ঢাকা, বুধবার 21 December 2016 ০৭ পৌষ ১৪২৩, ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নারায়ণগঞ্জবাসীকে অতীতের ঘটনাগুলো মনে রাখতে হবে

[তিন]

জিবলু রহমান : ২০ মে ২০১৪ প্রকাশ্য দিবালোকে জনবহুল স্থানে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান ও ফুলগাজী থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি একরামুল হক একরামকে গুলি করে ও পুড়িয়ে মারার ঘটনা ঘটেছে। একরাম হত্যার ঘটনায় ফেনীতে অভিযোগের আঙ্গুল উঠেছে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম হাজারীর দিকে। এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে জড়িত ও পরিকল্পনা করার দায়ে যাদের নাম এসেছে এবং যারা ধরা পড়েছে তারা সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গেই জড়িত। যদিও ফেনীর স্থানীয় বিএনপি নেতা মিনারের সংশ্লিষ্টতাও এ হত্যাকাণ্ডে রয়েছে বলে অভিযোগ আছে।

২১ মে ২০১৪ লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার করপাড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নূর হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরদিন সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের ২ নেতার রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যায়। নিহতরা হলেন-সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল মান্নান ভূঁইয়া ও রায়পুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবদুল মজিদ। এগুলোও দলীয় কোন্দলের ফল।

২২ মে ২০১৪ বগুড়ায় যুবলীগ কর্মী ফরহাদ হেসেন শিপলুকে (৩৫) গুলি করে হত্যা করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান এ জনপদে গত পাঁচ বছরে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের ৩১ নেতা-কর্মী খুন হয়েছেন। এর মধ্যে ২৯ জনই নিহত হয়েছেন দলীয় কোন্দলের কারণে।

২৪ মে ২০১৪ রাতে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু রায়হানকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

২৪ মে ২০১৪ সকালে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার সমুদ্রসৈকতের ইমামেরডেইল গ্রামে সাংবাদিকদের যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ ও ফেনীর লোমহর্ষক দু’টি হত্যাকাণ্ডের দায় সরকার এড়াতে পারে না। তাই সরকার এ ঘটনার সত্য উদঘাটনে ব্যস্ত। এই হত্যাকাণ্ড দু’টি মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। (সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো ২৫ মে ২০১৪)

নূর হোসেনের সঙ্গে ফোনালাপের কথা স্বীকার করেছিলেন নারায়ণঞ্জ-৪ আসনের সরকার দলীয় এমপি শামীম ওসমান। ২৩ মে সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা স্বীকার করেন। তবে নূর হোসেনকে আত্মসমপর্ণের পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। শামীম ওসমান বলেন, কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন কুমারসহ সাতজনকে অপহরণের পর যখন র‌্যাব কর্মকর্তাদের দায়ী করে বক্তব্য দেয়া হচ্ছিল তখন র‌্যাবের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমাকে হুমকি দিলেন। তিনি আমাকে বললেন, মাই র‌্যাঙ্ক ইজ মোর দেন জেনারেল এবং সে আমাকে থ্রেট করলেন, আমরা না বাঁচলে আপনারা বাঁচতে পারবেন না। শামীম ওসমান বলেন, নূর হোসেনের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি এটা অস্বীকার করছিনা। নূর হোসেন তার নিজের নম্বর থেকে ফোন করেনি। তিনি বলেন, আমি নূর হোসেনকে পালাতে নয়, আাত্মসমর্পণের পরামর্শ দিয়েছি। ২৯ এপ্রিল রাতে নূর হোসেন আমাকে ফোন করেছে। আমি তাকে আত্মসমর্পণ করানোর জন্য বুঝালাম। আমি তাকে বলেছি তোমার তো অনেক টাকা-পয়সা আছে। তুমি সিনিয়র আইনজীবীদের মাধ্যমে কোর্টে আত্মসমর্পণ কর। আমি তাকে আত্মসর্মপণের জন্য বললাম। বললাম তুমি যদি জড়িত না থাক ভাল। এডভোকেট ধর। তুমি সারেন্ডার করো। শামীম ওসমান বলেন, আর একটা ভয় ছিল ওকেও তো মেরে ফেলতে পারে। যেটা নজরুলের শ্বশুরের ভয় ছিল, তিনিও বলেছিলেন হোসেনকে জীবীত চাই। তাহলে সষ্যের ভিতরে ভূত কারা কারা সেটা বেরিয়ে আসবে। তিনি বলেন, এটা একটি গোয়েন্দা সংস্থার  রেকর্ড করা ফোনালাপ। কারণ টেলিফোন ট্র্যাকিং সাংবাদিকেরা করেন না, এটা করেন গোয়ান্দা সংস্থার লোকেরা। আমার ফোনও সবসময় ট্র্যাকিং করা হয়। এটা জেনেও আমি ফোনে কথা বলি। প্রকাশিত ফোনালাপের পুরো কথা এখানে নেই। আংশিক আছে, আংশিক নাই বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, আমার সঙ্গে ফোনে যখন নূর হোসেন কথা বলছেন, গোয়ান্দা সংস্থার লোকেরা জানতেন ওই সময় নূর হোসেন ধানমন্ডি-৪ নম্বর রোডে আছেন। এ সময় শামীম ওসমান পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, তারা (গোয়েন্দা) যদি জানতেন নূর হোসেন ধানমন্ডীতে আছেন, তাহলে তারা নূর হোসেনকে ধরলেন না কেন? তিনি বলেন, যারা ওই টেলিফোন আলাপের টেপ বাজারে ছেড়েছে তারা নিজেদের বাঁচানোর জন্যই তা করেছে। শামীম ওসমান বলেন, আমি আজ যা বলছি তাতে কাল আমি বেঁচে থাকতে নাও পারি। কিন্তু আমাকে কিছু কথা অবশ্যই বলতে হবে। তিনি বলেন, আমি একটুও ভাবতেও পারিনি সাত জন মানুষকে যারা তুলে নিয়ে গেছে তারা তাদের সবাইকেই খুন করবে। নূর হোসেন প্রসঙ্গে শামীম ওসমান বলেন, তার অবস্থান সম্পর্কে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জানতো, তারপরেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তিনি বলেন,  গ্রেপ্তারের দায়িত্ব আমার নয়। আমি কেবল ভয়েস রেইজ করেছিলাম। তিনি বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি হয়েও আমাকে যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে তাতে বুঝতে পারি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনপ্রতিনিধির অবস্থান কতটা দুর্বল। (সূত্র: দৈনিক মানবজমিন ২৪ মে ২০১৪)

নারায়ণগঞ্জে সাত খুননারায়ণগঞ্জে সাতজনকে অপহরণ ও খুনের ঘটনার সঙ্গে সাংসদ শামীম ওসমান ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেন জড়িত থাকতে পারেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছেন র‌্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক লে. কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মাদ। তবে এই হত্যাকাণ্ডে তাঁর নিজের বা র‌্যাব-১১-এর কারও জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন তিনি। [চলবে]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ