ঢাকা, বুধবার 21 December 2016 ০৭ পৌষ ১৪২৩, ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রাষ্ট্রপতির কাছে এরশাদের পাঁচ প্রস্তাব

ষ্টাফ রিপোর্টার : নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সার্চ কমিটি গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে পাঁচটি প্রস্তাব দিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব প্রস্তাব দেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ০৫ মিনিট থেকে শুরু হয়ে বৈঠক চলে বিকেল ৪টা চল্লিশ মিনিট পর্যন্ত। এর আগে দুপুর আড়াইটায় দলীয় কার্যালয়ে আসেন এরশাদসহ দলের শীর্ষ নেতারা। পৌনে ৩টার সময় প্রতিনিধিদল নিয়ে বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন এরশাদ। 

১৮ সদস্যবিশিষ্ট এই প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন- জাপার সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ, কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এমএ সাত্তার, কাজী ফিরোজ রশিদ, জিয়াউদ্দিন বাবলু, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, প্রফেসর দেলোয়ার হোসেন খান, ফখরুল ইমাম, এসএম ফয়সল চিশতী, এটিইউ তাজ রহমান, তাজুল ইসলাম চৌধুরী, সালমা ইসলাম, মশিউর রহমান রাঙ্গা, মুজিবুল হক চুন্নু, মেজর অব. খালেদ আখতার।

রাষ্ট্রপতির সাথে বৈঠকে ৫ দফাসহ স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন এবং ইসির নিজস্ব বাজেট প্রণয়নের ক্ষমতা, নির্বাচন কমিশন যাতে স্বাধীন থাকে সে জন্য নির্বাচন কমিশনের সচিব ও কর্মকর্তাদের নিয়োগের ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতে দেয়া, ইউনিয়ন-উপজেলা ও সংসদ নির্বাচনসহ সকল নির্বাচনে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের নিয়োগের একক ক্ষমতা তাদের হাতে দেয়া, সমন্বয়ের মধ্যদিয়ে ইসিকে প্রশাসনিক ক্ষমতা দেয়াসহ বেশকিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরেন দলের এই শীর্ষ নেতারা।

নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে পাঁচ দফা প্রস্তাবনা হলো- সংবিধান অনুসারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশন নিয়োগ সংক্রান্ত একটি আইনী কাঠামো প্রণয়ন, সেখানে নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীন রাখা, নির্বাচন কমিশনের জন্য আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বর্তমান সংসদেই এ আইন পাস করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 

এ ছাড়া প্রস্তাবে নির্বাচন কমিশনারদের নিরপেক্ষতা, ব্যক্তিগত একাগ্রতা ও সততা, ন্যূনতম ও সর্বোচ্চ বয়স, পেশাগত যোগ্যতা, নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়জ্ঞান, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়তা না থাকা, অন্য অফিসে নিয়োগে বিধিনিষেধ ও চারিত্রিক স্বচ্ছতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

এদিকে রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করার পর দলীয় কার্যালয়ে এক প্রেসব্রিফিংয়ে জানানো হয়, নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সার্চ কমিটি গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে এই সংলাপ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দুরত্ব কমাবে বলে মন্তব্য করেছে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। চলমান রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে যে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে তাও কেটে যাবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।

বিফ্রিংয়ে দলের মহাসচিব ছাড়াও সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলের নেতা রওশন এরশাদ এবং কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের সাংবাদিকদের বিভন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। 

জাপা মহাসচিব বলেন, আমরা সকল রাজনৈতিক দলের সহাবস্থান কামনা করি। কেউ আমাদের প্রতিপক্ষ নয়। রাষ্ট্রপতির এই সংলাপ চলমান সংকট কাটিয়ে উঠবে বলে আমরা বিশ্বাস করি এবং তার (রাষ্ট্রপতি) এই প্রক্রিয়ায় সকল দলের মধ্যে একতা তৈরি হবে, নিজেদের মধ্যে দ্রুততম সময়ে আন্তরিকতা সৃষ্টি হবে। রাষ্ট্রপতি জাতির অভিবাবক, সে হিসেবে তিনি অবশ্যই সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও হাওলাদার আশাব্যক্ত করেন।

তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, রাষ্ট্রপতি সংলাপ শুরু করেছেন। সকলের সাথে আলাপ আলোচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যেই একটি ভালো সমাধান দিতে পারবে বলে জাতীয় পার্টি বিশ্বাস করে।

সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, দেশে গণতন্ত্র আছে এবং সুপ্রতিষ্ঠিতভাবেই আছে। তিনি বলেন, দল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করলেও রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তিনি নিরপেক্ষ হয়ে যান। তিনি নিরপেক্ষভাবেই কাজ করে যাচ্ছেন। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, সাংবিধানিক ক্ষমতা বলতে কিছু নাই। রাষ্ট্রপতি উদ্যোগ নিলে অনেক কিছুই করতে পারেন। রাষ্ট্রপতির বর্তমান প্রক্রিয়ায় অনেক কিছুই পরিবর্তন ঘটবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ