ঢাকা, বুধবার 21 December 2016 ০৭ পৌষ ১৪২৩, ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সুন্দরবনে গোলপাতা আহরণ মওসুম শুরু

খুলনা অফিস : গত পাঁচ বছর ধরে সুন্দরবনে গরান সংগ্রহের পাস পারমিট বন্ধ রয়েছে। এবারও মেলেনি গরান সংগ্রহের অনুমতি। ফলে বনের ওপর নির্ভরশীল বাওয়ালীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। তবে অনেক চেষ্টার পর গোলপাতা সংগ্রহের অনুমতি মিলেছে। ২৫ ডিসেম্বর বাওয়ালীদের গোলপাতার বিএলসি চেকিং করবে বনবিভাগ। তারপর নীতিমালা অনুযায়ী পাস দেয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অন্যান্য বছর গোলপাতা আহরণের জন্য আনুষঙ্গিক দাপ্তরিক কাজ শেষে ৩০ নবেম্বরের মধ্যে পাস পারমিট দেয়া শুরু হতো। এই সময়ের মধ্যে কয়েক হাজার নৌকা গোলপাতা আহরণের জন্য বনে প্রবেশ করতো। কিন্তু দেরিতে কার্যক্রম শুরু হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবার আগ্রহী বাওয়ালীর সংখ্যা কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

বাওয়ালীরা জানিয়েছে, পেশায় জড়িতদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি না করে গরানের পারমিট বন্ধ করে দেয়ায় চরম দুর্দিনে দিন কাটছে বাওয়ালীদের। শেষ পর্যন্ত গরানের পাস পারমিট না হলে বাওয়ালী ও ব্যবসায়ীদের পথে বসতে হবে। রয়েছে মহাজনদের দাদনের টাকা পরিশোধ করতে না পারার ভয়। গতবার অনেকে নৌকা বিক্রি করে ঋণমুক্ত হয়। আবার কেউ কেউ ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে এবার চাতক পাখির মত চেয়ে আছে।

বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবন পূর্ব ও পশ্চিম বনবিভাগ এলাকায় প্রতিবছর কয়েকটি কম্পাটর্মেন্টে বিপুল পরিমাণ গোলপাতা ও গরান হয়। সময় মত গোলপাতা না কাটলে তা বছরে বছরে নষ্ট হয়ে যায়। আবার গোলপাতা কাটলে নতুন গোলপাতা জন্ম নেয়। এ কারণে গোলপাতা আহরণের অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে বিতর্ক থাকায় গরান সংগ্রহের অনুমতি দেয়া হয়নি।

জানা গেছে, বন বিভাগের জরিপে পশ্চিম বনবিভাগের আওতায় খুলনা রেঞ্জের ১৭ নং কম্পাটর্মেন্টের ২৩শ’ ৩৪ হেক্টর বনভূমি থেকে ম্যানেজমেন্ট বন্টন অনুযায়ী ৪৭ হাজার ১৩ মণ ও রেঞ্জ অফিসের রিপোর্ট অনুযায়ী ৫৮ হাজার ৬শ’ ৯০ মণ গরান আহরণ করা সম্ভব।

সাতক্ষীরা রেঞ্জের ৪২নং কম্পার্টমেন্টের ৬শ’ ৯৪ হেক্টর বনভূমি থেকে ম্যানেজমেন্ট বন্টন অনুযায়ী ৬৭ হাজার ৩শ’ ৪৩ মণ ও রেঞ্জ অফিসের রিপোর্ট অনুযায়ী ১ লাখ ৩৬ হাজার ১শ’ ৫ মণ, ৫০/১নং কম্পার্মেন্টের ১৮শ’ ৫৬ হেক্টর বনভূমি থেকে ম্যানেজমেন্ট বন্টন অনুযায়ী ১ লাখ ৬৯ হাজার ৭শ’ ৪৮ মণ ও রেঞ্জ অফিসের প্রতিবেদন অনুযায়ী এক লাখ ৬৩ হাজার ৮শ’ ৯৫ মণ গরান আহরণ করা যেতে পারে। এছাড়া পূর্ব বনবিভাগের আওতায় চাঁদপাই রেঞ্জের ৯ কম্পাটর্মেন্টের এক হাজার ৩শ’ ৪১ হেক্টর বনভূমি থেকে রেঞ্জ কর্মকর্তার রিপোর্ট অনুযায়ী ৬ লাখ ৯ হাজার ৪শ’ ৫০ মণ গরান আহরণ করা সম্ভব। শরণখোলা রেঞ্জের ৮/১২ বি ও ৪৫ থেকে দুই হাজার ৭শ’ ৭ হেক্টর বনভূমি থেকে রেঞ্জ অফিসের রিপোর্ট অনুযায়ী ৯২,২০৭ মণ গরান সংগ্রহ করা যেতে পারে।

গত ১০ ডিসেম্বর বৃক্ষ ও বনজরিপ-২০১৬ কার্যক্রমের উদ্বোধান করতে খুলনায় এসেছিলেন প্রধান বন সংরক্ষক মো. ইউনুছ আলী। ওই সময় তিনি বলেছিলেন সুন্দরবনে গরান গাছের ঘনত্বের কারণে হরিণদের চলাফেরায় সমস্যা হচ্ছে। কাজেই বনজরিপের পর গরান আহরণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

কয়রা উপজেলার ১নং কয়রা গ্রামের কামরুল ইসলাম বলেন, গত বছর ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে গরান আহরণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও গরান আহরণ বন্ধ ছিল। এবারও গরান আহরণ বন্ধ থাকলে সরকার বিপুল অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে তাই বাওয়ালীদের দিকটা বিবেচনা রেখে পারমিট দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

বনজীবী ফেডারেশনের আহ্বায়ক বাচ্চু মীর বলেন, কেন এবং কি কারণে গরান আহরন করার অনুমতি বনবিভাগ দিচ্ছে না তা আমাদের বোধ্যগম্য নয়। সরকারের রাজস্ব আদায়ের কথা বিবেচনা করে এবং বনজীবীদের জীবন জীবিকার কথা মাথায় রেখে এবার গরান আহরণ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

কয়রায় যৌতুকের বলি গৃহবধূ রতনা : বিয়ের এক বছর শেষ না হতেই খুলনার কয়রা উপজেলার অন্তাবুনিয়া এলাকায় রতনা খাতুন (১৯) নামের এক গৃহবধূ যৌতুকের বলি হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাবার বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকা এনে দিতে না পারায় তাকে পিটিয়ে হত্যার পর মুখে বিষ ঢেলে আত্মহত্যার নাটক সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় রেখেছে। এ ঘটনায় ঘাতক স্বামীসহ তিন জনের বিরুদ্ধে সোমবার থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। 

নিহত গৃহবধূ রতনার পরিবার জানায়, কয়রা উপজেলার অন্তাবুনিয়া গ্রামের ছহিল উদ্দিনের মেয়ে রতনা খাতুনের সাথে ৮/৯ মাস আগে একই এলাকার মহিউদ্দিন গাজীর ছেলে ফজলু গাজী (৩৪)’র বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে রতনার স্বামী যৌতুকের জন্য নানাভাবে চাপ দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে রতনা বিষয়টি তার পিতাকে জানালেও অভাবগ্রস্ত বাবা মেয়ে জামাইকে যৌতুকের টাকা দিতে পারেননি। গত রোববার সন্ধ্যায় স্বামী ফজলু যৌতুকের দাবিতে রতনাকে পিটিয়ে হত্যা করে। এরপর ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে রতনার মুখে বিষ ঢেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে রতনার বাবা-মা হাসপাতালে গিয়ে সেখানে কাউকে পাননি। পরে তারা জানতে পারেন মেয়ের মরদেহ তার স্বামী ফজলু গাজী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রতনার দাদী সবিরণ বেগমের বাসায় ফেলে পালিয়ে গেছে। 

কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শমসের আলী জানান, এ ঘটনায় নিহত রতনার স্বামীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ