ঢাকা, বৃহস্পতিবার 22 December 2016 ০৮ পৌষ ১৪২৩, ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

না.গঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচন স্থগিতের রিট কার্যতালিকা থেকে বাদ

স্টাফ রিপোর্টার : ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের জেলা পরিষদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে করা রিট কার্যতালিকা (আউট অব লিস্ট) থেকে বাদ দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে আইনজীবী জানিয়েছেন রিট আবেদনটি অন্য কোন বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে।
গতকাল বুধবার আবেদনটি শুনানির জন্য আদালতে উপস্থাপন করা হলে বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী এবং বিচারপতি এটিএম সাইফুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ তা কার্যতালিকা থেকে বাদ দেয়ার আদেশ দেন।
রিটকারী আইনজীবী ড. ইউনুছ আলী আকন্দ বলেছেন, অপর কোনো বেঞ্চে রিট আবেদনটি উপস্থাপন করা হবে।
গত ১৯ ডিসেম্বর জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক নারায়ণগঞ্জের বরইপাড়ার শাহজালাল ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের জেলা পরিষদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট করেন।
রিটে ২২ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের পর বিজয়ী মেয়র ও কাউন্সিলরদের অন্তর্ভুক্ত করে ভোটার তালিকা হালনাগাদ না করা পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত চাওয়া হয়েছে। এছাড়া জেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল, ভোটার তালিকা ও সীমানা নির্ধারণ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন কর্মকর্তাকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।  
আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ জানান, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন আগামী ২২ ডিসেম্বর। এই নির্বাচনে বিজয়ী মেয়র ও কাউন্সিলররাই আগামী ২৮ ডিসেম্বর জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটার হবেন। কিন্তু তাদেরকে বাদ দিয়ে গত মেয়াদে বিজয়ী মেয়র ও কাউন্সিলদেরকে জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটার করা হয়েছে। এই জন্য নির্বাচন কমিশনের করা ভোটার তালিকা ত্রুটিপূর্ণ। 
তিনি জানান, ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই বছরের ২৭ নবেম্বর বিজয়ীরা শপথ গ্রহণ করেন। ওই দিনই গেজেট হয়। ১ জানুয়ারি তারা দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অথচ মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র ও কাউন্সিলরদেরকে ভোটার তালিকায় রাখা হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ সদস্যদেরকে ভোটার করায় এই রিটটি করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৮ ডিসেম্বর পার্বত্য তিন জেলা বাদে বাকি ৬১ জেলায় জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আইন অনুযায়ী, প্রতিটি জেলায় স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জনপ্রতিনিধিদের ভোটে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা নির্বাচিত হবেন। প্রতিটি জেলায় ১৫ জন সাধারণ ও পাঁচজন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য থাকবেন। স্থানীয় সরকারের অন্যান্য স্তরে দলীয় মনোনয়নে চেয়ারম্যান বা মেয়র নির্বাচন হলেও জেলা পরিষদে তা হচ্ছে না। ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশের যে কোনো ভোটার জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন। তবে তিনি নিজে একজন জনপ্রতিনিধি হলে পদে থেকে প্রার্থী হওয়া যাবে না।
গত ১৫ ডিসেম্বর জেলা পরিষদ নির্বাচন কেন অবৈধ ও সংবিধান পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একইদিনে জেলা পরিষদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার দুই ইউনিয়নের নির্বাচনের ভোটার তালিকা দুই মাসের জন্য স্থগিত করেন আরেকটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ।
এরআগে গত ৪ ডিসেম্বর আরেকটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে ‘জেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল কেন অবৈধ হবে না’ জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে জেলা পরিষদ আইন- ২০০০ এর ৪(২) ধারা এবং জেলা পরিষদ আইন-২০১৬ সালের ১৭(৫) ধারা কেন বাতিল করা হবে না জানতে চেয়ে আরো একটি রুল জারি করেন হাইকোর্ট। ওই রিট আবেদনটি করেন আইনজীবী ড.ইউনুছ আলী আকন্দ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ