ঢাকা, সোমবার 19 December 2016 ৫ পৌষ ১৪২৩, ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ট্রানজিট সুবিধা নিতে ফেনী নদীতে মৈত্রী সেতু নির্মাণ করছে ভারত

সংগ্রাম ডেস্ক : বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ‘রামগড়-ত্রিপুরা’ সীমান্তের ফেনী নদীতে নিজস্ব অর্থায়নে মৈত্রী সেতু নির্মাণ করছে ভারত। ইতোমধ্যেই এ মৈত্রী সেতু নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। ভারতের অর্থায়নে ৩২২ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণ কাজ শিগগিরই সম্পন্ন করা হবে। এ সেতুর জন্য ইতোমধ্যেই ১২৫ কোটি ভারতীয় রুপি বরাদ্দ দিয়েছে নয়াদিল্লী। আমাদের সময়.কম।

এই মৈত্রী সেতু নির্মিত হলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে পণ্য দ্রব্য ও ভারী যন্ত্রপাতি সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে আনা-নেয়া এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে। এতে ভারত ও বাংলাদেশ দুই দেশই লাভবান হবে। তবে এ সেতুটিতে ভারত বেশি লাভবান হবে। মূলত চট্টগ্রাম বন্দরের ট্রানজিট সুবিধা নিতে প্রতিবেশী দেশ এ সেতু নির্মাণে আগ্রহী।

রামগড় স্থলবন্দর চালুর লক্ষ্যে ২০১৫ সালের ৬ জুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ফেনী নদীর উপর এ সেতুর ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন। ওইদিন ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর বোতাম টিপে এটিসহ মোট সাতটি প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের রামগড় ও ফটিকছড়ি সংলগ্ন ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা ত্রিপুরা রাজ্যের সাব্রুম মহকুমা। সাব্রুমের আনন্দ পাড়া থেকে রামগড় মহামুনি (রামগড় থানার পশ্চিম পার্শে) ৪১২ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৪.৮ মিটার প্রস্ত এই মৈত্রী উড়াল সেতু নির্মিত হবে। তবে ফেনী নদীর উপর মূল সেতু হবে ১৫০ মিটার।

এই সেতুর জন্য বাংলাদেশের রামগড় ও ফটিকছড়ির সোনাইকুল হয়ে হেঁয়াকো-চট্টগ্রাম সড়কের অবকাঠামো এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সাব্রুম নবীন পাড়া-ঠাকুর পল্লী রাস্তা হয়ে সাব্রুম ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন জাতীয় মহাসড়ক পর্যন্ত অবকাঠামো উন্নয়ন হবে।

দুই পাড়ের মানুষ বাংলাভাষী। তাদের শিক্ষা, সংস্কৃতিও বাংলায়। দু’পাড়ে পরিবেশগত মিলও রয়েছে ব্যাপক। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় শরণার্থীরা রামগড় সীমান্ত দিয়ে ত্রিপুরায় আশ্রয় নিয়েছিল। মুক্তিবাহিনী সেখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে যুদ্ধ করেছে। বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরা রাজ্যে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে এবং এখনো বাংলাদেশে তাদের ভিটে মাটি আছে এমন মানুষের সংখ্যাও কম নয়। আইনি জটিলতার কারণে তারা এপাড়-ওপাড় হতে পারে না।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বারুনী স্নানের দিন প্রতি বছর ফেনী নদীতে পুলিশ, বিজিবি, বিএসএফ এর সকল বাধা অতিক্রম করে দুই পাড়ের লাখো বাংলা ভাষাভাষী মানুষ এক মহামিলন মেলায় মিলিত হয়। দুই পাড়ে বসে বিশাল মেলা।

খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেহ্ উদ্দিন জানান, গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ও ভারতের জরিপ প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মোসলেহ উদ্দিন বাংলাদেশের পাঁচ সদস্যের জরিপ দলের নেতৃত্ব দেন। আর ভারতের সাত সদস্যের জরিপ দলের নেতৃত্বে ছিলেন ন্যাশনাল হাইওয়েজ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (এনএইচআইডিসিএল) প্রকল্পের ডিজিএম পিকে বুনিয়া।

মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১৯ সালে নির্মাণ কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ভারতের অর্থায়নে ৩২২ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হবে।

মাঠের কাজ শেষ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ভারত সরকার শিগগিরই মৈত্রী সেতু নির্মাণে দরপত্র আহবান করে ঠিকাদার নিয়োগ দেবে।

পিকে বুনিয়া বলেন, “বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু-১ এর নির্মাণ সংক্রান্ত যাবতীয় প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের কাজ শুরুর মধ্যে দিয়ে আমরা দুই দেশের সার্ভে দল অগ্রসর হচ্ছি।”

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জানুয়ারি থেকে সেতুর কাজ শুরু করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ