ঢাকা, সোমবার 19 December 2016 ৫ পৌষ ১৪২৩, ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরে আরও এক বছর সময় চায় মালিকরা

এইচ এম আকতার : দফায় দফায় আল্টিমেটামের মধ্য দিয়েই শেষ হলো ১৩ বছর। দীর্ঘ এই সময়েও স্থনান্তরিত শেষ হয়নি ট্যানারি শিল্প। হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি পুরো সরিয়ে নিতে আরও এক বছর লাগবে বলে জানিয়েছেন মালিকরা। তাদের অভিযোগ প্লট বরাদ্দপত্র এখনও বুঝে পায়নি। গ্যাস সংযোগসহ সাভারে চামড়া শিল্প নগরীর প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি শেষ না হওয়ায় এ সময় লাগবে। সরকার যদি অযুক্তিকভাবে চাপ সৃষ্টি করে তাহলে এ শিল্পের অনেক ক্ষতি হবে।
তবে পরিবেশবাদীরা বলছেন ডিসেম্বরের মধ্যেই হাজারীবাগের ট্যানারি বন্ধ করতে হবে। তা না হলে এ শিল্পের প্রতি সাধারন মানুষ আস্থা হারাবে। তাদের কয়েক দফায় সময় দেয়া হয়েছে। কারখানা স্থানান্তরের জন্য ক্ষতি পূরনও দেয়া হয়েছে। সকল সুযোগ সুবিধা নিয়ে তারা এখনও উল্টো কথা বলছে। কারখানা স্থনান্তরে শিল্পমন্ত্রী এবং নৌমন্ত্রী কয়েক দফায় আল্টিমেটাম দিলেও তাতে কোন ফল হয়নি। সর্ব শেষ তারা ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চাইলেও এখনও নতুন করে আবার এক বছর সময় চাচ্ছে ট্যানারি মালিকরা।
হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সরিয়ে নিতে একনেকে প্রকল্প পাস হয় ২০০৩ সালে। ১৩ বছর ধরে দফায় দফায় আল্টিমেটাম দিয়েছে সরকার। মালিকরাও বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু একটি ট্যানারিও পুরোপুরি সাভারে সরিয়ে নেয়া হয়নি। সবশেষ এ মাসের মধ্যেই সব ট্যানারি সরিয়ে নিতে একমত হয় উভয়পক্ষ।
 সরেজমিনে দেখা গেছে সাভারের চামড়া শিল্প নগরীতে কোনো কারখানার অবকাঠামো তৈরি শেষ হয়নি। আবার কোনো কোনো কারখানা তৈরি কেবল শুরু হয়েছে। তাদের অভিযোগ আমরা এখনও প্লট বরাদ্দের কাগজপত্র বুঝে পাইনি। আর এ কারনেই ব্যাংক ঋণ পাচ্ছিনা। আর ব্যাংক ঋণ না পেলে কারখানা নির্মাণে এত টাকা কোথায় পাব। এছাড়া গ্যাস সংযোগও পাওয়া যাচ্ছে ন্ াতাহলে আমরা কিভাবে উৎপাদনে যাবো। আমাদের কারখানার কাজ শেষ হতে আরও এক বছর সময় লাগবে। এ সময় সরকারকে দিতেই হবে। সময় না দিয়ে সরকার যদি আমাদের অযৌক্তিভাবে চাপ প্রয়োগ করে তাহলে এ শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মালিকপক্ষ এখনও জমির বরাদ্দপত্র আর গ্যাস সংযোগ পাওয়ার অপেক্ষায়। যদিও প্রকল্প পরিচালক বলছেন সব সেবা দিতে প্রস্তুত বিসিক।
তারা বলছেন, প্রতিদিন এখানে ১ লাখ ২৫ হাজার ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হয়। সব কারখানা চালু হলে গ্যাসের চাহিদা হবে ৬ লাখ ঘনফুট। এ পরিমান গ্যাস দেয়ার ক্ষমতা নেই সরকারের।
প্রকল্প পরিচালক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, প্রকল্পের সব কাজ শেষ। তারা ইচ্ছে করলে এখনই বিনিয়োগ করতে পারে। কিন্তু তারা কেন এখানে কারখানা স্থনান্তর করছে তা আমার বুঝে আসছেনা। গ্যাস লাইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি বিসিকের অধীনে নয়্ তারপরেও আমি জানি তারা যে শর্তে গ্যাস চাচ্ছে সব শর্থ মেনেই চাহিদা মাফিক গ্যাস দেয়া হচ্ছে। গ্যাসের কোন সংকট নেই। পরিবেশবাদীদের অভিযোগ লাভ-ক্ষতির হিসাব মেলাতে গিয়ে অনেক মালিক ট্যানারি সরাতে চায় না। দায় আছে সরকারেরও।
সাভারে বর্জ্য শোধন ঠিকভাবে করা হচ্ছে কি-না তাও তদন্তে করার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশ আইনবিদ সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, এই বিলম্বের পিছনের সরকার এবং মালিক পক্ষে সায় রয়েছে। হাজারিবাগ থেকে ট্যানারি স্থনান্তরে মালিকরা এখনও লাভ লোকসানের চিন্তাভাবনা করছে। যতদিন তারা এখানে থাকতে পারে ততই তাদের লাভ।
তিনি আরও বলেন, এর এক দিনও এখানে ট্যানারি রাখার কোন যুক্তি নেই। সরকার বলছে সাভারে কারাখানা স্থনান্তরে কোন বাধা নেই। সব উন্ণয়ন কাজ ইতোমধ্যে মেষ হয়েছে। আর মালিকরা বলছে এখনও তারা গ্যাস সংযোগ পায়নি। বিনিয়োগ করার মত পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি। তাহলে  কার কথা সঠিক। আর এ পরিবেশ দূষনের জন্য কে দায়ী।
সাভারের চামড়া শিল্প নগরীতে কারখানা স্থানান্তরে গড়িমসি করায় পরিবেশ দূষণ অব্যাহত থাকায় গত ১৬ই জুন হাজারীবাগের ১৫৪টি ট্যানারি কারখানাকে প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন হাইকোর্ট। পরে কারখানা মালিকদের আপিল আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৮ জুলাই কারখানা প্রতি দৈনিক ১০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেন আদালত। এরপর শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে কারখানা মালিকদের কাছে লিখিত নির্দেশ যাওয়ার পর গত ১১ আগস্ট থেকে শিল্প সচিব বরাবর সোনালী ব্যাংক- শিল্প মন্ত্রণালয় শাখার মাধ্যমে জরিমানা দেয়া শুরু করেন ট্যানারি মালিকরা।
গত ছয় মাসে কয়েক কোটি টাকা জরিমানা জমা হয়েছে। শিল্প সচিব বলছেন,  জরিমানাই শেষ কথা নয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তর করতে হবে। সর্বশেষ এ বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় নেয় শিল্প মালিকরা। এখন ডিসেম্বরে এসে তারা বলছে আরও এক বছর সময় লাগবে তাদের। তাহলে আসলে আর কত দিন লাগবে তা বলার কেউ নেই।
শিল্প মন্ত্রণালয় জ্যেষ্ঠ সচিব বলেন,  গত ১১ আগস্ট থেকে ট্যানারি মালিকরা টাকা জমা দেয়া শুরু করেছে। এটি যে একটা সমাধান তা নয়। তাদেরকে সেখানে যেতে হবে। এখন যদি তারা থেকে যায় তাহলে অবশ্যই তারা বাধার সম্মুখীন হবে।
তবে ট্যানারি মালিকদের সংগঠন- বিটিএ বলছে,  সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর বন্ধ হয়ে গেছে ৫০টির বেশি কারখানা। তাই কারখানা স্থানান্তরের অগ্রগতি তুলে ধরে আদালতে রিভিউ আবেদন করার কথা ভাবছেন তারা।
তবে জরিমানা আদায় করেও কোন লাভ হচ্ছে না। জরিমানা দেয়ার পরেও কারখানা স্থানান্তর করছে না মালিকরা। এখানে থাকার কি লাভ তা বলা যাচ্ছে না। এত সব হয়রানির পরেও কেন কারখানা স্থনান্তর করছে তার রহস্য রয়েই গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ