ঢাকা, মঙ্গলবার 20 December 2016 ৬ পৌষ ১৪২৩, ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কুমারখালী মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে গাইনী ডাক্তার নেই

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) : শিশুকল্যাণ কেন্দ্র

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা : কুষ্টিয়ার কুমারখালীর (মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র) মাতৃসদন হাসপাতাল বিগত সাড়ে ৪বছর যাবৎ গাইনী চিকিৎসক শূন্য রয়েছে। ফলে উপজেলার শত-শত গর্ভবতী মহিলা মৃত্যু ঝুঁকির কবলে পড়ছে। অকালে জীবন হারাতে হচ্ছে মা ও শিশুকে। ভেঙে পড়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিরাপদ মাতৃত্বের অধিকার কর্মসূচি। দারুণভাবে বিপর্যস্ত এখানকার পরিবার-পরিকল্পনা কার্যক্রম।
জেলা পরিবার-পরিকল্পনা অফিস সূত্রে জানা যায়, গাইনী ডাক্তার শূন্যতা, মেডিকেল অফিসারের একাই দুই উপজেলার দায়িত্ব পালন আর ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন পদের কর্মচারিগণ অবসরে যাওয়ায় অনেক পদ শূন্যতার কারণে এতদাঞ্চলের পরিবার-পরিকল্পনা কার্যক্রম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে অনাকাঙ্খিত ভাবেই বেড়ে চলেছে জন্মহার।
ভূক্তভোগি এলাকাবাসী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, কুমারখালী উপজেলার ২০শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে (মাতৃসদন হাসপাতাল) বিগত ০৩ এপ্রিল’২০১২ তারিখ পর্যন্ত গাইনী চিকিৎসকের দায়িত্বরত ছিলেন ডাঃ গোলাম রহমান। ইতোমধ্যেই বদলীর আদেশ হলে ভোলা জেলার চর ফ্যাশনে চলে যান তিনি। এরপর থেকেই আজও এখানে রয়েছে গাইনী ডাক্তার শূন্যতা। পরিবার কল্যাণ পরিদর্শীকাদের দিয়ে গর্ভবতী প্রসূতিদের পরামর্শ ও ডেলিভারীর কাজ চালানো হয় এখানে। নর্মালী না হলে পাঠানো হয় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে। তখন মৃত্যু ঝুঁকি নিয়েই যেতে হয়  মা ও শিশুকে। এক্ষেত্রে একটি এম্ব্যুলেন্স থাকলেও সেটি অনুপযোগী। কোন রকমে চললেও রোগী পরিবহনের খরচও বহন করতে হয় স্বজনদের। এখানে পরিবার-পরিকল্পনার ব্যবস্থা দিয়ে থাকেন উপজেলা মাতৃসদন হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচএফপি) ডাঃ ফজলুল হক। কুমারখালী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে গর্ভবতী মায়েদের ডেলিভারীর জন্য গাইনী ডাক্তার অপরিহার্য হলেও প্রায় সাড়ে ৪বছর যাবৎ বিরাজমান এ চিকিৎসক শূন্যতাকে কোন সমস্যাই উল্লেখ করতে নারাজ ডাঃ ফজলুর রহমান।
বাংলাদেশ পরিবার-পরিকল্পনা অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার উপ-পরিচালক সরদার এম.এ.হান্নান বলেন,“সাড়ে চার বছর ধরে গাইনী ডাক্তার শূন্যতা একটি বড় ধরনের সমস্যা। এ ব্যাপারে বিগত প্রায় ৩মাস আগে মহাপরিচালকের দপ্তরে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত তেমন কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বিধায়, আমি আবারও লিখিত ভাবে জানাবো।
প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা হলে পরিবার-পরিকল্পনা সেবা, শিশুমৃত্যু, মাতৃমৃত্যুসহ সরকারের অন্যান্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে, বেগবান হবে পরিবার-পরিকল্পনা কার্যক্রম। গাইনী ডাক্তার হিসেবে পুরুষ চিকিৎসক ব্যতিরেকে মহিলা ডাক্তারের পোষ্টিং বাঞ্ছনীয় বলে মন্তব্য করেন তিনি”।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ