ঢাকা, সোমবার 26 December 2016 ১২ পৌষ ১৪২৩, ২৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

তুর্কি সীমান্তে নতুন রাষ্ট্র গঠনকে মেনে নেয়া হবে না -এরদোগান

২৫ ডিসেম্বর, রয়টার্স/আনাদোলু : সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে একটি নতুন রাষ্ট্র গঠনকে তুরস্ক কখনো অনুমোদন করবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান।
শনিবার ইস্তাম্বুলে তুর্কি পররাষ্ট্র  অর্থনৈতিক সম্পর্ক বোর্ডের এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।
এরদোগান বলেন, ‘এই ধরনের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে আমরা কখনো অনুমোদন করতে পারি না। যদিও তা প্রতিষ্ঠার জোর প্রচেষ্টা চলছে।’
এছাড়াও, তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত প্রদেশের নিরাপত্তার জন্য  সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে একটি ‘সন্ত্রাস মুক্ত নিরাপদ জোন’ দেখতে চাওয়ার ইচ্ছার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
সিরিয়ার সঙ্গে দেশটির তিনটি সীমান্ত প্রদেশের কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই এই ধরনের কথা বলে আসছি। এই ইস্যু মোকাবিলা না করা হলে গাজিয়ানটেপ প্রদেশসহ সীমান্ত এলাকার তিনটি প্রদেশ সবসময় হুমকির মুখে থাকবে।’
 সেখানে একটি সরকারি কমপ্লেক্স উদ্বোধনের পর এরদোগান তুর্কি সেনা সমর্থিত ‘ফ্রি সিরিয়ান আর্মির’ (এফএসএ) উদ্দেশ্য বক্তব্য রাখেন।
তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘ফ্রি সিরিয়ান আর্মি সিরিয়ার মধ্যপন্থী বিরোধীর প্রতীক। সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে তাদের কোন সম্পর্ক নেই। তারা (ফ্রি সিরিয়ান আর্মি) ন্যায় প্রতিরোধ আন্দোলন করছে। তারা তাদের সীমান্ত রক্ষার চেষ্টা করছেন।’
পূর্ব আলেপ্পো থেকে বেসামরিক নাগরিক ও বিরোধী যোদ্ধাদের উদ্ধার কার্য প্রসঙ্গে এরদোগান বলেন, ‘আমরা আলেপ্পো থেকে আমাদের ৪৫,০০০ ভাইদের উদ্ধার করেছি  প্রয়োজন হলে আমরা তাদের আমাদের অঞ্চলে নিয়ে আসব।’
এদিকে প্রায় ১০ হাজার সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে তদন্ত করছে তুর্কি কর্তৃপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারনেটে সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে তদন্ত করা হচ্ছে বলে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
শনিবার তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লডাই ‘সংকল্পের সঙ্গে’ চালানো হচ্ছে। তুরস্কে বিভিন্ন সময়ে ফেসবুক ও টুইটার বন্ধ করা হয়। ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক সংস্থার দাবি, তুরস্কে কেউ যেন প্রপাগাণ্ডা্ না ছড়াতে পারে, তাই ইন্টারনেটে নজরদারি বাড়িয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে দেশটির কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি স্বীকার করেনি। গত সোমবার তুরস্কে রুশ রাষ্ট্রদূতকে গুলী করে হত্যার পরও ইন্টারনেট সেবায় বিঘ্ন ঘটে।
তুর্কি সরকারের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) ছাড়াও কুন্দি যোদ্ধা ও সশস্ত্র বামপন্থীরা যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।
গত ছয় মাসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়া’ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পর্কে সমালচনা করার অভিযোগে ৩ হাজার ৭১০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৬৫৬ জনকে বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় এবং ৮৪ জনকে এখনও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুলাইয়ে ক্যু প্রচেষ্টার পর থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারি হস্তক্ষেপের মাত্রা বেড়েছে। তখন থেকে ১ লাখেরও বেশি মানুষকে চাকরিচ্যুত অথবা বহিষ্কার করা হয়েছে। ১৫০টি সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ১৪০ জন সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই ক্যু প্রচেষ্টার জন্য তুর্কি কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত ইসলামি তাত্ত্বিক ফেতুল্লাহ গুলেনকে দায়ী করে থাকে। সর্বশেষ রুশ রাষ্ট্রদূতের হত্যাকাণ্ডের পরও একে গুলেনপন্থীদের কাজ বলে উল্লেখ করেছিল তুর্কি সরকার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ