ঢাকা, মঙ্গলবার 20 December 2016 ৬ পৌষ ১৪২৩, ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

স্বাধীনতা অর্জনের ৪৫ বছর পরেও দেশে বুদ্ধিজীবীরা প্রতিহিংসার শিকার হয়ে নির্যাতিত হচ্ছেন

চট্টগ্রাম অফিস : রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের ৪৫ বছর পরেও দেশে বুদ্ধিজীবীরা শুধুমাত্র রাজনৈতিক মতভিন্নতার কারণে আওয়ামী সরকারের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রতিনিয়ত নির্যাতিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ আল নোমান। তিনি বলেন, ’৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী জাতিকে মেধাশূন্য করার কু-মানসে রাতের অন্ধকারে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করেছিল। বুদ্ধিজীবীরা ছিল জাতির শ্রেষ্ঠ সূর্য সন্তান, তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।মহান বিজয় দিবস ও শহীদ বুদ্ধিজীবী উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত ৩ (তিন) দিনব্যাপী কর্মসূচীর ১ম দিনে বুধবার বিকাল ৪টায় নাসিমন ভবনস্থ বিএনপি কার্য্যালয়ের সম্মুখস্থ মাঠে মহানগর বিএনপির উদ্যোগে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ আল নোমান প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন। আলোচনা সভার পূর্বাহ্নে বিকাল ৩টায় রং,বেরং এর বেলুন উড়িয়ে নগর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সাথে নিয়ে মহানগর বিএনপির ৩ (তিন) দিনব্যাপী বিজয় দিবসের কর্মসূচীর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন আবদুল্লাহ আল নোমান।
আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম চেতনা ছিল গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার, কিন্তু স্বাধীনতা অর্জনের ৪৫ বছর পার হলেও আমাদেরকে এখনো গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে যেতে হচ্ছে।
গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ছাড়া স্বাধীনতা অর্থহীন উল্লেখ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, স্বাধীন দেশে এখন আমরা পরাধীন, ভোটাধিকার নেই, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই, সর্বোপরি স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি নেই। ’৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী  বুদ্ধিজীবীদের রাতের অন্ধকারে নির্যাতন করে হত্যা করেছিল কিন্তু স্বাধীন দেশে স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরে ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত আওয়ামীলীগ সরকার প্রকাশ্য দিবালোকে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের গ্রেপ্তার করে কারাগারের অন্ধ প্রকোষ্ঠে নিক্ষেপ করে নির্মম নির্যাতন চালাচ্ছে, যার নিকট উদাহরণ হচ্ছে দেশবরেণ্য সাংবাদিক শফিক রেহমান, আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ ও মাহমুদুর রহমান মান্না প্রমুখ। সরকারের প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে জীবন সায়াহ্নে এসে মামলার আসামী হতে হয়েছে প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর এমাজ উদ্দীন আহমদকে।
আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে আমাদেরকে জাতীয়তাবাদী চেতনাকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে। জাতীয়তাবাদী চেতনাকে ধারণ করতে না পারলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অর্থহীন হয়ে যাবে। মুখে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে রাজনৈতিক সুবিধা নিলে হবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রাধান্য দিয়ে রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করার জন্য তিনি রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আহবান জানান।
জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মনিরুল ইসলাম ইউসুফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সভাপতি ডাক্তার শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, মহিলাদলের সাবেক সভাপতি নূরী আরা সাফা, বিশিষ্ট সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি, ইঞ্জিনিয়ার কে.এম. সুফিয়ান, মুক্তিযোদ্ধা ডাক্তার এস.এম. সাদেক, ফয়েজুল ইসলাম, এম.এ. মতিন, সার্জেন্ট (অবঃ) গোলাম মোস্তফা, মহানগর যুবদলের সভাপতি কাজী বেলাল, মোঃ আলী, এস.এম. সাইফুল আলম, হারুন জামান, ইসকান্দার মির্জা, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, সবুক্তগীন মক্কী, এডভোকেট মফিজুল হক ভূইয়া, প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ