ঢাকা, বৃহস্পতিবার 22 December 2016 ০৮ পৌষ ১৪২৩, ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সুন্দরবনে কাঠ পাচারকারী চক্র আবারও বেপরোয়া

খুলনা অফিস : আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে গহীন সুন্দরবনের মূল্যবান কাঠ পাচারকারী সিন্ডিকেট সদস্যরা। সুন্দরবনের জীববৈচিত্রসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে সরকার প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ করে আসলেও পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের কয়েকটি স্টেশন অফিস ও টহল ফাঁড়ির কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহয়তায় প্রায়ই পাচার হচ্ছে সুন্দরবনের শতশত সিএফটি মূল্যবান সুন্দরী কাঠ। পাচার হয়ে আসা এ সকল কাঠ এখন বিভিন্ন হাটবাজারে প্রকাশ্যে বিক্রয় ও বিভিন্ন স-মিলে চিরাই করা হচ্ছে।
পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা গেছে, আইলার পরবর্তী সময় কয়েক বছর ধরে সুন্দরবনের সকল প্রকার কাঠ কর্তন, মধু সংগ্রহ এবং সুন্দরবন গহীনে সকল প্রকার মৎস্য আহরণের পাস পারমিট বন্ধ ছিলো। কিন্তু আবারও জেলেদের মৎস্য ও কাঁকড়া আহরণের পাস পারমিট দেয়ায় সুন্দরবনের কাঠ পাচারকারীরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শীত মওসুম শুরু হওয়ায় এ কাঠ পাচারকারীর সদস্যরা রাতের আঁধারে বনের ভেতর প্রবেশ করে বিভিন্ন মূল্যবান কাঠ কর্তন ও পাচারে মত্ত হন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের খুলনার নলিয়ার রেঞ্জের আওতাধীন সুন্দরবন সংলগ্ন বেশ কয়েকজন জানান, আইলার পরবর্তী অনেক বছর ধরে সুন্দরবনের কাঠ পাচার বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি সময়ে সুন্দরবনের কাঠ পাচারকারীরা কাঠ পাচারে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা জানান, এ সকল কাঠ পাচারকারী সদস্যরা বিশেষ করে সুতারখালী স্টেশন অফিসের কর্মকর্তা এবং পূর্ব বন বিভাগের ঢাংমারী  স্টেশন অফিসের দুই একজন কর্মকর্তা-কর্মচারী গোপন সখ্যতাসহ  ৩/৪টি টহল ফাঁড়ির কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহয়তায় প্রায় পাচার হচ্ছে সুন্দরবনের শত শত সিএফটি মূল্যবান কাঠ। বন মামলা দেয়ার ভয়ে ওই সব অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। আর এসকল কাঠ পাচারকারী সদস্যদের মধ্যে কেউ কেউ রাতের আঁধারে নদী পথে জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাট বাজারগুলোতে পাচার করছেন। তাছাড়া বড় মূল্যবান পিচ কাঠ বিভিন্ন স-মিলে উঠিয়ে রাতের আঁধারেই তা মিল মালিকের সাথে গোপন চুক্তি ভিত্তিক  চেরাই পূর্বক তা বিভিন্ন মোটা দামে বিক্রয় করে রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। কোন কোন স্টেশনের কর্মচারীরা স্টেশন কর্মকর্তার এ কাজে বাধা প্রদান করলে তাকে অন্যত্র বদলি করারও হুমকি দিচ্ছেন বলে প্রাপ্ত সূত্রে জানা গেছে।
এভাবে সুন্দরবনের কাঠ পাচার অব্যাহত থাকলে সুন্দরবনের সৌন্দর্য হ্রাসসহ এক সময়ে বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে সুন্দরবনের ঐতিহ্য বিলীন হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে উপজেলার কালিনগর বাজার, চালনা বাজার, বাজুয়া বাজার, বানিশান্তা বাজারগুলোতে দেশীয় কাঠের পাশাপাশি সুন্দরবনের সুন্দরী, কাঁকড়া, বাইন, কেওড়া, পশুরসহ নানা ধরনের কাঠ এখন বিক্রি হচ্ছে নানান দামে। ওই সকল বাজারের মধ্যে কিছু কিছু বাজারের স-মিলে রাতের আঁধারে চিরাই করা হচ্ছে সুন্দরবনের নানা ধরনের মূল্যবান কাঠ।
সুতারখালী স্টেশন কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটি সত্য নয়, আমি এ স্টেশনে যোগদানের পর অনেকে তাদের স্বার্থসিদ্ধি করতে না পারায় হয়তো তারাই এ ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার চালাতে পারে। অপরদিকে পূর্ব বনবিভাগের ঢাংমারী স্টেশন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকতা আবু সাঈদ আলী বলেন, বনবিভাগের কোন স্টেশন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কাঠ পাচারের সহয়তার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তা তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া কাউকেই সুন্দরবনে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ