ঢাকা, মঙ্গলবার 20 December 2016 ৬ পৌষ ১৪২৩, ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

এনজিও ব্যুরো এবং মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেশন বোর্ড অথরিটি লাইসেন্স নেই একটিরও

রেজাউল ইসলাম, রামপাল (বাগেরহাট): বাগেরহাটের রামপালে এনজিও ব্যুরোর লাইসেন্স ছাড়াই নামে বেনামে ব্যাঙ্গের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে বিভিন্ন এনজিও। শুধুমাত্র সমবায় সমিতির নাম ব্যাবহার করে দেদারসে চলছে রমরমা সুদের ব্যাবসা। গ্রাহক সৃষ্টি করার নিত্য-নতুন পন্থা আবিষ্কার করে সঞ্চয় রাখার নামে উচ্চ সুদে বিতরণ করা হচ্ছে ঋণ। আর ঋণের জালে জড়িয়ে প্রতারিত হয়ে সহায় সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে ভুক্তভোগীরা। এইসব প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষের কোনো সুনজর না থাকায় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। অনেক এনজিও গ্রাহকদের জামানতের টাকা না দিয়ে হঠাৎ অফিস গুটিয়ে গাঁ ঢাকা দিয়েছে তার সংখ্যাটাও কম নয়। রামপালে সোনার বাংলা সমবায় সমিতি, সেফ সমবায় সমিতি, রূপালী সমবায় সমিতিসহ বিভিন্ন নামে রাতারাতি গজিয়ে উঠছে এনজিও। সমবায়ের লাইসেন্স ব্যাবহার করে সদস্যদের মাঝে শুধুমাত্র জামানত রাখার নিয়ম থাকলেও এক্ষেত্রে কোন নিয়মের তোয়াক্কা করাই হচ্ছে না। তাদেরকে আবার উচ্চ সুদের হারে ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো আইন মানা হচ্ছে না। তাছাড়া মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি বোর্ড অব অথরিটি সার্টিফিকেট ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠান ঋণ বিতরণ করার অধিকার রাখে না। দেখা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের একটিরও মাইক্রোক্রেডিট বোর্ড অব রেগুলেশন অথরিটির কোনো ছাড়পত্র নেই। আর বাহারী নামধারী অনেক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের জমাকৃত টাকা নিয়ে অফিস গুটিয়ে রাতারাতি উধাও হয়ে গেছে। রামপাল উপজেলা সমবায় অফিসের সূত্র মতে, রামপালে প্রায় শতাধিক সমবায় সমিতি রয়েছে। এদের বেশিরভাগই ঋণ বিতরণ কার্যক্রমের সাথে জড়িত। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ব্যাংক চেক এবং স্ট্যাম্প এ সই রেখে লোন দেয়া হয়। ঋণদানের পর জোরপূর্বক আদায়ের করার কারণে অনেকে জায়গা-জমি এমনকি বাড়িঘর বিক্রি করে সর্বস্বান্ত হচ্ছে। আবার অনেকে ওই এনজিওগুলোতে লাখ লাখ টাকা আমানত রাখার পর ফেরত না পেয়ে আমানতকারীরা পথে বসছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাড়িতে চটকদার বিজ্ঞাপনে চেনা যায় এদের অফিস। এর মধ্যে অল্পসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের এনজিও ব্যুরোর অনুমোদন থাকলেও থাকলেও সিংহভাগের কোনো রেজিস্ট্রেশন নেই। এনজিওগুলো সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে হতদরিদ্র ছোটখাটো ব্যবসায়ীদের ঋণ দেয়ার পর জোরপূর্বক আদায় করছে। সময় মতো ঋণ পরিশোধ করতে ব্যার্থ ঋণ গ্রহীতাদের হতে হয় নানা নির্যাতনের শিকার।
একপর্যায়ে জায়গা-জমি এমনকি বাড়িঘর বিক্রি করে সর্বস্বান্ত হচ্ছে শত শত পরিবার। আবার চাকরিজীবী, ছোটখাট ব্যবসায়ী, বেকার যুবক এবং সাধারণ কৃষকরা অধিক মুনাফা লাভের আশায় স্থানীয় এনজিওগুলোতে লাখ লাখ টাকা আমানত রেখে মুনাফা দূরের কথা আসল টাকা ফেরত না পেতে মাসের পর মাস ধর্না দিতে হচ্ছে। এসব নিবন্ধনহীন এনজিও বন্ধে সচেতন মহল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ