ঢাকা, বুধবার 21 December 2016 ০৭ পৌষ ১৪২৩, ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনায় ক্ষুদে শিক্ষার্থী ভর্তির নতুন নীতিমালা

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীর পাঁচটি সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যেই পাঁচটি স্কুলের ৭৫৬টি আসনের বিপরীতে ৪৮৬৪ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছে। এর ফলে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের ভর্তিযুদ্ধে আসন প্রতি প্রার্থী হয়েছে ৬ জন। পাঁচটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় ও ষষ্ঠ শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা আগামী ২২ ও ২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের আবেদনের সময় ১২ ডিসেম্বর মধ্যরাতে শেষ হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, খুলনা অঞ্চলের পরিচালক টি.এম জাকির হোসেন জানান, নতুন ভর্তি নীতিমালায় এবার বেশ কঠোরতা দেখানো হয়েছে। আগে বছরের যে কোন সময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা খুলনায় বদলি হয়ে এলে তাদের সন্তানদের সরকারি স্কুলে ভর্তির সুযোগ ছিলো। কিন্তু নতুন নীতিমালায় ওই স্কুলে কোন আসন শূন্য থাকলে তবেই বদলিজনিত ভর্তির সুযোগ থাকছে।

খুলনা জেলা সদরের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি কমিটির সদস্য সচিব ফারহানা নাজ জানান, ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে ভর্তি কমিটি কাজ করে যাচ্ছে। ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার দ্রুততম সময়ে ফল প্রকাশ করা হবে। তিনি আরও জানান, শিশু পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ কমাতে প্রতিটি শিক্ষার্থীর সাথে একজন করে অভিভাবক পরীক্ষার ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীকে তার নির্দিষ্ট আসনে বসিয়ে দিয়ে পুনরায় পরীক্ষার ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে হবে।

সূত্রে জানা গেছে, খুলনা জিলা স্কুলের তৃতীয় শ্রেণিতে প্রাতঃ ও দিবা শাখায় ২৪০ আসনের বিপরীতে ১৫৪৪ জন পরীক্ষার্থী ভর্তিযুদ্ধে অংশ নিচ্ছে। এছাড়া করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে দুই শাখায় ২৪০ আসনের বিপরীতে ১৪৪৮ জন, খুলনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১২০ আসনের বিপরীতে ৬৯৮ জন, খুলনা সরকারি ইকবালনগর বালিকা বিদ্যালয়ে দুই শাখায় ৩৬ আসনের বিপরীতে ৮০৪ জন, গভঃ ল্যাবরেটরি হাই স্কুলে ১২০ আসনের বিপরীতে ৩৭০ জন পরীক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

এছাড়া খুলনা জিলা স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে প্রাতঃ ও দিবা শাখায় ২৪ আসনের বিপরীতে ১৮৫ জন, করোনেশনে ষষ্ঠ শ্রেণির দুই শাখায় ২৪ আসনের বিপরীতে ২২২ জন, খুলনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৪ আসনের বিপরীতে ১২৭ জন, ইকবালনগর বালিকা বিদ্যালয়ে ২৪ আসনের বিপরীতে ১৫০ জন, গভঃ ল্যাবরেটরি হাই স্কুলে ২৪ আসনের বিপরীতে ৮৯ জন ক্ষুদে শিক্ষার্থী ভর্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করছে।

জানা গেছে, আগামী ২২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার খুলনা জিলা স্কুল, সরকারি করেনেশন মাধ্যমিক বিদ্যলয়ে তৃতীয় শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে ১১টা এবং সরকারি ইকবালনগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে বেলা ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

একই দিনে খুলনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, গভঃ ল্যাবরেটরি হাই স্কুল ও সরকারি ইকবালনগর বালিকা বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ইকবালনগর বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।

২৪ ডিসেম্বর শনিবার খুলনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং গভঃ ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের ৩য় শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত স্ব-স্ব বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। এই দিনে খুলনা জিলা স্কুল, খুলনা সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত খুলনা জিলা স্কুলে অনুষ্ঠিত হবে। ৩য় শ্রেণির জন্য বাংলা ১৫, ইংরেজিতে ১৫ এবং গণিতে ২০ সর্বমোট ৫০ নম্বরের এবং ৬ষ্ঠ শ্রেণির জন্য বাংলা ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এবং গণিতে ৪০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

সেন্ট জোসেফ স্কুলে এবারও ভর্তি বাণিজ্য 

অভিভাবকদের দাবি উপেক্ষা করে এবারও খুলনা জেলা স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীর ভর্তি পরীক্ষার আগেই সম্পন্ন হয়েছে সেন্ট জোসেফ স্কুলের ভর্তি কার্যক্রম। গত ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রত্যেকের কাছ থেকে তিন হাজার টাকার ঊর্ধ্বে ফি নিয়ে স্কুলটিতে ২২২ জন ছাত্রকে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি করা হয় বলে অভিভাবকরা জানিয়েছেন। পাশাপাশি স্কুলটিতে ভর্তির ওয়েটিং লিস্টে রাখা হয়েছে ২৫০ জনকে।

এই বিপুলসংখ্যক ছাত্রকে ওয়েটিং লিস্টে রাখার কারণ হিসেবে অভিভাবকরা জানান, ইতোমধ্যে সেন্ট জোসেফ স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে যারা ভর্তি হয়েছে, তাদের অধিকাংশই আগামী ২২ ডিসেম্বর খুলনা জিলা স্কুলের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে। প্রতিবার এদের মধ্যে কম বেশি ১৫০ জন মেধা তালিকায় স্থান পেয়ে পুনরায় জিলা স্কুলে ভর্তি হয়। এর ফলে এই দেড়শ’ শিক্ষার্থীর অভিভাবককে সেন্ট জোসেফ স্কুলে ভর্তির জন্য ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা গচ্চা দিতে হয়।

এ কারণে গত ২ ডিসেম্বর খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমানের সাথে মতবিনিময় সভায় অভিভাবকরা সেন্ট জোসেফ স্কুলের ভর্তি কার্যক্রম জিলা ও করোনেশন স্কুলের ভর্তি পরীক্ষার পরে করার দাবি জানিয়েছিলেন। খুলনা কোচিং সেন্টার পরিচালক এসোসিয়েশন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য কে এম এ জলিল জানান, ওই অনুষ্ঠানে শিক্ষার মান উন্নয়নে বিদ্যালয়ের সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কোচিং সেন্টারকে বৈধ প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতিসহ ৮ দফা দাবি জানানো হয়। তবে সেন্ট জোসেফের ভর্তির ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ এই দাবিটি না মানায় অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ