ঢাকা, সোমবার 26 December 2016 ১২ পৌষ ১৪২৩, ২৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রায়পুরার এমপি রাজু নিলক্ষায় অবরুদ্ধ পুলিশের সহায়তায় এলাকা ত্যাগ

নরসিংদী সংবাদদাতা : হোন্ডা-গুন্ডা নিয়েও রায়পুরার এমপি ও সাবেক মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু দাঙ্গা বিধ্বস্ত এলাকা নিলক্ষায় প্রবেশ করে এক ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পর রায়পুরা থানা পুলিশের সহযোগিতায় নিলক্ষা ছেড়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন। তার উপস্থিতিতেই নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের লাঠিয়াল সর্দার রাজিব ও হক চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে দাঙ্গা শুরু হয়েছে। দাঙ্গার শুরুতেই কাউয়াবাড়ির ৫টি ঘরে, শহির বাড়ির ৩টি ঘরে এবং আমিরাবাদ গ্রামের ২টি বাড়িতে অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ ও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘণ করে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী ও জেলা পরিষদের সদস্য প্রার্থী রাজিব আহমেদের পক্ষে ভোট চাইতে গেলে রোববার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুর রহমান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রোববার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রায়পুরার এমপি ও সাবেক মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু, রায়পুরা উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, রায়পুরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাদেক চেয়ারম্যান, আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন খান, হাইরমারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক বাবলার নেতৃত্বে বির্তকিত লাঠিয়াল সর্দার ও জেলা পরিষদের সদস্য প্রার্থী রাজিব আহমেদের জন্য ভোট চাইতে চরাঞ্চলের দাঙ্গা বিধ্বস্ত এলাকা নিলক্ষায় যায়। এসময় এমপির গাড়ি বহরকে নিরাপত্তা দিতে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম এবং নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তার সংগে ছিল। এছাড়া এমপির দুই শতাধিক সমর্থক শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে এমপির গাড়ি বহরের সামনে শ্লোগান দিতে দিতে নিলক্ষার হরিপুর গ্রামের সহি মেম্বারের বাড়ির সামনে যায়। এ সময় হয় চেয়ারম্যানের সমর্থকরা ভেবে নেয় এমপির প্রতিপক্ষ নেতৃত্বে তাদের উপর আক্রমণ করতে এসেছে এবং রাজিবের সমর্থকরা ভেবে নেয় হক চেয়ারম্যানের লোকেরা এমপির বাড়ি বহরে হামলা করেছে। এ ধারণা থেকে দুপক্ষের মধ্যে দাঙ্গা শুরু হয়। দাঙ্গা শুরু হলে রাজিবের সমর্থনে আসা শতাধিক হোন্ডা বহর পালিয়ে যেতে শুরু করে। এসময় হক চেয়ারম্যানের সমর্থকরা ৪টি হোন্ডা রেখে দেয়। পরে উপায়ন্তর না দেখে এমপি রাজু পুলিশের সহায়তায় নেতৃবৃন্দকে নিয়ে দড়িগাঁওয়ের ছক্কার মোড়ে আশ্রয় নেয়। সেখানে দীর্ঘ এক ঘন্টার অধিক সময় তিনি অবরুদ্ধ ছিলেন বলে এলাকাবাসী সূত্র জানায়। সেখানে পূর্ব থেকে রাজিব আয়োজিত ভোজসভায় অংশগ্রহণ শেষে বেলা ২টার দিকে এমপি রাজু নেতৃবৃন্দকে নিয়ে এলাকা ছেড়ে আসতে বাধ্য হন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দাঙ্গা চলছিল।
উল্লেখ্য যে, গত ১৮ নবেম্বর থেকে নিলক্ষা ইউনিয়নের ৪টি গ্রামে পুলিশ সুপারের লিখিত অনুরোধে নরসিংদী জেলা প্রশাসক ১৪৪ ধারা জারী করেন। এরপর থেকে ঐ এলাকায় দু’বার ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে দাঙ্গা সংঘটিত হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ