ঢাকা, মঙ্গলবার 20 December 2016 ৬ পৌষ ১৪২৩, ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনায় ভারতীয় ভিসা প্রাপ্তিতে দুর্ভোগ

খুলনা অফিস: অনলাইনের মাধ্যমে ইলেক্ট্রনিক টোকেন বা ই-টোকেনের সিরিয়াল পেতে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা দিয়েও কাক্সিক্ষত সময়ে ই-টোকেন মিলছে না। ফলে ভারতীয় ভিসা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে তৈরী হচ্ছে নানা দুর্ভোগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের অন্যান্য স্থানের ন্যায় খুলনাসহ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল থেকে ভারত গমনেচ্ছুক পাসপোর্টধারী যাত্রীরা প্রতিদিন অনলাইনে ভিসার আবেদনপত্র জমা দেয়ার জন্য বিভিন্ন এজেন্টের কাছে যাচ্ছেন। তারা পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ছবি অনলাইনে টোকেন পাইয়ে দেয়ার কাজে নিযুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তি ও ভিসা এজেন্সীর কাছে যাচ্ছেন। ভিসা এজেন্সীর লোকজন পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং তিন হাজার বা সাড়ে তিন হাজার টাকা রেখে, বলছেন সিরিয়াল পেলে মোবাইল ফোনে জানিয়ে দেয়া হবে। এরপর ভিসা এজেন্সী বা অনলাইনে ই-টোকেন সিরিয়ালের কাজে নিযুক্তরা কম্পিউটারের মাধ্যমে সাবমিট করছেন। সাবমিট করার পর অনেকে এক সপ্তাহের মধ্যেই ই টোকেনের সিরিয়াল পেয়ে যাচ্ছেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ১ মাস থেকে দেড় মাস সময় লাগছে। অনেকের ক্ষেত্রে দুই থেকে তিন মাসও সময় লাগছে। সঙ্গতকারণে অনেকেই সিরিয়ালের অপেক্ষায় থেকে হতাশ হয়ে পড়ছেন। যারা সিরিয়াল পাচ্ছেন তারা নির্ধারিত তারিখে গিয়ে এস্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার ভিসা আবেদন সেন্টারে জমা দেয়ার ৭ থেকে ৮ দিনের মধ্যে ভিসা পাচ্ছেন।
সূত্র জানায়, ভারতীয় পাসপোর্টের ভিসা পাওয়ার জন্য ই-টোকেনের সিরিয়াল পাওয়ার জন্য তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে। তার আনুপাতিক কোন হিসাব দিতে পারছেন না ভিসা এজেন্সী বা এজেন্টরা। তাদের কাছে জানতে চাইলে বলেন, প্রতিটি ই- টোকেনের জন্য তিন হাজার টাকার মধ্যে ভিসা এজেন্সী বা এজেন্টরা পান মাত্র ২০০ টাকা। আর অবশিষ্ট ২ হাজার ৮০০ টাকা তারা ঢাকায় পাঠিয়ে দেন। ঢাকায় কে বা কারা এ টাকা গ্রহণ করেন সে সম্পর্কে এজেন্টরা স্পষ্ট করে কিছু বলতে চান না।
একটি সূত্র জানায়, ঢাকায় একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। এই সিন্ডিকেট সমগ্র বাংলাদেশের অনলাইন ই-টোকেন নিয়ন্ত্রণ করে। তারাই কারসাজি করে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতিটি অনলাইন আবেদনের জন্য তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা আদায়ে বাধ্য করছেন। আর হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা।
সম্প্রতি মাদারীপুরে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হর্ষবর্ধন শ্রীংলা বলেন, ভারত ভ্রমণ সহজ করতে ই-টোকেন পদ্ধতি উঠিয়ে দেয়া হবে।
এছাড়াও ভারতের মন্ত্রিসভায় পর্যটন খাত থেকে আয় বাড়াতে ভারতীয় ভিসা সহজ করার লক্ষ্যে ই-টোকেন উঠিয়ে দেয়াসহ নানা সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এতকিছুর পরও এখনো ই-টোকেন পদ্ধতি প্রত্যাহার করা হয়নি। ফলে ভারতীয় ভিসা পেতে যে বিড়ম্বনা তা’ মোটেই কাটছে না।
এ ব্যাপারে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া খুলনা শাখার প্রধান মানিক চক্রবর্তী কোন প্রকার মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এ ব্যাপারে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামান ভিসার আবেদনপত্র জমা দেয়ার আগে ই-টোকেনের মাধ্যমে সিরিয়াল পাওয়ার যে বিড়ম্বনা, তা’ থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য ভারত সরকার তথা বাংলাদেশস্থ ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ