ঢাকা, বুধবার 21 December 2016 ০৭ পৌষ ১৪২৩, ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জাহাজ স্বল্পতায় সেন্টমার্টিন ভ্রমণে যেতে পারছে না পর্যটকরা

শাহনেওয়াজ জিল্লু, কক্সবাজার : টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। পর্যটক বাড়লেও জাহাজের সংখ্যা না বাড়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সেন্টমার্টিনগামী চারটি জাহাজ চলাচল করছে। এতে অর্ধেকসংখ্যক পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে সক্ষম হচ্ছে। সংকটের কারণে অনেক পর্যটক সেন্টমার্টিন যেতে না পেরে ফিরে যাচ্ছে। আবার অনেকে জাহাজের টিকিট না পেয়ে কাঠের বোটে করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেন্টমার্টিন যাচ্ছে। টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তিন মাস পূর্ব থেকে পর্যটন মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে এই রুটে চারটি জাহাজ চলাচল করছে। এর মধ্যে রয়েছে কেয়ারি সিন্দাবাদ, কেয়ারি ডাইন ক্রুজ, এলসিটি কুতুবদিয়া ও অন্যটি বে-ক্রুজ। বিভিন্ন ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিসেম্বরের শুরু থেকেই কক্সবাজারে পর্যটক সংখ্যা অধিক হারে বেড়েছে। কক্সবাজারে আসা অধিকাংশই পর্যটকের প্রথম টার্গেট সেন্টমার্টিন যাওয়া। সেন্টমার্টিনের জন্য অন্তত দু’টি দিন বরাদ্দ রেখে কক্সবাজারে আসছেন পর্যটকরা। পর্যটক বাড়ায় গত ১২ই ডিসেম্বর থেকে জাহাজের আসন সংকট দেখা দিয়েছে। ট্যুর প্রতিষ্ঠানগুলো চার জাহাজের সঙ্গে দফায় দফায় যোগাযোগ করে পর্যাপ্ত টিকিট পায়নি। সেন্টমার্টিনে চলাচলকারী বিলাসবহুল জাহাজ কেয়ারি সিন্দাবাদের কর্মকর্তা শাহ আলম জানান, চারটি জাহাজে করে প্রতিদিন পাঁচ হাজার মতো পর্যটক সেন্টমার্টিন যেতে পারছে। কাঠের বোটে করে এক হাজার মতো পর্যটক সেন্টমার্টিন যেতে পারছে। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজার’র (টুয়াক) সাবেক সভাপতি এস.এম কিবরিয়া জানান, বর্তমানে দৈনিক আট হাজারের বেশি সেন্টমার্টিনগামী পর্যটক রয়েছে। কিন্তু চলাচলরত চারটি জাহাজের ধারণ ক্ষমতা রয়েছে সর্বোচ্চ ছয় হাজার। এ ছাড়াও কাঠের বোটে করে হাজার খানেক পর্যটক সেন্টমার্টিন যেতে সক্ষম হচ্ছে। বাকি আরো আড়াই হাজারের মতো পর্যটক প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সেন্টমার্টিন যেতে পারছে না। এর মধ্যে নিজ উদ্যোগে যাওয়া অনেক পর্যটক দমদমিয়া ঘাট থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে তারা যাতায়াত হয়রানিসহ আর্থিক দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

এস.এম কিবরিয়া জানান, বিগত মৌসুমগুলোতে এই সময় আটটি জাহাজ চলাচল করে। কিন্তু চলতি মৌসুমে এখন চারটি জাহাজ চলাচল করছে। জাহাজ সংকটের কারণে পর্যটক পরিবহনে বিঘœ ঘটছে। কাঠের বোটে করে সেন্টমার্টিন যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তবুও অনেক পর্যটক বাধ্য হয়ে কাঠের বোটে করে সেন্টমার্টিন যাচ্ছে। তবে জাহাজের আসন না পাওয়া অধিকাংশ পর্যটক কাঠের বোটে না যেয়ে ফিরে যাচ্ছে। ফিরে যাওয়া পর্যটকরা সেন্টমার্টিন বিমুখ হয়ে পাশ্ববর্তী পর্যটন এলাকা বান্দরবান ও রাঙামাটি চলে যাচ্ছে। ঢাকা থেকে আগত পর্যটক আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমি পরিবার নিয়ে কক্সবাজারে এসেছি। কক্সবাজারে আসার প্রধান লক্ষ্য সেন্টমার্টিন যাওয়া। কিন্তু জাহাজের টিকিট না পাওয়ায় সেন্টমার্টিন না গিয়ে বান্দরবান চলে যাচ্ছি।’

ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, আগামী ২৩, ২৪ ও ২৫শে ডিসেম্বর বিপুল পর্যটকের সমাগম ঘটবে এখানে। ওই সময়ে এখনকার চেয়ে পর্যটকের পরিমাণ দ্বিগুণের বেশি হবে। জাহাজ না বাড়ালে তখন অর্ধেকের বেশি পর্যটক সেন্টমার্টিন যেতে পারবে না। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সফিউল আলম বলেন, ‘জাহাজ সংকটের বিষয়টি আমার জানা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। ইতোমধ্যে আরো একটি জাহাজে টেকনাফে অবস্থান করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ