ঢাকা, মঙ্গলবার 27 December 2016 ১৩ পৌষ ১৪২৩, ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আশুলিয়ায় খুলে দেয়া হয়েছে ৫৯টি কারখানা

স্টাফ রিপোর্টার : আশুলিয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার পাঁচদিন পর ৫৯টি কারখানা বিজিএমই-এর নির্দেশে খুলে দেয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল থেকে শ্রমিকরা দল বেধে কারখানায় প্রবেশের পর কাজ শুরু করেছে। টানা পাঁচদিন বন্ধ থাকার পরে কারখানাগুলো খুলে দেয়ায় শ্রমিকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। 

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান জানান, সকাল থেকে কারখানাগুলো খুলে দেয়ার পরে শ্রমিকরা কারখানায় প্রবেশ করে উৎপাদন শুরু করে। এখন পর্যন্ত কোনো কারখানায় অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানাগুলোর সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর মহাসড়কে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে।

এদিকে কয়েকটি কারখানার মালিকরা জানিয়েছেন, সকাল থেকে শ্রমিকরা কারখানায় প্রবেশ করে উৎপাদন শুরু করেছে। কয়েকদিন বন্ধ থাকার পরে বায়ারদের শিফমেন্টের কাজের একটু দেরি হলেও তারা দ্রুত কাজ করে তা পুষে উঠতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

এ ব্যাপারে আশুলিয়া শিল্প পুলিশের পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিজিএমইর নির্দেশে সকাল থেকে আশুলিয়ার সব পোশাক কারখানা খুলে দেয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে শ্রমিকরা সকাল থেকে কাজে যোগ দিয়েছে। সকালে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে পোশাক কারখানার শ্রমিকরা দল বেধে কারখানায় প্রবেশ করেছে। কারখানায় প্রবেশের পর তারা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের উৎপাদন কাজ শুরু করে। দুপুর পর্যন্ত কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়াও বিভিন্ন কারখানার ছাঁটাইকৃত শ্রমিকরা কারখানার সামনে আসলেও তারা বাড়ি ফিরে গেছে।

গত ২২ ডিসেম্বর থেকে আশুলিয়ায় বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে বেশ কিছু পোশাক কারখানায় শ্রমিকরা কর্মবিরতি শুরু করে। কয়েকদিনের ব্যবধানে শ্রমিকদের এ বিক্ষোভ ওই এলাকার অর্ধশতাধিক কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। অব্যাহত শ্রমিক অসন্তোষের মুখে বন্ধ হয়ে যায় ৫৯টি পোশাক কারখানা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য মন্ত্রী, পোশাক মালিক ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দফায় দফায় বৈঠক করেন। এরপর প্রতিটি পোশাক কারখানার সামনে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ। বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর মহাসড়কে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়। 

এরই জের ধরে বেশ কিছু শ্রমিক ছাটাই করে কারখানা কর্তৃপক্ষ। তাদের মধ্যে শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় ফাউন্টেন, এনআরএন, দি রোজ ড্রেসেস, উইন্ডি গ্রুপ, হা-মীম গ্রুপ কারখানা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের পক্ষ থেকে মোট সাতটি মামলা দায়ের করা হয় আশুলিয়া থানায়। এছাড়াও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরিতে সহায়তা ও শ্রমিকদের উস্কানি দেয়ার অভিযোগে পুলিশের দুটি দায়ের করা মামলায় সাংবাদিক, বিএনপি চেয়ারম্যান ও শ্রমিক নেতাসহ এ পর্যন্ত ২৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ