ঢাকা, সোমবার 19 December 2016 ৫ পৌষ ১৪২৩, ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মানুষের সৃষ্ট কারণে প্রধানমন্ত্রীর বিমানে ত্রুটি

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হঠাৎ অবতরণে বাধ্য হওয়ার ঘটনায় ৩টি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এটিকে মনুষ্যসৃষ্ট সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। 

গতকাল রোববার সচিবালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মানুষের সৃষ্ট কারণে বিমানটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়ায় এই ঘটনা তদন্তে গঠিত তিনটি কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পাওয়া দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

রাশেদ খান মেনন বলেন, ওই তিনটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে প্রমাণিত হয়েছে বিমানটির অয়েল প্রেসারে সমস্যা ছিল এবং এর নাট-বল্টু ঢিলে অবস্থায় ছিল। এ সমস্যাকে মনুষ্যসৃষ্ট উল্লেখ করে বিষয়টি নাশকতা ছিল কিনা তা তদন্তে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেয়া হবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, এ ঘটনায় কর্মকর্তাদের গাফিলতি ছিল। তবে নাশকতার উদ্দেশ্যে গাফিলতি ছিল কিনা তা তদন্তের জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। 

মন্ত্রী বলেন, তিনটি রিপোর্টে সমভাবে বলা হয়েছে যে, এখানে হিউম্যান ফ্যাক্টর ইজ ইমপরট্যান্ট। তবে এই হিউম্যান ফ্যাক্টরটা কী ইনটেনশনাল না কি আনইনটেনশনাল? স্বাভাবিকভাবেই এই তদন্ত কমিটিগুলোর পক্ষে সেটা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু আমাদের মন্ত্রণালয়ের যে তদন্ত কমিটি তারা ইতিমধ্যেই যে সাজেস্ট করেছেন, আমরা যেটা বিবেচনায় নিয়েছি সেটি হলো এখন যে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে এটা কোনো নাশকতামূলক কাজ কিনা অথবা এটা অবহেলাজনিত আনপ্রফেশনাল কোনো কাজ কিনা সেটা নির্ধারণ করতে হবে।

গত মাসে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে বিশ্ব পানি সম্মেলনে যোগ দিতে যাওয়ার সময় তুর্কমেনিস্তানের আশখাবাদে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জরুরি অবতরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট। এই ঘটনা তদন্তে বাংলাদেশ বিমান, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গত ৩০ নভেম্বর বিমানের পক্ষ থেকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। তার ভিত্তিতে দুই দফায় নয়জন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল বিমান কর্তৃপক্ষ। গতকাল বাকি দুই কমিটিও তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় মন্ত্রীর কাছে, যার সারমর্ম সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন তিনি।

এবারের প্রতিবেদন দুটিতে কতজনকে দায়ী করা হয়েছে তা স্পষ্ট করে বলেননি বিমানমন্ত্রী। তবে দু-তিন দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সব প্রতিবেদন হস্তান্তর করে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, এটার মধ্যে সুপারিশ রয়েছে এবং অভিমত রয়েছে। নিরাপত্তাজনিত সাতটি সুপারিশ রয়েছে, ভিভিআইপি ফ্লাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য চারটি সুপারিশ রয়েছে, বেবিচকের (বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ) জন্য তিনটি সুপারিশ রয়েছে আর বিমানের জন্য ১০টি সুপারিশ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, তিনটি কমিটি একই ধরনের প্রতিবেদন দিয়েছে। প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, এ দুর্ঘটনা মনুষ্যসৃষ্ট ছিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ