ঢাকা, সোমবার 19 December 2016 ৫ পৌষ ১৪২৩, ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শীতের সঙ্গে ভিড় বেড়েছে খুলনার পুরনো পোশাকের দোকানে

খুলনা অফিস : প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা শুরু হয়েছিল বেশ আগে। সে অনুযায়ী প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু লঘুচাপসহ নানা কারণে তাপমাত্রা বেশি থাকায় তাদের ব্যবসায় মন্দা যাচ্ছিল। গত ২৮ অগ্রহায়ণ থেকে হাসি ফিরেছে শীতের পোশাক বিক্রেতাদের মুখে। কারণ গত দুই দিন ধরে রাতের তাপমাত্রা নিচের দিকে নামছে। ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গে হু হু করে বেড়ে গেছে শীতের পোশাকের কদর। গত দুই দিন ধরে নগরীর রেলওয়ে মার্কেট, নিক্সন মার্কেট ও জব্বার মার্কেটে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ক্রেতাদের ভিড় ও বিক্রি জমে ওঠায় হাসি ফুটেছে ব্যবসায়ীদের মুখে।

আবহাওয়া অফিস থেকে জানা গেছে, ১ পৌষ থেকে সারাদেশে শীত জেঁকে বসেছে। উত্তরাঞ্চলে শুরু হওয়া শৈত্যপ্রবাহ দক্ষিণেও প্রবাহিত হচ্ছে। উত্তরে কুয়াশা আর শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত প্রায়। তবে উত্তরের চেয়ে এখন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শীতের ধকল বেশি। গত বুধবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় চুয়াডাঙ্গায় ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যশোরেও তাপমাত্রা  নেমে ১০ডিগ্রিতে চলে এসেছে। গতকাল খুলনাতেও শীতের মাত্রা বেশি ছিলো। তবে সূর্যের আলো থাকায় নাকাল করতে পারেনি। 

আবহাওয়া বিভাগ জানায়, শৈত্যপ্রবাহ আগামী সপ্তাহে জোরদার বইতে পারে। কুয়াশার প্রভাবও বাড়তে পারে। তাপমাত্রার এ অবস্থা কয়েকদিন চলতে পারে।  সরেজমিন নগরীর রেলওয়ে মার্কেটে গিয়ে দেখা গেছে, ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। পুরাতন শীতের পোশাকের জন্য আলোচিত জব্বার মার্কেটে হাঁটার উপায় নেই। প্রায় প্রতিটি দোকানে ভিড়। কাপড়ের বস্তা থেকে নতুন কাপড় বের করার সঙ্গে সঙ্গেই ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। ডাকবাংলো মোড়, সোনালী ব্যাংক চত্বর ও ফেরীঘাট মোড়ের ফুটপাতের দোকানেও ভিড় দেখা গেছে।

বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, বিলাসবহুল মার্কেট থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকানগুলোতে এখন শীতবস্ত্রের আধিক্য। এ মওসুমকে ঘিরে চাহিদানুযায়ী সরবরাহে কয়েক মাস আগে থেকেই ব্যবসায়ীরা পোশাক মজুদ করেছেন। বিশেষ করে ফুটপাতগুলোতে বিক্রেতাদের হাঁক-ডাক আর ক্রেতাদের ভিড়ে জম্পেশ পরিবেশ তৈরি হয়েছে।  দেইখ্যা লন, বাইছ্যা লন, ‘একদাম’, ‘এক রেট’, একশ, ‘দেড়শ’ টাকা। 

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কানটুপি, মাফলার, হাত-পায়ের মোজা, গায়ের  সোয়েটার, জ্যাকেট ইত্যাদি পোশাকে সয়লাব হয়ে গেছে দোকানগুলো। ফুটপাতের দোকানগুলোতে শীতবস্ত্রের পাশাপাশি কম্বলও বিক্রি হচ্ছে। অনেক  দোকানে পোশাক সরিয়ে শুধু কম্বল সাজানো হয়েছে। সস্তায় শীতের পোশাক কিনতে ফুটপাতের দোকানে নিম্ন থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের ভিড় বেশি। এমনকি অনেক ধনী ব্যক্তিরাও এখান থেকে পোশাক কিনছেন। শীত আসার আগে মোটামুটি কম দামে ভালো পণ্য কেনার আশায় নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির  লোকজন এসব  দোকানে আসছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ