসাইকেল ও পুলিশের গাড়ি সম্পর্কে কিছু বলেনি। ওই যানবাহনগুলো সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে কোনদিকে গেছে সে সম্পর্কে দুই মাস পরও কোনো তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রকাশ করেনি।
দুই মাসেও ছেলের খোঁজ না মিললেও নুরুল আলম আশা ছাড়ছেন না। পত্রপত্রিকা মারফত তিনি জেনেছেন, চট্টগ্রামে অভিযানে গ্রেফতার পাঁচ তরুণকে ছয় মাস থেকে এক বছর আগ তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ আসছে। পরে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তার ছেলেও হয়তো এভাবে ফেরত আসবে। ছেলেকে ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আর্কষণ করেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ