ঢাকা, সোমবার 19 December 2016 ৫ পৌষ ১৪২৩, ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জমি জটিলতায় খুলনায় কৃষি কলেজ স্থাপনে অনিশ্চয়তা

খুলনা অফিস : জমি জটিলতায় আটকে গেছে কৃষি কলেজ স্থাপন প্রকল্প। কলেজটি স্থাপনে জমি অধিগ্রহণ কাজ শেষ হলেও পূর্ব নির্ধারিত জায়গায় কলেজটি স্থাপনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। প্রকৃত তথ্য আড়াল করার কারণে প্রকল্পটি একনেক থেকে ফিরে এসেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে কলেজটি স্থাপনে সময়ক্ষেপণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালের ২৩ এপ্রিল কয়রার এক জনসভায় পাইকগাছা উপজেলায় একটি কৃষি কলেজ স্থাপনের ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কৃষি কলেজ স্থাপনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে উপজেলার পাইকগাছা-কয়রা সড়ক-সংলগ্ন শীবসা ব্রীজের নিচে চকবগুড়া মৌজায় ২৫ একর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ছাড় দেয়া হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে। ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের অর্থ পরিশোধও শেষ। কলেজটির অবকাঠামো স্থাপনে সার্বিক প্রক্রিয়াও শেষের পথে। কলেজের অবকাঠামো নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সম্প্রতি প্লানিং কমিশন থেকে খুলনায় আসে একটি প্রতিনিধি দল। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প পরিচালক আবুল হাশেম সরদার ও প্লানিং কমিশনের সদস্য আব্দুল মান্নানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। পরিদর্শন শেষে কলেজ স্থাপনে প্রয়োজনীয় ১০১ কোটি টাকা বরাদ্দের জন্য বিষয়টি একনেকে উত্থাপন করেন।   সেখানে উল্লেখ করা হয়, একটি জলাধার ভরাট করে কৃষি কলেজটি প্রতিষ্ঠা করা হবে। জলাধার ভরাট করে কৃষি কলেজ নির্মাণের বিষয়টি সামনে আসলে তিনি সেটা নাকচ করে দেন এবং কলেজটির জন্য অন্যত্র জায়গা নির্ধারণ করে তবেই সেটা উত্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।  ফলে কৃষি কলেজ স্থাপনের প্রক্রিয়া আবারও পিছিয়ে গেছে। এখন নতুন করে আবার জমি অধিগ্রহণ করে তবেই কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে। 

তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে কোন জলাধার নেই। লবণ পানি উত্তোলন করে সেখানে ঘের করা হয়। এসব লবণ পানির ঘেরের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় ধানও হয় না। সংশ্লিষ্ট স্থানে কলেজটি নির্মাণ হলে বরং লবণ পানির ঘেরের প্রভাব কমবে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।  জানা গেছে, কলেজটি শিবসা ব্রিজ এলাকা থেকে বোয়ালিয়া এলাকায় সরিয়ে নেয়ার জন্য একটি পক্ষ জোর তদবির শুরু করে।  প্রস্তাবিত স্থানে জলাধারের বিষয়ে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদুল মোস্তাক বলেন, যে স্থানে কৃষি কলেজ স্থাপন করা হবে সেখানে বর্তমানে লবণ পানির ঘের রয়েছে। এসব ঘের ভরাট করে তবেই কলেজটি স্থাপন করতে হবে।  স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা স ম বাবর আলী বলেন, কৃষি কলেজটি এ অঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন। জায়গা নির্বাচন নিয়ে রাজনীতি শুরু হয়েছে। যেখানে চারিদিকে বাঁধ দিয়ে ঘের করা হয় সেখানে ৮ফিট পানি দেখিয়ে পরোক্ষভাবে প্রকল্পটি বাতিল করার চক্রান্ত করা হয়েছে। মুলত কলেজটি ওই স্থান থেকে সরিয়ে নেয়ার চক্রান্ত চলছে।  সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট সোহরাব আলী সানা বলেন, আমি সংসদ সদস্যের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী কলেজটি স্থাপনের ঘোষণা দেন। তবে বর্তমান এমপি ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ডিও লেটার দিয়ে কলেজটি অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার জন্য জোর তদবির শুরু করেন এরই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি প্লানিং কমিশন থেকে পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট স্থানে ৮ফিট পানির জলাধার রয়েছে বলে উত্থাপন করা হয়েছে। মুলতঃ কলেজটি স্থাপনে এতদুর আসার পর এটা বানচালেরই ষড়যন্ত্র।  এ ব্যাপারে বর্তমান সংসদ সদস্য নুরুল হক বলেন, বেয়ালিয়া এলাকায় একটি কৃষি ফার্ম রয়েছে। সেখানে প্রায় একশ’ বিঘার মত জমি পড়ে আছে। সেখানে কৃষি কলেজটি হলে আর নতুন করে জমি অধিগ্রহণ করার প্রয়োজন হতো না। সে লক্ষ্যে আমি ডিও লেটার দিয়েছিলাম। তবে ২০১৪ সালের পর আমি আর এ বিষয় নিয়ে সামনে আগাইনি। পরে প্রধানমন্ত্রী একনেক থেকে সেটা ফিরিয়ে দিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ