ঢাকা, সোমবার 19 December 2016 ৫ পৌষ ১৪২৩, ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সংকট নিরসনে বিএনপির প্রস্তাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মন্তব্য রাষ্ট্রপতির

গতকাল রোববার বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ-এর সাথে বিএনপির প্রতিনিধি দলের বৈঠক হয়। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে রাষ্ট্রপতি ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল রোববার বঙ্গভবনে দেশের চলমান সংকট ও নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেয়া প্রস্তাবনা ও সংলাপ শেষে সন্ধ্যায় দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক করতে পেরে বিএনপি অনেক খুশি উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি আপাদমস্তক একজন রাজনীতিবিদ। তিনি সবার কাছে সর্বজন শ্রদ্ধেয় মানুষ। আমরা আশাবাদী তিনি সংকট নিরসনে ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করবেন। তিনি জানান, প্রস্তাবনা প্রদান শেষে খালেদা জিয়া তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, আমরা মনে করি আপনার কাছে আমাদের প্রস্তাবগুলো যৌক্তিক গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। এছাড়া ভবিষ্যতে খালেদা জিয়ার এই প্রস্তাব ইসি গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলেও মনে করেন রাষ্ট্রপতি। সংকট সমাধানে সংলাপের বিকল্প নেই বলেও মনে করেন তিনি। জানা গেছে, নির্বাচন গঠন প্রশ্নে সার্চ কমিটিতে কারা থাকবেন তাদের একটি তালিকাও রাষ্ট্রপতির কাছে ন্যস্ত করেছে বিএনপি।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ। 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ঘণ্টাব্যাপী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপ হয়েছে। রাষ্ট্রপতি উষ্ণ আমেজে স্বভাবসুলভ আন্তরিকতায় খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন। সংলাপে সব রাজনৈতিক দলের মতৈক্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়টি মূল প্রস্তাবনায় ছিল বলেও জানান ফখরুল। আলোচনার বিষয় প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার তোলা ১৩ দফা প্রস্তাবই রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে আবার তুলে ধরা হয়েছে। মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার প্রস্তাব নিয়ে তার সঙ্গে আলোচনার সময় চেয়েছিলাম। তিনি আজ আমাদের সময় দিয়েছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, যে বিষয়টার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়, সেটা হচ্ছে সকল রাজনৈতিক দলের মতৈক্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। এটাই মূল বিষয়। যেহেতু এখানে নির্বাচন কমিশন গঠন সম্পর্কে কোনো আইন তৈরি হয়নি তাই এখন আর বিকল্প কোনো পথ নেই। সকল রাজনৈতিক দলের মতৈক্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠনের উদ্যোগ মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে নেয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। মির্জা ফখরুল জানান, এই সংলাপে মূলত তিনটি প্রস্তাব তুলে ধরেছে বিএনপি। তিনি বলেন, তিনটি প্রধান অংশ ছিল আমাদের প্রস্তাবের। একটি হলো বাছাই কমিটি গঠন এবং সেটা হতে হবে একেবারে নিরপেক্ষ এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য বাছাই কমিটি। দ্বিতীয় নির্বাচন কমিশন গঠন, যেটাও সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং মতামতের ভিত্তিতে হতে হবে। আর তৃতীয়, আরপিও সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী করার প্রস্তাবগুলো।

বিএনপি মহাসচিব জানান, বাছাই কমিটিতে একজন আহ্বায়ক যিনি সাবেক প্রধান বিচারপতি ও কমিটিতে চারজন সদস্য রাখার প্রস্তাবনা রাষ্ট্রপতিকে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা মূলত তিনটি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উত্থাপন করেছি। একটি হচ্ছে বাছাই কমিটি, দ্বিতীয়টি হচ্ছে নির্বাচন কমিশন গঠন, তৃতীয়টি হচ্ছে আরপিও সংশোধন ও নির্বাচন কমিশন শক্তিশালীকরণ যা হতে হবে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ। কী পদ্ধতিতে বাছাই হবে তাও আমরা উত্থাপন করেছি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, রাষ্ট্রপতি পদ্ধতিগত বিষয়টি যাচাই-বাছাই করবেন। বিএনপি সংলাপের জন্য প্রথম আহ্বান জানিয়েছে তাই বিএনপিকে প্রথমেই ডাকা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ফখরুল বলেন, রাষ্ট্রপতি মনে করেন, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের স্বার্থে তিনি সব দলের সহযোগিতা পাবেন। বিএনপি চেয়ারপার্সন বাছাই কমিটির বিষয়ে যুক্তি ও তার মতামত সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। আশা করি রাষ্ট্রপতি আলোচনা করে পদ্ধতিগত বিষয়টি চূড়ান্ত করবেন। ফখরুল বলেন, রাষ্ট্রপতি জানিয়েছেন আগামী মাসে তিনি সব দলের সঙ্গে সংলাপ শেষ করবেন। সংলাপ শেষ হলে আবারো রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতি আলোচনার উদ্যোগ নেবেন বলেও জানান মির্জা ফখরুল। 

এর আগে নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে আলোচনার জন্য বিকাল সোয়া তিনটার দিকে খালেদা জিয়া তার গুলশানের বাসভবন থেকে রওয়ানা করেন। বিকাল সোয়া চারটায় তিনি বঙ্গভবনে পৌঁছেন। পরে সাড়ে চারটায় বঙ্গভবনে বৈঠককে সামনে রেখে বিএনপির অন্য ১০ সদস্যেকে নিয়ে বঙ্গভবনে প্রবেশ করে খালেদা জিয়া। বঙ্গভবনে বিএনপি প্রতিনিধি দলকে সিঙ্গারা, চমুচা, বিস্কিট, বিভিন্ন ধরনের ফল, মিস্টি ও চা-কফি দিয়ে আপ্যায়ণ করা হয়। বৈঠকের শুরুতেই রাষ্ট্রপতি সবার সাথে কুশল বিনিময় করেন। সবার সার্বিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধিদলের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মো. সরোয়ার হোসেন এবং রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, ২০১২ সালেও বর্তমান নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব নেয়ার আগেও রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। সেই আলোচনাতেও বিএনপি অংশ নিয়েছিল। 

খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে রাষ্ট্রপতির সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এই তালিকায় মির্জা আব্বাস ও তরিকুল ইসলামের নাম থাকলেও তারা বঙ্গভবন যাননি। তবে মির্জা আব্বাস দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। 

বিএনপির প্রস্তাব সহায়ক হবে : রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভূমিকাই মুখ্য। একটি শক্তিশালী ইসি ও সার্চ কমিটি গঠনের ব্যাপারে বিএনপি যেসব প্রস্তাব পেশ করেছে সেগুলো সহায়ক হবে। গতকাল বঙ্গভবনে ইসি ও সার্চ কমিটি গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার অংশ হিসেবে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

বিএনপিকে রাষ্ট্রপতি বলেন, আপনাদের মতামত পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠনে ইতিবাচক অবদান রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি। যে কোন বিষয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় সমাধানের বহুমুখী পথের সন্ধান দেয়। এ সময় রাষ্ট্রপতিকে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচন কমিশন গঠনে আলোচনায় তার দলকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি জানান, বিএনপির পক্ষ থেকে দলটির চেয়ারপার্সন নির্বাচন কমিশন ও সার্চ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে লিখিত প্রস্তাব তুলে ধরেন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও নির্বাচন কমিশন শক্তিশালীকরণে তাদের প্রস্তাব তুলে ধরেন।

প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন বলেন, বিএনপি রাষ্ট্রপতির উদ্যোগের সফলতা কামনা করে ও তাদের সার্বিক সহযোগিতা থাকবে বলে জানান। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের অতিরিক্ত সচিব ওয়াহিদুল ইসলাম খান।

রাষ্ট্রপতির বক্তব্য প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে প্রস্তাব দেয়ায় রাষ্ট্রপতি খালেদা জিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশনেত্রী যে অত্যন্ত গঠনমূলকভাবে সুন্দর করে প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন, এটা ভবিষ্যতে নির্বাচন কমিশন গঠন এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি (রাষ্ট্রপতি) মনে করেন। একই সঙ্গে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন যে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আলোচনা ও সংলাপের কোনো বিকল্প নেই। সমস্যার সমাধানগুলো আলোচনার মাধ্যমেই হতে হবে বলে তিনি মনে করেন। 

বিএনপি নেতা জানান, রাষ্ট্রপতি তাদেরকে আরও বলেছেন তাদের দেয়া পদ্ধতিগত বিষয়গুলো তিনি পরীক্ষা করবেন। তিনি বলেন, তিনি (রাষ্ট্রপতি) এ কথাও বলেছেন যে, যেহেতু আমাকে একমাত্র আপনারাই এই বিষয়ে উদ্যোগ নেয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন, সে জন্য আমিও প্রথম আপনাদের ডেকেছি এবং আপনাদের মতামতকেই প্রাথমিকভাবে বিবেচনা করার জন্য আমি নিয়েছি।

প্রস্তাবনার সারসংক্ষেপ ও রাষ্ট্রপতির সাথে খালেদা জিয়া তার দলের পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। প্রস্তাবনার শুরুতে খালেদা জিয়া মহান বিজয়ের এ মাসে দেশের জন্য যারা অকাতরে প্রাণ দিয়েছেন তাদের প্রতি সালাম ও অকৃত্রিম শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, তারা আত্মাহুতি দিয়েছিলেন স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, সাম্য ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য। গত ১৮ নবেম্বর ২০১৬ আমি এই সব লক্ষ্য পূরণ এবং জনগণের ন্যায্য ও সাংবিধানিক আকাক্সক্ষা পূরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশন গঠন এবং শক্তিশালীকরণ সম্পর্কে দলের প্রস্তাবাবলী উত্থাপন করেছিলাম। এ প্রস্তাবাবলীর একটি পূর্ণ ভাষ্য বিবেচনার জন্য আমাদের দলের পক্ষ হতে আপনার সমীপে গত ০৬ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে আপনি দেশের সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে আলোচনার জন্য ডাকার যে উদ্যোগ নিয়েছেন তার জন্য আপনাকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাচ্ছি।

আপনার সভাপতিত্বে নির্বাচন কমিশন গঠন এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার জন্য বিএনপি’র প্রতিনিধি দল বঙ্গবভনে উপস্থিত হয়েছে। আলোচ্য বিষয়টি আমাদের রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুর্ভাগ্যক্রমে বাংলাদেশে বিশেষ করে গত ২টি জাতীয় নির্বাচনে এবং গত কয়েক বছর অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা দেশে-বিদেশে আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পর্কে জনগণকে হতাশ, আস্থাহীন ও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।

খালেদা জিয়া বলেন, বৃহত্তর জাতীয় ও গণতন্ত্রের স্বার্থে এহেন পরিস্থিতি আর চলতে পারে না। জনগণ চায় অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এমন একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন যেখানে তারা নির্বিঘেœ ভোটের মাধ্যমে তাদের সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারে। আশা করি, আমরা যদি সকল “রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে” নির্বাচন কমিশন গঠন করতে পারি, তা জাতির সামনে এগিয়ে চলার জন্য একটি সঠিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। এই লক্ষ্যে আপনার ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বর্তমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আগামী দিনে ব্যাপক জাতীয় ভিত্তিক আলাপ আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী ব্যবস্থা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। আমি আশা করি আপনি আমাদের প্রস্তাবগুলো ইতোমধ্যে পড়ে দেখেছেন। আমাদের প্রস্তাবে একটি স্বাধীন নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া এবং কমিশনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিস্তারিত সুপারিশের উল্লেখ রয়েছে। 

আমাদের মূল প্রস্তাবাবলীর ৩টি প্রধান অংশ। বাছাই কমিটি গঠন, নির্বাচন কমিশন গঠন ও চজঙ এর সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশন শক্তিশালীকরণ। বাছাই কমিটি গঠনে রাষ্ট্রপতি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলসমূহের ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি বাছাই কমিটি গঠন করবেন। রাষ্ট্রপতি সর্বজনশ্রদ্ধেয় সৎ, নিরপেক্ষ, অভিজ্ঞ, প্রাজ্ঞ এবং নৈতিকতা ও ব্যক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে ৫ (পাঁচ) সদস্যবিশিষ্ট একটি বাছাই কমিটি গঠন করবেন। বাংলাদেশের অবসরপ্রাপ্ত এবং কর্মক্ষম একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি (জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে) যিনি বিতর্কিত নন এবং অবসর গ্রহণের পর সরকারের কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত নহেন বা ছিলেন না এমন একজন ব্যক্তি বাছাই কমিটির আহ্বায়ক হবেন।

বাছাই কমিটির সদস্য কারা হতে পারেন, সে বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, আপীল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারপতি যিনি বিতর্কিত নন এবং অবসর গ্রহণের পর সরকারের কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত নহেন বা ছিলেন না। তবে অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রী পরিষদ সচিব এবং বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন কোন কর্মকর্তা বাছাই কমিটির সদস্য হতে পারবেন না। অবসরপ্রাপ্ত সৎ এবং দলনিরপেক্ষ একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, যিনি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হিসেবে সুখ্যাত এবং যিনি অবসর গ্রহণের পর সরকারের কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত নহেন বা ছিলেন না; অথবা দল নিরপেক্ষ সর্বজন শ্রদ্ধেয় একজন বিশিষ্ট নাগরিক। সর্বজনশ্রদ্ধেয় দল নিরপেক্ষ একজন সৎ, দক্ষ ও যোগ্য জ্যেষ্ঠ নারী।

নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাবনায় খালেদা জিয়া বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এর যোগ্যতা হবে সর্বজন শ্রদ্ধেয় সৎ, মেধাবী, দক্ষ, সাহসী, প্রাজ্ঞ এবং নৈতিকতা, ব্যক্তিত্ব ও কর্ম অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এবং সকল বিচারে দল-নিরপেক্ষ এবং বিতর্কিত নন এমন একজন ব্যক্তি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হবেন। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে অধিষ্টিত ছিলেন এমন একজন ব্যক্তি, অথবা বাংলাদেশ সরকারের একজন সচিব যিনি অবসর গ্রহণের পর সরকারের কোন লাভজনক পদে নিয়োজিত নহেন বা ছিলেন না, অথবা একজন বিশিষ্ট নাগরিক-প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হতে পারবেন। তবে অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রীপরিষদ সচিব এবং বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন কোন কর্মকর্তা প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে পদায়নের যোগ্য হবেন না; এবং বাংলাদেশ সরকারের সচিব যিনি অবসরগ্রহণের বা পদত্যাগের বা অপসারণের পর, কিংবা চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ সমাপ্তি বা চুক্তি বাতিলের পর তিন বছর সময়কাল অতিবাহিত করেননি, তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে পদায়নের যোগ্য হবেন না।

নির্বাচন কমিশনার এর যোগ্যতা বিষয়ে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন নারীসহ সর্বজন শ্রদ্ধেয়, সৎ, মেধাবী, দক্ষ, প্রাজ্ঞ, সাহসী, নৈতিকতা, ব্যক্তিত্ব ও কর্ম অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ও সকল বিচারে দলনিরপেক্ষ এবং বিতর্কিত নহেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে হতে চারজন নির্বাচন কমিশনার নিযুক্ত হতে পারবেন। ন্যূনপক্ষে জেলা জজের মর্যাদা সম্পন্ন অবসরপ্রাপ্ত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, ন্যূনপক্ষে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদমর্যাদা সম্পন্ন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, ন্যূনপক্ষে যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা, সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন শিক্ষাবিদ এবং সর্বজন শ্রদ্ধেয় বিশিষ্ট নাগরিকদের মধ্য হতে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন।

তবে যিনি প্রজাতন্ত্রের বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের, বা প্রতিরক্ষা কর্ম বিভাগের কোন চাকরি থেকে অবসর গ্রহন বা পদত্যাগের বা অপসারণের পর কিংবা চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ সমাপ্তি বা চুক্তি বাতিলের পর, তিন বছর সময়কাল অতিবাহিত করেননি তিনি নির্বাচন কমিশনার পদে পদায়নের যোগ্য হবেন না।

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের এক রিকট মামলায় (৩৮১৮/২০০৫) প্রদত্ত রায়ের আলোকে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কিংবা আপীল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের প্রধান নির্বঅচন কমিশনার এবং কমিশনার হিসাবে নিয়োগের সুযোগ নেই বিধায়, আমাদের প্রস্তাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কিংবা আপীল বিভাগের, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নাম প্রস্তাব করা হয়নি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসমূহ হতে প্রাপ্ত ব্যক্তিদের নাম রাষ্ট্রপতি বাছাই কমিটির নিকট প্রেরণ করবেন। বাছাই কমিটি এই সকল নাম হতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জন্য ২(দুই) জন এবং নির্বাচন কমিশনারের জন্য ৮(আট) জন এইভাবে মোট ১০(দশ) জনের নাম বাছাই করবে। এই প্রক্রিয়ায় বাছাই কমিটি প্রথম প্রস্তাবিত ব্যক্তিদের বিষয়ে বিচার বিশ্লেষণ করবে এবং তাদের মধ্যে যেসব ব্যক্তির নাম সব রাজনৈতিক দলের প্রস্তাবনায় অভিন্ন (ঈড়সসড়হ) রয়েছে তাদের নাম রাষ্ট্রপতির নিকট প্রেরণের জন্য চূড়ান্ত করবে।

এইভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জন্য ২(দুই) জন এবং নির্বাচন কমিশনারের জন্য ৮(আট) জন অভিন্ন পাওয়া না গেলে বাছাই কমিটি ঐকমত্যে পৌঁছার স্বার্থে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলসমূহ থেকে নতুন প্রস্তাব গ্রহণ করবে। একইভাবে বাছাই কমিটি রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনাক্রমে ঐকমত্যের ভিত্তিতে বাকি নাম কিংবা নামসমূহ নির্ধারণ করবে এবং রাষ্ট্রপতির বিবেচনার জন্য প্রেরণ করবে। 

খালেদা জিয়া বলেন, রাষ্ট্রপতি বাছাই কমিটি কর্তৃক প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জন্য বাছাইকৃত ২ (দুই) জনের মধ্যে হতে ১(এক) জনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং বাছাই কমিটি কর্তৃক নির্বাচন কমিশনারের জন্য বাছাইকৃত ৮(আট) জনের মধ্য হতে ৪(চার) জনকে নির্বাচন কমিশনার পদে চূড়ান্ত করবেন। রাষ্ট্রপতি চূড়ান্তকৃত এইসকল ব্যক্তিদের সম্মতি গ্রহণ এবং তাঁদের জীবন বৃত্তান্ত ও সম্পদের বিবরণী জনসমক্ষে প্রকাশ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং তাদের নিয়োগ প্রদান করবেন।

রাষ্ট্রপতি কর্তৃক চূড়ান্তকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে কেহ সম্মত না হলে, কিংবা অন্য কোন অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হলে, বাছাই কমিটি কর্তৃক মনোনীত অবশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্য হতে রাষ্ট্রপতি একই প্রক্রিয়া ও পদ্ধতিতে চূড়ান্ত নিয়োগ প্রদান করবেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জন্য বাছাইকৃত ২(দুই) জনই অসম্মতি প্রকাশ করলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার মনোনয়নের জন্য একই প্রক্রিয়া ও পদ্ধতিতে নতুন করে বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। একইভাবে কমিশনার পদে মনোনীত ব্যক্তিদের মধ্যে অসম্মত ব্যক্তির সংখ্যা যদি এমন হয় যে, কমিশনার পদে বিবেচনার জন্য বাছাই কমিটি কর্তৃক মনোনীত আর কোন ব্যক্তি অবশিষ্ট নেই, তাহলে কমিশনার পদে মনোনয়নের জন্য একই প্রক্রিয়া ও পদ্ধতিতে নতুন করে বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করবেন।

আরপিও এর সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশন শক্তিশালীকরণ প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, নির্বাচন কমিশনকে অধিকতর শক্তিশালীকরণ এবং আরপিওসহ অন্যান্য নির্বাচনী বিধি-বিধান সময় উপযোগী ও যৌক্তিকিকরনের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। এ লক্ষ্যে করণীয় আমাদের মূল প্রস্তাবাবলীতে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে, যা ইতোমধ্যে আপনার সমীপে প্রেরণ করা হয়েছে। আশা করি আপনি তা পড়েছেন। এ প্রস্তাবে আরপিও এর কিছু বিধি-বিধানের সংশোধনী, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা বিধান, প্রকাশ্য রাজনৈতিক মতাবলম্বী কমিশন কর্মকর্তা এবং নির্বাচনের দায়িত্বে প্রেষণে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের চিহ্নিতকরণ, প্রত্যাহার ও নির্বাচনের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা, নির্বাচনের সময় মাঠপর্যায়ের কর্মরত জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ইউএনও ও থানার ওসিদের প্রত্যাহার এবং ঐ সকল স্থানে নিরপেক্ষ নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ নির্বাচনের সকল নির্বঅচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন নির্বাচন কমিশনের নিকট ন্যস্ত রাখা, নির্বাচনের সময় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহকে নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে বাধ্যবাধকতার সৃষ্টি, নির্বাচনের সময় ভোট গ্রহণের সাত দিন পূর্ব হতে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট নোটিফিকেশন হওয়া পর্যন্ত ম্যজিস্ট্রেরিয়াল ক্ষমতাসহ প্রতিরক্ষা বাহিনী নিয়োগ, নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনঃবিন্যাস, প্রবাসী বাংলাদেশীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তকরণ কারান্তরীণ যোগ্য ব্যক্তিদের ভোটার করা নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধি রাজনৈতিক দলের কর্মী ও পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাকরণ, ভোটার প্রশিক্ষণ নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তাদের ম্যাজিস্টেরিয়াল ক্ষমতা প্রদান, নির্বাচনী আইন ভঙ্গের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ, স্থানীয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নিয়োগের ক্ষেত্রে করণীয় ইত্যাদি বিষয় উল্লেখ রয়েছে। আপনার সময় অপচয় পরিহার কল্পে আমি এখানে ঐ সবের বিস্তারিত উল্লেখ থেকে বিরত থাকলাম।

খালেদা জিয়া বলেন বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণমূলক, গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনই যথেষ্ট নয়। নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক প্রশাসনিক ও লজিস্টিক সহযোগিতা প্রদান এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমর্থন ও সহযোগিতা ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান ও নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা অসম্ভব। একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার ব্যতিরেকে এ সকল সহযোগিতা নিশ্চিত করা এবং সুষ্ঠু অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশন যাতে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পারে সেই উদ্দেশ্যেই একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের প্রয়োজন। আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা ভবিষ্যতে যথাসময়ে জাতির সমীপে উপস্থাপন করব।

খালেদা জিয়া গভীর ধৈর্যসহকারে বক্তব্য শোনার জন্য তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমরা মনে করি আমাদের প্রস্তাবগুলো যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। আশা করি ভবিষ্যতে এ বিষয়ে অধিকতর আলোচনার জন্য আপনি আমাদেরকে আবারও আমন্ত্রণ জানাবেন। আমরা পরম করুণাময় আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করব জাতির অভিভাবক হিসেবে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে আপনি যে উদ্যোগ নিয়েছেন সে উদ্যোগ সফল হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ