ঢাকা, রোববার 25 December 2016 ১১ পৌষ ১৪২৩, ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

তনু-মিতু-আফসানা-রিসাদের বিচার প্রত্যাশা

জিবলু রহমান : নানা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ১৯৪৬ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে ‘জাতিসংঘ’ ও ‘নারীর মর্যাদাবিষয়ক কমিশন’ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়ে সবশেষে ‘সিডও সনদ’ প্রণয়ন করেছে। সেসব ধাপ হচ্ছে-
১. ১৯৫২ সালে গৃহীত নারীর রাজনৈতিক অধিকার সনদ।
২. আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সঙ্গে সমন্বিতভাবে পদক্ষেপ নিতে উদ্যোগী হয়ে নারীর কাজের ক্ষেত্রে সমান অধিকার ও মজুরি বৈষম্য দূর করার সুপারিশ তৈরি করে যেন শ্রম সংস্থার সনদে সেসব যুক্ত করা হয়।
৩. ‘ইউনেসকো’র সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষার ক্ষেত্রে নারীর প্রতি বৈষম্যগুলো দূর করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
এসব প্রক্রিয়ার ১৬ বছর পরে বিশ শতকের ষাটের দশকের শুরুতে নারীর মর্যাদাবিষয়ক কমিশন উপলব্ধি করে যে কোনো পদক্ষেপেই নারীর প্রতি বৈষম্যগুলো দূর করা যাচ্ছে না। তাই ১৯৬৩ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ‘নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপের ঘোষণা’ দেয়া হয়। এই ঘোষণাও কার্যকর না হওয়ায় জাতিসংঘ ও নারীর মর্যাদাবিষয়ক কমিশনের সিদ্ধান্তক্রমে ১৯৭২ সালে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ‘সিডও সনদ’ প্রস্তুত করার লক্ষ্যে আলোচনার সূত্রপাত এবং ১৯৭৪ সালে আলোচ্য সনদের খসড়া তৈরি হয়। এই প্রক্রিয়ায় যেসব সদস্যরাষ্ট্র যুক্ত ছিল, তার এক-চতুর্থাংশ ছিল মুসলিমপ্রধান দেশ (সূত্রঃ Division of the Advancement of Women, United Nations। সালমা খান, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও নারীর সমতা, নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ প্রক্রিয়া ও বাস্তবায়ন, উইমেন ফর উইমেন, ২০০৩, পৃ. ৬)।
খসড়া সনদটির পূর্ণাঙ্গ রূপায়ণ ঘটে সাত বছর পরে ১৯৭৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অনুমোদিত হওয়ার পরে। জাতিসংঘ ১৯৪৯ থেকে ১৯৬২ পর্যন্ত নারীর বিশেষ অধিকারবিষয়ক বেশ কয়েকটি সনদ তৈরি ও অনুমোদন করেছিল। সেগুলো হচ্ছে-নারী পাচার ও পতিতাবৃত্তি রোধ সনদ (১৯৪৯); নারীর রাজনৈতিক অধিকার সনদ (১৯৫২); বিবাহিত নারীর নাগরিকত্ব অধিকার সনদ (১৯৫৭); বিয়ের (নারীর) ন্যূনতম বয়স, বিয়েতে (নারীর) সম্মতি ও বিয়ে নিবন্ধীকরণ সনদ (১৯৬২)।
কিন্তু এসব সনদ রাষ্ট্রসমূহ কর্তৃক চুক্তিবদ্ধ বা অনুমোদিত ও স্বাক্ষরিত না হওয়ায় মৌলিক মানবাধিকার সনদ হিসেবে বিবেচিত হয়নি। সিডও সনদ ১৯৭৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘে গৃহীত হওয়ার পর ১৯৮০ সালে সদস্যরাষ্ট্রের স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত হয়েছিল। ১৯৮১ সালের মধ্যে ২৭টি রাষ্ট্র অনুমোদন দিয়েছিল। যেসব দেশ ১৯৮১ সালের মধ্যে অনুমোদন দিয়েছিল, সেসব দেশ হচ্ছে-বার্বাডোস, বেলারুশ, ভুটান, কানাডা, কেপভার্ডে, কিউবা, ইকুয়েডর, মিসর, এল সালভাদর, এস্টোনিয়া, ইথিওপিয়া, গায়ানা, হাইতি, লাও পিপলস ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক, লাইবেরিয়া, মেক্সিকো, মঙ্গোলিয়া, নিকারাগুয়া, নরওয়ে, পাকিস্তান, পানামা, ফিলিপাইন, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রাশিয়া ফেডারেশন, রুয়ান্ডা, সেন্ট ভিনসেন্ট এবং গ্রেনাডা, শ্রীলঙ্কা ও উরুগুয়ে।
২৭টি রাষ্ট্র-এর সাথে বাংলাদেশ নামটি যুক্ত ছিল না। কারণ এদেশে প্রতিনিয়ত নারী নির্যাতন ঘটছে। বর্তমানে দেশে নারী নির্যাতন, নারী হত্যা ও ধর্ষণ ক্রমাগত বাড়ছে। এ সম্পর্কে দলমত নির্বিশেষে সব মানুষের সোচ্চার হওয়া এবং সম্মিলিতভাবে আন্দোলনে নেমে সরকারকে বাধ্য করা উচিত হলেও ছিটেফোঁটা আন্দোলন ছাড়া কিছুই পরিলক্ষিত হয় না। কেউ আন্দোলন করে  নারী নির্যাতন বন্ধ করার ব্যাপারে সব শৈথিল্য বর্জন করে কঠোর আইন প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন করিয়েছেন তার দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া যাবে না। এখনো তো ধর্ষণ-সংবাদের সুনামি চলছে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বাসে-মিনিবাসে-ট্রাকে-স্কুলে-মাঠে-পাহাড়ে ধর্ষণ-সংবাদ পাচ্ছি।
দেশে কয়েক বছর পরে পরেই ধর্ষণের ভয়াবহতা বেড়ে যায়। সাথে রাজধানীসহ সারা দেশেই নারী নির্যাতনের বিভিন্ন ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। অপহরণের পর নারীদের ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। বেড়েছে প্রতিশোধ হিসেবে ধর্ষণের ভয়াবহ ঘটনা। ধর্ষণের চিত্র মুঠোফোনে ধারণ করে তা ইন্টারনেটে ছড়ানো, হুমকি-ধমকির শিকার হচ্ছে চার বছরের শিশুসহ চল্লিশোর্ধ নারীও। পত্রপত্রিকা খুললে প্রায় প্রতিদিনই ধর্ষণের খবর দেখা যায়। প্রলোভন দেখিয়ে বন্ধুর বাসায় নিয়ে কোনো নারীকে গণধর্ষণ, সেই সব ছবি মুঠোফোনে ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা বেড়েই চলেছে।
খবরের কাগজে আমরা ধর্ষণের যে চিত্র পাই, বাস্তবে তার পরিসংখ্যান আরও উদ্বেগজনক। গ্রামেগঞ্জে আজকাল ‘ধর্ষণ’ই যেন বিনোদনের উপাদানে পরিণত হয়েছে। ঘরে ঘরে নিকটাত্মীয় কর্তৃকও অনেকে ধর্ষিত ও যৌন নিপীড়নের শিকার হন। বিশেষ করে শিশুরা। মেয়ে শিশুর বাইরে সুদর্শন ছেলে শিশুরা আক্রান্ত হয়। আবাসিক হল-হোস্টেলে সমলিঙ্গীয় পর্যায়েও জোরপূর্বক যৌন আচরণের ঘটনাও রয়েছে। সাধারণত গ্রামেগঞ্জে, বস্তিসহ দরিদ্র অঞ্চলে ধর্ষণের ঘটনার খবর প্রকাশিত হয়। একটা মেয়ে যখন লেখাপড়া করতে বা কাজের খোঁজে শহরে আসে, তখন সে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে পড়ে। এ ক্ষেত্রে অনেকে সহযোগিতার আড়ালেও তাকে ধর্ষণ করে বা যৌনতায় আবদ্ধ হতে বাধ্য করে। এসবই অন্যায়। ফৌজদারি অপরাধ।
এর বাইরে অফিস-আদালতে, কর্মস্থলে, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে থাকে। শিশু-কিশোরী ধর্ষণের ঘটনা বেশি ঘটে পরিবারে, নিকটাত্মীয় দ্বারা। এসব ঘটনার অনেক কিছুই প্রকাশ পায় না। একইভাবে শিক্ষিত মহল, মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্তের মধ্যেও অনেক দুর্ঘটনা রয়েছে যা প্রকাশ পায় না।
পুলিশের অপরাধ পরিসংখ্যানে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের বিভাগ ভিত্তিক পরিসংখ্যান ঠাঁই পেলেও তাতে নারী ধর্ষণের মতো এমন একটি গুরুতর অপরাধের নামাঙ্ক নেই। পুলিশের খাতায় ওই বিভাগটির নামকরণ হয়েছে ‘উইমেন এন্ড চাইল্ড রিপ্রেশান’। সেই বিভাগের পরিসংখ্যানেই তুলে ধরা হয় সারা দেশের নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলো। কিন্তু তাতে ধর্ষণের ঘটনাগুলো আলাদা করে চিহ্নিত করা নেই। ফলে বোঝা যায় না ধর্ষণের পরিসংখ্যান।
বিশ্লেষকদের মতে, ধর্ষণের এই ব্যাপকতার পিছনের অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে, ধর্মীয় মূলবোধ মেনে না চলা এবং অপরাধীর শাস্তি না পাওয়া। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নির্লিপ্ততা ও তাদের তৎপরতাও দায়ী। ধর্ষণ আগেও ছিল এখনও আছে। আগে গণমাধ্যমে প্রকাশ কম হতো। এখন বেশি হচ্ছে। লুকানোর প্রবণতা থাকায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সঠিক হিসাবটা পাচ্ছি না। কেন জানি না এত বেশি ধর্ষণের ঘটনার পরও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ বিষয়টাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। এখনকার এই যুগেও মামলা নিতে অস্বীকার করে তারা।
সর্বত্র অনিশ্চয়তার মধ্যেও পথে, কাজে, উৎসবে, শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে; সেটাই নারীর শক্তি, আমাদের শক্তি। উন্নত দেশে মেয়েরা পিছিয়ে থাকলেও ন্যূনতম অধিকারগুলো লাভ করেছে। পুরুষদের সমকক্ষ তারা হতে পারেনি। কিন্তু সামাজিক অমর্যাদার হাত থেকে তারা মোটামুটি রক্ষা পেয়েছে। উন্নয়নশীল দেশের মেয়েদের ভাগ্য এক্ষেত্রে এখনো খারাপ। তাদেরকে প্রায় অশিক্ষিত রেখে অল্প বয়সেই বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের আগেই তাদের কেউ কেউ বখাটে ছেলেদের হাতে লাঞ্ছিত হয়। এই লাঞ্ছনা চরম আকার নেয় যখন তাদের এসিডদগ্ধ হতে হয় ছেলেদের কুপরামর্শে রাজি না হওয়ার জন্য। বিয়ের পরও নিম্নবিত্ত এমন কি মধ্যবিত্ত শ্রেণির মেয়েরা স্বামীর ঘরে স্বস্তিতে থাকতে পারে না। তাদেরকে যৌতুকের বলি হতে হয়। যারা শিক্ষা লাভ করে চাকরি পায় তাদের অনেকেই কর্মস্থলে পুরুষ সহকর্মীদের যৌন হয়রানির শিকার হয়।
ইভটিজিং এবং তরুণী গৃহপরিচারিকাকে নির্যাতন ও হত্যা এখনও আমাদের একটি বড় সামাজিক ব্যাধি। তাই নারী নির্যাতনের সমস্যাটিকে সামগ্রিক অর্থে গ্রহণ করে তার প্রতিকারের জন্য সামাজিক চেতনা ও শক্তিকে জাগ্রত এবং সক্রিয় করতে হবে। সরকারের ভূমিকা সেখানে হবে নারীদের রক্ষার জন্য কঠোর আইন প্রণয়ন এবং তার বাস্তবায়ন। এই দাবিতেই দলমত নির্বিশেষে আমাদের সোচ্চার হওয়া দরকার। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা ওঠানোর চেষ্টা করা হলে তা নারীসমাজের কল্যাণের বদলে অকল্যাণই ডেকে আনবে।
আমাদের রাজনীতি, সামাজিক ও আইনি ব্যবস্থা ধর্ষককে সুরক্ষা দেওয়ার সংস্কৃতি লালন করে চলেছে। পুলিশ যখন ২০১৫ সালের ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নারী নির্যাতনকারী বখাটেদের ধরল না, অথবা পুলিশের ভাষায়, কারও সহায়তা না পাওয়ায় ধরতে পারল না, তখন সারা দেশের মানুষ প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠল। কারণ ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা তো কিছু সাহস দেখিয়ে অন্তত একজন নির্যাতনকারীকে পুলিশের হাতে দিয়েছিলেন। কিন্তু সে ‘পালিয়ে’ গেল! তারপর প্রতিবাদ করতে গেলে ছাত্র-তরুণদের বিভিন্ন সময়ে পুলিশের লাঠিপেটা খেতে হয়েছে।
পয়লা বৈশাখের উৎসবে হামলাকারী যৌন-সন্ত্রাসীদের ধরতে ব্যর্থ কিংবা অনিচ্ছুক কর্তৃপক্ষ কোনো রকম লজ্জার ধার না ধেরে, উল্টো বুক ফুলিয়ে ২০১৬ সালের ১৪ এপ্রিল-এর আগে সমাধান দিয়েছেন উৎসব সংকুচিত করে। তাহলে তাঁদের দরকার কী? তাঁরা কখন কোথায় কাদের নিরাপত্তা দিতে সর্বজনের অর্থ ওড়াচ্ছেন?
২০১৬ সালে ছাত্রী ও থিয়েটারকর্মী সোহাগী আক্তার তনু হত্যার প্রতিবাদে স্কুল-কলেজ, পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেভাবে প্রতিবাদে সরব হয়েছিল, সেটা আমাদের ভরসা দেয়, এবার বুঝি আমরা জেগে উঠলাম আর কেউ ঘুম পাড়িয়ে রাখতে পারবে না।
তনু থেকে আফসানা, ত্বকী থেকে রংপুরের ওই নুরুন্নবী পর্যন্ত তাই আমরা দুটি পক্ষ দেখি: একদল হত্যাযোগ্য, খরচযোগ্য, বিচারহীন হত্যার শিকার এবং আরেক দল বিচারের ঊর্ধ্বে থাকা মানুষ। খুনির সংখ্যা অল্প, শিকারের সংখ্যাই বেশি। এই খুনিরা যদি কোনো না কোনোভাবে ক্ষমতার সিঁড়ির ওপরের দিকের লোক বা প্রতিষ্ঠান হয়, কিংবা হয় তাদের মদদপুষ্ট, তাহলে তাদের বিচারের কাঠগড়ায় এনে শাস্তি দেওয়া কঠিন। আফসানার পরিবার অভিযোগ করেছে, রাজধানীর তেজগাঁও কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতা রবিন ও তাঁর বন্ধুরা এই হত্যায় জড়িত। আফসানার ভাইয়ের অভিযোগ, ‘আমি তাকে (রবিন) আমার বোনকে হত্যার চার দিন পরেও ফেসবুকে পোস্ট দিতে দেখেছি’ (সূত্রঃ দ্য ডেইলি স্টার ২০ আগস্ট ২০১৬)।
এমনকি তারা আফসানার পরিবারকে ফোন করে হুমকিও দিচ্ছে। পুলিশ এখনো কিছু জানে না, কাউকে গ্রেফতারও করে না। অতি সম্প্রতি স্কুল ছাত্রী রিসা একজন দর্জির হাতে স্কুলের নামনেই খুন হলো। তনু, মিতু ও আফসানাা। নিহত হওয়ার পরিস্থিতি আলাদা, খুনিদের পরিচয়ও হয়তো। কিন্তু কী মিল তাঁদের সবার বেলায়। খুনিরা ধরা পড়ে না, তাদের নাম-পরিচয়ও জানা যায় না। পুলিশের ভাষায় তারা ‘অজ্ঞাতনামা’ অপরাধী। কিন্তু রাষ্ট্রের কাছেও কি তারা অজ্ঞাতনামাই থেকে যাবে?
অর্থনৈতিক বণ্টনসহ নারীর প্রতি নানা অবিচারের কাঠামো যে ব্যবস্থায় নিহিত, সেখানে নির্যাতন অনিবার্য। এই সংস্কৃতিকে প্রত্যাখ্যান করে নতুন সংস্কৃতি নির্মাণ করা সম্ভব না হলে এক-আধটি বিচার নামের প্রহসন দিয়ে এই সর্বমাত্রিক সহিংসতাকে দমন করা যাবে না।
এ দেশে সুসজ্জিত আইন আছে, প্রশাসন আছে, আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে, সুশীলসমাজ আছে, জাগ্রত চেতনার রাজনীতিক আছে, নেই কেবল দায়বদ্ধতা। নেই ব্যক্তি-গোষ্ঠীর স্বার্থের ঊর্ধ্বে অবস্থান। আর সে কারণেই ইয়াসমিন, তনু, রিসারা নির্মমভাবে নির্যাতিত হয়, তাদের এ জগৎ ছেড়ে যেতে হয়।
বিবেকহীনতার চরম স্তরে পৌঁছে মানুষ বিভিন্ন অন্যায়কর্মে লিপ্ত হচ্ছে। এখনই প্রকৃত সময় নারীদের সচেতন হওয়ার, সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার, ঐক্যবদ্ধভাবে এমনভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার যেন অপরাধীরা অপরাধ করতে ভয় করে এবং বিবেক দ্বারা চালিত হয়ে বুদ্ধিবৃত্তিকে জাগ্রত করে অন্যায়ের পথ থেকে ন্যায়ের পথে চলে আসে।
১৯৮৩-৮৪ সালে এরশাদের সামরিক শাসনের সময় মেয়েদের বিভিন্ন স্কুলের আশপাশে বখাটেদের অত্যাচার বেড়ে উঠেছিল। সে সময় এলাকার ছাত্র-তরুণ-যুবকেরা কমিটি গঠন করে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। এলাকায় এলাকায় সেই কমিটির উদ্যোগে সমাবেশ করে বখাটেদের হুঁশিয়ার করে দেয়া হয়। তখন আমাদের হাতে লাঠি ছিল না, কিন্তু বুকে ছিল বখাটে দমনের দৃঢ় প্রত্যয়। সেটা টের পেয়ে সেদিন বখাটেরা কেটে পড়েছিল। মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার সাহস তারা হারিয়ে ফেলে। এ ধরনের সামাজিক প্রতিরোধ থানা-পুলিশকেও সহায়তা করে। বখাটেদের কাছে একটা বিপদসংকেত যায়। তারা বুঝতে পারে, মেয়েদের নির্যাতন করে ছাড় পাওয়া যাবে না।
[email protected]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ