ঢাকা, বুধবার 21 December 2016 ০৭ পৌষ ১৪২৩, ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ইতিহাসের অজ্ঞতা গোলামী ডেকে আনতে পারে

[দুই]

গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ : অতীতের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী আমাদের দেশে অনেক সময় দেখা যায় যে, আদালতের অনেক আরগুমেন্টই ব্যক্তির বিশ্বাস নিরপেক্ষ নয়। আদালতের বিচারকও মানুষ। সম্ভবত এই কারণেই রাজনৈতিক বিষয়ের রায়ে বিচারকের রাজনৈতিক বিশ্বাস ও গোত্রীয় সংশ্লিষ্টতার প্রতিফলন ঘটে। এখানে পূর্ব পুরুষদের ুূরদর্শিতার প্রশ্নটি উড়িয়ে দেয়ার মতো নয়। বহুদিন আগে একটি ইংরেজি কবিতা পড়েছিলাম, লেখকের নাম আমার মনে নেই। কবিতাটির কয়েকটি চরণ ছিল এ রকম ‘We call our fore fathers fool so wise we grow, our wiser sons, no doubt, would call us so.

অর্থাৎ আমরা যতই প্রজ্ঞাবান হই ততই আমাদের পূর্ব-পুরুষদের বোকা বলি, আমাদের প্রজ্ঞাবান সন্তানরাও নিঃসন্দেহে একদিন আমাদের তাই বলবে। বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে ইতিহাস পড়ানো হয় না। যা পড়ানো হয় তা হচ্ছে ইতিহাসের বিকৃত খ-াংশ, শেখ মুজিব ও আওয়ামী লীগকেন্দ্রিক কিছু কাহিনী। এ থেকে এই দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর অতীত জানা যায় না। বৃটিশ ভারতে রাজশক্তি ও তার সহযোগী হিন্দুদের দ্বারা নিগৃহিত অনেক মুসলমানের বংশধররা এখন নিজেদের মুসলমান পরিচয় দেয়াকে অপমানকর মনে করেন। তাদের দৃষ্টিতে এই শব্দটি সাম্প্রদায়িক, যদিও হিন্দুরা নিজেদের হিন্দু হিসেবে পরিচয় দেয়ার মধ্যে সাম্প্রদায়িকতার কোনও উপাদান খুঁজে পান না। অবশ্য এতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই। কেননা উপমহাদেশে একমাত্র বাংলাতেই মীর জাফরের জন্ম হয়েছিল। তার বিশ্বাসঘাতকতায় বাংলাই প্রথম বৃটিশ বেনিয়া শক্তির পদানত হয়েছিল। এই মীর জাফরের বংশধররা এখনো সক্রিয় রয়েছে। এই বাংলার মুসলমানরা এক সময় শৌর্য-বীর্য, শিক্ষা-দীক্ষা, রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি সর্বক্ষেত্রে সমাজের শীর্ষে অবস্থান করতেন। বৃটিশের পদানত হয়ে তারা তাদের সকল অবস্থান থেকে বহিষ্কৃত হন এবং অর্ধশতাব্দী যেতে না যেতেই ভিস্তিওয়ালা আর কাঠুরিয়ার জাতিতে পরিণত হন।

যারা বাংলা এবং বাঙালি বলতে অজ্ঞান তাদের অনেকেই বাংলার ইতিহাস জানেন কিনা আমার সন্দেহ রয়েছে। জানলেও হীনধী এসব লোক তা স্বীকার করতে চান না। বৃটিশ শাসনামলে নানাভাবে পর্যুদস্ত ও বঞ্চিত মুসলমান হিন্দুদের গোলামে পরিণত হয়েছিল। শিক্ষা-দীক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য সর্বত্র ছিল তারা অবহেলিত। জমিদারদের শতকরা ৯৫ ভাগই ছিল হিন্দু এবং সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মালিকও ছিলেন তারাই। বর্ণ হিন্দুদের অত্যাচার থেকে রক্ষা পাওয়ার লক্ষ্যে দীর্ঘকাল ধরে বাংলার মুসলমানরা সুশাসনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের এই দাবির প্রেক্ষাপটে ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ব বাংলা ও আসাম নিয়ে একটি নতুন প্রদেশ গঠন করেন। মুসলমানদের সুবিধাকে সামনে রেখে পূর্ব বাংলাকে পশ্চিম বাংলা থেকে আলাদা করার বৃটিশ এই সিদ্ধান্তকে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথসহ ভারতের বর্ণ হিন্দুরা মেনে নিতে পারেননি। তারা এর মধ্যে মুসলিম জাগরণ ও পুনরুজ্জীবনের আভাস পান এবং অঙ্কুরেই তা বিনষ্ট করার জন্য উঠেপড়ে লেগে যান। বঙ্গভঙ্গ রোধ করার জন্য তারা আন্দোলন শুরু করেন। স্বদেশী আন্দোলন ছিল এই লক্ষ্যেই পরিচালিত। আরএসএস তাদের মুসলিম বিরোধী ষড়যন্ত্র বুননে স্বদেশী আন্দোলনকেই ব্যবহার করেছে। স্বদেশী আন্দোলন ও হিন্দু মহাসভার চাপে পড়েই মাত্র ছয় বছর পর ১৯১১ সালে লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গ রদ করেন।

এখানে উল্লেখ্য যে, অবিভক্ত ভারতে পরিচালিত ১৯৪১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী নিখিল ‘বাংলার’ সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী ছিল মুসলমান। তখনকার দিনে বিহার ও উড়িষ্যাকেও বাংলার অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করা হতো। আদমশুমারীর তথ্যানুযায়ী বাংলার মোট জনসংখ্যার ৫৩.৪ শতাংশ ছিল মুসলমান, অবশিষ্ট ছিল হিন্দু, বৌদ্ধ ও খৃস্টান। কিন্তু সরকারি চাকরি-বাকরি, শৃক্সক্ষলা বাহিনী ও আর্মিতে মুসলমানের সংখ্যা ছিল দেড় থেকে দুই শতাংশ। পূর্ববাংলায় মুসলমানদের সংখ্যা ছিল ৭০ শতাংশের বেশি। শিক্ষকতা পেশায় মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব ছিল সাত শতাংশেরও কম। ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল একচেটিয়া হিন্দুদের হাতে, তখনকার দিনে গ্রামীণ অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত গ্রামীণ সমবায় সমিতি ও সমবায় ব্যাংকগুলোর নেতৃত্ব ছিল তাদের হাতে। মহাজনী ব্যবসাও হিন্দুরা নিয়ন্ত্রণ করতো এবং দরিদ্র মুসলিম কৃষক প্রজারা হিন্দু জমিদার ও মহাজনদের কাছ থেকে বাধ্য হয়ে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে সর্বস্বান্ত হতো। এর কোনও প্রতিকার ছিল না।

সুবে বাংলা ছিল পাঁচটি প্রশাসনিক বিভাগে বিভক্ত। এই বিভাগগুলো ছিল (১) প্রেসিডেন্সি বিভাগ : এর অধীনে ছিল ২৪ পরগনা, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, যশোর, খুলনা জেলা ও কলকাতা প্রেসিডেন্সি শহর নিয়ে মোট ৬টি জেলা (২) বর্ধমান বিভাগ : এর অধীনে ছিল ৬টি জেলা যথাক্রমে হাওড়া, হুগলী, মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, বর্ধমান ও বীরভূম জেলা (৩) রাজশাহী বিভাগ : এর অধীনে ছিল ৮টি জেলা তথা রাজশাহী, পাবনা, মালদহ, দিনাজপুর, বগুড়া, রংপুর, জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং (৪) ঢাকা বিভাগ : ঢাকা, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর ও বরিশাল- এই চারটি জেলা নিয়ে এই বিভাগটি গঠিত ছিল। (৫) চট্টগ্রাম বিভাগ : এই বিভাগের অধীনে ছিল ৪টি জেলা এবং এগুলো হচ্ছে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও ত্রিপুরা জেলা।

বিভাগওয়ারি বিভাজনের বাইরেও অবিভক্ত বাংলা সন্নিহিত কিছু অঞ্চলে বাংলা ভাষাভাষী লোকের আধিক্য ছিল এবং এদের অধিকাংশই ছিলেন মুসলমান। আসামের সিলেট জেলা, দেশীয় রাজ্য ত্রিপুরা ও কুচবিহার এবং বিহারের মানভূম ও সিংহভূম এলাকার বাসিন্দারা বাংলাভাষী ছিল।

প্রশাসনিক বিভক্তি ছাড়াও বেসরকারিভাবে অবিভক্ত বাংলা প্রদেশটি তিনটি ভাগে বিভক্ত ছিল। এগুলো হচ্ছে পূর্ব বাংলা, পশ্চিম বাংলা ও উত্তর বাংলা। প্রেসিডেন্সি ও বর্ধমান বিভাগ নিয়ে পশ্চিম বাংলা, রাজশাহী বিভাগ নিয়ে উত্তর বাংলা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ নিয়ে পূর্ব বাংলা গঠিত ছিল। এ প্রেক্ষিতে পূর্ব বাংলার সবকটি জেলা উত্তর বাংলার ৭টি জেলা এবং পশ্চিম বাংলার দু’টি জেলা তথা মোট ১৫টি ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের অংশে পড়েছে। এর সাথে আসামের সিলেট জেলা যুক্ত হয়ে মোট ১৬টি জেলা নিয়ে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চল তথা পূর্ব পাকিস্তান গঠিত হয়েছিল। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর এই অঞ্চলটিই এখন বাংলাদেশ নামে পরিচিত। তিন বাংলার পাঁচটি বিভাগের ২৮টি জেলার মধ্যে ১৫টি জেলা প্রথমে পাকিস্তান ও পরে বাংলাদেশের অংশ হবার একমাত্র মানদণ্ড ছিল ধর্মীয় বিশ্বাস। এই অঞ্চলের শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ পাকিস্তান তথা মুসলমানদের স্বতন্ত্র আবাসভূমির পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। পশ্চিম বাংলার প্রেসিডেন্সি বিভাগের দু’টি জেলা যশোহর ও খুলনা ঐ সময়ে পাকিস্তানের ভাগে পড়ে। এক্ষেত্রে একটি বিষয় প্রণিধানযোগ্য। এই বিভাগের খুলনা জেলা ছিল হিন্দু প্রধান এবং মুর্শিদাবাদ ছিল মুসলিম প্রধান। আবার মুর্শিদাবাদ শিল্পসমৃদ্ধও ছিল। কিন্তু তথাপিও হিন্দু প্রধান জেলাটি ভারতে এবং মুসলিম প্রধান জেলাটি পাকিস্তানের অংশ না হবার পেছনে হিন্দু নেতৃত্বের একটি কারসাজি কাজ করেছিল যা ভারত সরকারের প্রকাশিত ফারাক্কা দলিলে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে যে, ভারতের স্বার্থে ফারাক্কা পয়েন্টে গঙ্গার উৎসমুখ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ জেলা তাদের প্রয়োজন। এর বিনিময়ে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ খুলনা জেলাকে তারা পাকিস্তানকে দিতে চান। এই বিষয়ে লর্ড মাউন্ট ব্যাটেনের সাথে ভারতীয় কংগ্রেসের সিনিয়র নেতারা ব্যাপক দরকষাকষি করেন এবং শেষ পর্যন্ত এই বিনিময়ে তারা রাজী হন। একইভাবে অবাঙালী অভিবাসীদের বাদ দিলে প্রেসিডেন্সি জেলা কলকাতাও ছিল মুসলিম প্রধান এবং এই শহরটিও ঐ সময়ে পাকিস্তানের অংশ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কংগ্রেস নেতারা তা করতে দেননি। ঐ সময়ে মুর্শিদাবাদ ও কলকাতা পূর্ব পাকিস্তানের যদি অংশ হতো তাহলে আজ এই অঞ্চলগুলো বাংলাদেশের অংশই থাকতো।

তিন. বলা নিষ্প্রয়োজন যে, ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে বৃটিশরা অবিভক্ত ভারতে পাকিস্তান ও হিন্দুস্তান ভূখণ্ডের সীমানা চিহ্নিত করেছিলেন। আবার দেশীয় রাজ্যগুলোর বেলায় বলা ছিল যে, তারা নবসৃষ্ট দু’টি দেশ পাকিস্তান ও হিন্দুস্তানের যে কোন একটিতে যোগদান করতে পারবে। বাংলার পূর্বাঞ্চলের জনগণের শতকরা ৯০ ভাগ আগেই সাধারণ নির্বাচনে পাকিস্তানের পক্ষে ভোট দিয়ে তাদের মতামত জানিয়ে দিয়েছিলেন। আসাম ও পাঞ্জাবে গণভোট হবার কথা ছিল। এই পর্যায়ে একটি কথা বলে রাখা দরকার যে, বাংলা এবং পাঞ্জাব বিভক্ত হতে চায়নি। কেননা উভয় প্রদেশই ছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ। তারা আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র হতে চেয়েছিল। কিন্তু ভারতীয় কংগ্রেস এতে রাজী হয়নি। তারা শুরু থেকেই-এর বিরোধিতা করেছে। প-িত নেহেরু ও মোহনলাল করমচাঁদ গান্ধী উভয়ে এর কট্টর বিরোধী ছিলেন। তাদের ভাষায়, “Division of India must mean division of Bengal and Punjab”  অর্থাৎ ভারতকে বিভক্ত করতে হলে অবশ্যই বাংলা ও পাঞ্জাবকেও বিভক্ত করতে হবে। তাদের স্বপ্ন ছিল বাংলা ও পাঞ্জাব বিভক্ত হলেই কেবলমাত্র স্বল্পকালের মধ্যে ভারতকে পুনরেকত্রিকরণ করা সম্ভবপর হবে। ১৯৪৭ সালের ২৩ মে নেহেরু কর্তৃক ত্রিপুরার কংগ্রেস সভাপতি আশ্রাফ উদ্দিনকে লেখা একটি পত্রে এ কথাটিই পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে। তার ভাষায়, “That is the way to have a united India soon after. If we have a united India straightway without such division that will of course be very welcome.” কিন্তু তাদের পরিকল্পনার বাস্তবায়ন অসম্ভব হয়ে পড়ায় তারা বাংলা ও পাঞ্জাবে ইতিহাসের নৃশংসতম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগিয়ে দিয়েছিলেন। গান্ধী এবং নেহেরুর অবদান এই দাঙ্গায় ছিল অপরিসীম যদিও গান্ধী পরবর্তীকালে মুসলমানদের প্রতি দরদ দেখাতে গিয়ে কপটতার আশ্রয় নিয়ে অহিংস নীতির অনুশীলনে নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন। নেহেরুর ভয় ছিল বাংলা যদি অখ- থাকে তাহলে হিন্দুদের ওপর মুসলমানদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং পরবর্তীকালে ভারতবর্ষের ওপর তার প্রভাব পড়বে। এজন্য তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিলেন যে, বাংলা যদি অখ- থাকে তাহলে হিন্দু স্বার্থ বিপন্ন হবে। কাজেই তাদের কল্যাণের জন্য প্রয়োজনে বাংলার প্রতিটি গ্রাম এমনকি পাড়াকেও ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত করতে হবে। অধুনালুপ্ত ছিনমহলগুলো তারই প্রমাণ বহন করছে। হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ গ্রাম ও এলাকাগুলো অবশ্যই ভারতের সাথে একীভূত হবে। হিন্দুদের অনুপ্রেরণায় সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এই বিভক্তিকে ত্বরান্বিত করেছে। প-িত নেহেরুর পরিকল্পনা অনুযায়ীই বাংলা বিভক্ত হয়েছে। রাজশাহী বিভাগের মালদহ, জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং ভারতের অংশ হয়েছে এবং দিনাজপুর জেলাকে দু’ভাগ করে পশ্চিম দিনাজপুর নামক একটি অংশ ভারতকে দিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও গ্রাম-পাড়াগুলোকেও ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত করে শত শত ছিটমহল বের করে ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বণ্টন করা হয়।

আবারো বলি, ১৯০৫ সালে মুসলমানদের কিছুটা উন্নতির কথা ভেবে এবং প্রশাসনিক সুবিধার জন্য ঢাকাকে রাজধানী করে পূর্ববঙ্গ ও আসামকে যখন প্রদেশ করা হলো তখন হিন্দুরা প্রচ-ভাবে ক্ষেপে যায়। তারা বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ ও বঙ্গমাতার অঙ্গচ্ছেদ মানি না আওয়াজ তুলে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ে। হিন্দুদের প্রবল বিরোধিতার মুখে বৃটিশ সরকার ১৯১১ সালে তা রদ করে দেয়। এই উপলক্ষে ইংল্যান্ডের রাজা ও ভারত সম্রাট দিল্লীতে এলে ডিএল রায় তাকে খোশ আমদেদ জানান এভাবে :

‘‘বাজুক শংখ উড়ুক নিশান 

বিবিধ বর্ণে সাজি

ভারতের রাজা ভারতের রাণী

ভারতে এসেছে আজি...

রবীন্দ্রনাথ লিখলেন-

‘‘জনগণ মন অধিনায়ক 

জয় হে ভারত ভাগ্য বিধাতা

তব শুভ নামে জাগে, 

তব শুভ আশিস মাগে

গাহে তব জয় গাথা

জনগণ মঙ্গলদায়ক জয় হে 

ভারত ভাগ্য বিধাতা।

 [চলবে]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ