ঢাকা, সোমবার 19 December 2016 ৫ পৌষ ১৪২৩, ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিল্লালের উদ্ভাবিত ধান মাড়াইয়ের মেশিনে সাড়া বাড়ির উঠানেই চলছে ধান মাড়াইয়ের কাজ

নিছার উদ্দীন খান আযম, মণিরামপুর (যশোর) সংবাদদাতা ঃ  একদিকে সময়ের অপচয় হচ্ছে কম-অপরদিকে সাশ্রয় হচ্ছে অর্থের। আগের দিন খবর দিলেই বাড়ির আঙ্গিনায় এসে হাজির বিল্লাল হোসেনের উদ্ভাবিত ধান মাড়াইয়ের মেশিন। বাড়ির উঠানেই কৃষক-কৃষানী নিজেদের মত করে ধান মাড়াইয়ের পর চাল ঘরে তুলছে। এভাবে গৃহস্থের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মেশিন দিয়ে ধান মাড়াই করে দেন বিল্লাল। লক্কড়-ঝক্কড় ট্রাক্টরে বিশেষ কায়দায় ধান মাড়াইয়ের ইঞ্জিন বানিয়ে সাড়া ফেলে দিয়েছেন বিল্লাল হোসেন। যশোরের মনিরামপুর উপজেলার প্রত্যন্ত তাজপুর গ্রামের চাঁদ আলী মেকানিকের ছেলে এসএসসি পাশ করে ২০০৭ সালে ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। সেখানে থাকা অবস্থায় বিল্লালের পিতা মারা যান। বিদেশে সুবিধা করতে না পেরে ফিরে আসেন বাড়িতে। হতাশায় পড়েন কি করে সংসার চালাবেন। দেশে থাকতে বাবার গ্যারেজে কাজ করার সুবাদে পেট্রোল ও ডিজেল চালিত গাড়ির ইঞ্জিনের কাজ একটু-আধটু জানা ছিল তার। নেমে পড়েন গ্যারেজে ইঞ্জিনের কাজে। তখন থেকেই সহজ উপায়ে ধান মাড়াইয়ের কাজ নিয়ে ভাবনা পেয়ে বসে তাকে। কয়েক মাস চেষ্টা চালিয়ে গত বছর সফল হন বিল্লাল। 

সরেজমিন তাজপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় বিল্লালের নিজস্ব প্রযুক্তিতে উদ্ভাবিত ধান মাড়াইয়ের মেশিনে কাজ চলছে। এসময় কথা হয় তার সাথে। তিনি জানান, কয়েকমাস ঘুরে ঘুরে যশোরের লোহা পট্টি থেকে গাড়ির পুরাতন যন্ত্রাংশ কিনে এই মেশিন বানিয়েছেন। তার মেশিনে ধান মৌসুমে প্রতিদিনি প্রায় ৩’শ মন ধান মাড়াই হয়। প্রতি মন ধান মাড়াইয়ের বিনিময়ে তিনি গৃহস্থের কাজ থেকে ৩৫ টাকা নিয়ে থাকেন। তার কাজে সহযোগিতার জন্য সার্বক্ষণিক  ২ জন লোক রয়েছে। প্রথম দিকে এই কাজ করতে গিয়ে তাকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। রাইচ মিল মালিকদের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট বিভাগের লোকজন তাকে হয়রানি করত। যে কারণে পরে তিনি অনুমোদন নিয়েছেন। 

বিল্লালের ভ্রাম্যমাণ ধান মাড়াইয়ের মেশিনে তাজপুর, গোয়ালবাড়ি, ডুমুরখালি, দশআনি, মুক্তারপুরসহ কয়েক গ্রামের মানুষ খুবই উপকৃত হচ্ছে। ডুমুরখালি গ্রামের কৃষক আবু বক্কর বলেন, মন প্রতি ধান মাড়াই করতে পরিবহন ও রাইচ মিলে খরচ হতো ৫০ টাকা। তরিকুল ইসলাম বলেন, রাইচ মিলে গেলে বিদ্যুৎ চলে গেলে বসে থাকতে হয়। এর ফলে অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি সময়ের অপচয় হচ্ছে কম। 

গৃহবধূ বিলকিস খাতুন বলেন, রাইচ মিলে ধান মাড়াইয়ের পর বাড়িতে আনার পর আবার ঝাড়তে হয়। কিন্তু এই মেশিনে উৎপাদিত চালে কিছুই থাকে না।

বিল্লাল জানান, সরকারি-বেসরকারি পৃষ্টপোষকতা পেলে সহজভাবে অটোমেশিন, বিনা জ্বালানিতে ধান মাড়াইয়ের মেশিনসহ কৃষি উপযোগী যন্ত্র আবিস্কারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ