ঢাকা, সোমবার 26 December 2016 ১২ পৌষ ১৪২৩, ২৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নাঙ্গলকোটে মাদরাসা অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত ও প্রভাষককে পিটিয়ে আহত করেছে ছাত্রলীগ নেতা

কুমিল্লা দক্ষিণ সংবাদদাতা : কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার হাঁপানিয়া আলিম মাদরাসার অফিস কক্ষে অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করার সময় প্রতিবাদ করায় মাদরাসা ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে ওই মাদরাসার আরবি প্রভাষক মাওলানা ইসমাইল হোসেনকে পিটিয়ে আহত করেছে স্থানীয় এক ছাত্রলীগ নেতা। ওই ছাত্রলীগ নেতা ওমর ফারুক একই মাদরাসা থেকে আলিম পরীক্ষার্থী বলে জানা গেছে। গুরুতর আহত শিক্ষক ইসমাইল হোসেনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে শনিবার রাতে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত ও শিক্ষককে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় অভিযুক্ত ওমর ফারুক ওই উপজেলার মক্রবপুর ইউনিয়নের হাঁপানিয়া গ্রামের খোরশেদ আলমের পুত্র। এ ঘটনায় মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নেছার উদ্দিন বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় অভিযোগ দাখিল করেন। পরে শনিবার দিবাগত রাতে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা ওমর ফারুকের পিতাকে আটক করে পুলিশ।
মাদরাসা শিক্ষক ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার হাঁপানিয়া গ্রামের খোরশেদ আলমের পুত্র ও হাঁপানিয়া আলিম মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছাত্রলীগ নেতা ওমর ফারুক শনিবার সকালে টিপু সুলতান নামে তার এক সহপাঠীর আলিম পরীক্ষার ফরম ফিলাপের জন্য মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নেছার উদ্দিনের কাছে আসেন। এ সময় ওমর ফারুক সকল শিক্ষকের সামনে মাদরাসা অধ্যক্ষের সাথে অসৌজন্যমূলক ও অশ্লীল ভাষায় কথা বলে তাকে লাঞ্ছিত করতে থাকে। এক পর্যায়ে ওই মাদরাসার আরবি প্রভাষক মাওলানা ইসমাইল হোসেন এ ঘটনার প্রতিবাদ জানায়। পরে সন্ধ্যায়  প্রভাষক ইসমাইল হোসেন বাড়ি ফেরার পথে গতিরোধ করে তার পিতা খোরশেদ আলমসহসহ ছাত্রলীগ নেতা ওমর ফারুক ইসমাইল হোসেনকে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। এ সময় শিক্ষক ইসমাইল হোসেনের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। স্থানীয়রা আরো জানান, ওমর ফারুক নিজেকে ছাত্রলীগের নেতা এবং ওই মাদরাসা ছাত্রলীগ সভাপতি হিসেবে এলাকায় পরিচয় দিয়ে আসছে। যার ফলে সে কাউকেই তোয়াক্কা ও মান্য করে না।
আহত শিক্ষক ইসমাইল হোসেন বলেন, একজন ছাত্র হয়ে অধ্যক্ষের সাথে অশ্লীল ভাষায় কথা বলছে। আমি একজন শিক্ষক হয়ে এটা মেনে নিতে পারিনি। যার কারণে শুধু এ ঘটনার প্রতিবাদ করেছি। এটাই আমার অপরাধ। আর এই অপরাধের কারণে ছাত্র ও তাঁর বাবা মিলে আমাকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নেছার উদ্দিন বলেন, ভাবতে অবাক লাগে এ ধরনের বেয়াদব ছাত্রকে আমরা পড়িয়েছি। তিনি আরো বলেন, ওই ছাত্র শুধু আমার সাথে খারাপ আচরণ এবং মাওলানা ইসমাইল হোসেনকে পিটিয়ে আহত করেনি, সে পুরো শিক্ষক জাতির ওপর হাত তুলেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের জন্য লিখিত ভাবে আইনের আশ্রয় নিয়েছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ