ঢাকা, মঙ্গলবার 27 December 2016 ১৩ পৌষ ১৪২৩, ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নির্যাতিত রোহিঙ্গা ও আমরা

আদম মালেক : রোহিঙ্গা নিধন চলছে। নাফ নদীতে ভাসছে লাশ। লম্বা হচ্ছে লাশের মিছিল। জানাযা ছাড়াই দলে দলে পালিয়ে যাচ্ছে লাশের স্বজন। লাশের কাছেও যেতে পারছে না বিশ্বমোড়ল। লাশ দেখতে গিয়ে ফিরে গেল জাতিসংঘ। বলে গেল অল্প আঘাতেই অল্পসংখ্যক প্রাণ হারাল। গোপন করল গণহত্যার কথা। আড়াল করল রোহিঙ্গাদের গণকবর। তাদের সমর্পণ করল হত্যাকাণ্ডের ক্রীড়ানকদের পদতলে। এদেরই বানিয়ে গেল গণকবরের দ্বাররক্ষী। গত ৯ অক্টোবর থেকে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিম নির্মূল অভিযানে নেমেছে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী বার্মার জাতীয় উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চির প্রশাসন । এ পরিস্থিতিতে মিয়ানমার সফরে যান জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান কমিশন। ঢুকতে পারেননি চরম নির্যাতনকবলিত এলাকায়।  রাখাইন মুসলিমদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে ৪ রোহিঙ্গা মুসলিমকে ধরে নিয়ে যায় সেনাবাহিনী। ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করা সম্ভব হয়নি আনানের পক্ষে। তবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত সহিংসতাকে তিনি গণহত্যা বলতে নারাজ। তিনি বলেন, সেখানে উত্তেজনা আছে, ভয় আছে, আছে অবিশ্বাস। উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ ভয়ের মধ্য আছে। সেখানে যুদ্ধ চলছে। কিন্তু আমি বিষয়টিকে সেদিকে নিয়ে যেতে চাইনা অন্যরা যা করছেন। এজন্য তিনি পর্যবেক্ষকদের গণহত্যা শব্দটি ব্যবহারে খুবই সতর্ক থাকার উপদেশ দেন। এভাবে তিনি এড়িয়ে গেলেন রোহিঙ্গা নির্যাতনের ভয়াবহতা।  প্রকাশ করেননি সভ্রমহারা রোহিঙ্গা নারীর অপমানের যন্ত্রণা। দেখাতে চাননি বর্মী সেনা কর্তৃক দুগ্ধপোষ্য রোহিঙ্গা শিশুকে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপের বীভৎসতা। তাঁর বর্ণনায় উঠে আসেনি বর্মী সেনার আগুনে দগ্ধ রোহিঙ্গাদের হাজার হাজার ঘরবাড়ির পোড়া চিত্র। তিনি বেমালুম অস্বীকার করেন পলাতক রোহিঙ্গাদের, তাদের পোড়া ভিটামাটিতে পুনরায় ঘর তুলতে বর্মী সেনাদের বাধা দানের কথা। তিনি যেমন সত্য গোপন করেছেন তেমনি সৃষ্টি করেছেন বিভ্রান্তি। তিনি উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয়ের কথা বললেও আমরা এখনও শুনিনি রোহিঙ্গাদের ভয়ে কোন বৌদ্ধ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। আমাদের নজরে আসেনি কোন রোহিঙ্গা পুরুষের কাছে কোন বৌদ্ধ তরুণীর সম্ভ্রম হারানোর আর্তনাদ। তবুও কফি আনান বিপন্ন রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি আগ্রাসী বৌদ্ধদের ভীত সন্ত্রস্ত হওয়ার কাল্পনিক ছবি অঙ্কন করে বিশ্ববাসীকে বিভ্রান্ত করতে চাইছেন। তিনি বলছেন, সেখানে যুদ্ধ চলছে। আমরাতো সেখানে কোন যুদ্ধ দেখতে পাচ্ছি না। যুদ্ধ হলেতো উভয়পক্ষের মধ্যে রেহিঙ্গাদের পাশাপাশি বৌদ্ধদেরও ব্যাপক ধ্বংসলীলা সাধিত হওয়ার কথা।  সেখানে কোন বৌদ্ধের বাড়িঘরে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়া যায়নি। আমরা দেখতে পাচ্ছি রোহিঙ্গাদের ওপর বার্মিজদের একচেটিয়া নির্যাতন। এই একচেটিয়া নির্যাতনকে কফি আনানের  যুদ্ধ  ঘোষণা সত্যের অপলাপ ছাড়া আর কিছুই নয়। তবে এর মধ্যে মাত্র একজন মিয়ানমার সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা জানা গেছে। এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। পরিকল্পিত  বিরতিহীন সহিংসতা ও বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে পার্থক্য করতে তিনি ভুলে গেছেন। তিনি এত বড় বর্বরতাকে গণহত্যার স্বীকৃতি না দিয়েও প্রকৃত সত্য গোপন করেছেন। এ কারণেই টনক নড়েনি শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চির। তিনি গণহত্যা বন্ধের নির্দেশতো দূরের কথা তার বিরোধিতাও করেননি, উল্টো দূষেছেন নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলিম ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে। আন্তর্জাতিক মহলের ‘নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি’ মিয়ানমারের সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ ও রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার অভিযোগের তীরে বিদ্ধ  আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। বিশ্বসম্প্রদায়ের সদস্য হিসেবে তার অভিযোগের বিষমাখা ছুরি থেকে মুক্তি মেলেনি বাংলাদেশেরও। অথচ সু চির বিষবাক্যে নীরব বাংলাদেশ। তারা নিন্দা জানায়নি মিয়ানমারে সু চি সরকারের গণহত্যা ও তার ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের  বিরুদ্ধে। অথচ ঢাকার হলি আর্টিজানে ২২ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে রাশিয়া ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশ। নিন্দা জানাতে ভোলেনি ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি। অথচ মিয়ানমারে আড়াই মাস ধরে চলা গণহত্যায় একমাত্র মালয়েশিয়া ও তুরস্ক ছাড়া ভারতসহ বিশ্বমোড়ল তো দূরের কথা বাংলাদেশও মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোন নিন্দা প্রস্তাব আনেনি। তাই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে একটি নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করুণ। মিয়ানমার এমন কোন পরাশক্তি নয় যে দেশটির বিরুদ্ধে নিন্দা জানানোর শক্তি বাংলাদেশের নেই। ইতোমধ্যে মিয়ানমারে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর বর্বর নির্যাতন ও গণহত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি  বলেছেন, “প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সে দেশের সরকারি বাহিনী পরিচালিত সুপরিকল্পিত ও বর্বরোচিত ‘জেনোসাইড’-এর ঘটনায় আমি গভীরভাবে বেদনাহত ও উৎকণ্ঠিত। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, গভীর পরিতাপ ও দুঃখের বিষয় হচ্ছে, কোনো সামরিক জান্তা নয়, শান্তিতে নোবেল বিজয়ী এবং গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অং সান সু চির নেতৃত্বে পরিচালিত মিয়ানমারের প্রশাসনই এ অমানবিক সন্ত্রাসী কার্যকলাপের হোতা। যিনি নিজে দীর্ঘকাল নির্যাতিত হয়েছেন তিনি কী করে এমন পৈশাচিক কাজকে অনুমোদন করছেন, ভেবে আমরা স্তম্ভিত হচ্ছি। মিয়ানমার থেকে মুসলিম বিতাড়ন ও গণহত্যার বিরুদ্ধে বিবৃতি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দানের আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন আপনার সরকারের অংশীদার  জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর কী হচ্ছে! মানুষের উপর এত অত্যাচার-নির্যাতন কখনো শুনিনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিন, তাদের বাঁচান। দেশের ১৭ কোটি মানুষের সাথে ৫০ লাখ জনসংখ্যা বাড়বে, তাতে কোনো সমস্যা হবে না। মিয়ানমারে হামলা বন্ধে আপনার সরকারের সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন হিন্দু বৌদ্ধ খৃস্টান ঐক্য পরিষদ। রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানের আহ্বান জানিয়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। অথচ রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানের বিরোধিতা করেছে একশ্রেণীর খুদ-কুঁড়া খাওয়া বুদ্ধিজীবী। এরা সুযোগ পেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। যেখানে অনেক পরে হলেও জাতিসংঘসহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রোহিঙ্গা নির্যাতনের কারণে সমালোচনায় পড়েছে মিয়ানমার সরকার সেখানে আমাদের দেশের একশ্রেণীর বুদ্ধিজীবী রোহিঙ্গাদের মাঝে ধর্মান্ধতা, উগ্রবাদ আর জঙ্গিপনা আবিষ্কারে ব্যস্ত কারণ জঙ্গিবাদের তকমা লাগিয়ে মুসলিম বিরোধিতাও কারও কারও কাছে একধরনের ফ্যাশন। কেউবা তাদের মাঝে খুঁজে বেড়ায় মাদক চোরাচালান ও সামাজিক অস্থিরতাসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক উপসর্গ। মানবতা যেখানে বিপন্ন সেখানে বেপরোয়া কি নিরিহ হিন্দু কি মুসলিম কি বৌদ্ধ কি খৃস্টান আস্তিক কি নাস্তিক আল্লাওয়ালা কি নিরীশ্বরবাদী তা বড় প্রশ্ন নয়। প্রশ্ন  হলো এরা দুনিয়ার সবচেয়ে নির্যাতিত মানুষ। তাই এই মুহূর্তে নিজেদের খোদার আসনে বসিয়ে রোহিঙ্গাদের বিচারের জন্য তাদের দোষত্রুটি আবিষ্কারের চেয়ে তাদের সঙ্গে মানবিক আচরণ অনেক জরুরী। তারা এ পৃথিবীর সন্তান ও আরাকানের ভূমিপুত্র। নিজ দেশে তারা পরবাসী। একদিন তারা স্বাধীন ছিল। জীবনের  ভাঙ্গাগড়ার খেলায় তাদের আরাকান রাজ্য আজ বার্মা সরকারের উপনিবেশ। কিন্তু উপনিবেশের বাসিন্দা হিসেবে বৃটিশ সরকারের কাছে আমাদের যে অধিকার ছিল মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের সে অধিকারটুকুও নেই। তারা আরাকানের রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব বাতিল করে। তারা দেশের নামটিও কেড়ে নিয়েছে। আরাকানের পরিবর্তে দেশটির নাম রাখে রাখাইন রাজ্য। মিয়ানমার সরকারের অনুমতি ছাড়া তারা বিয়ে করতে পারে না। দুয়ের অধিক সন্তান গ্রহণ নিষিদ্ধ। রাখাইন রাজ্য থেকে বের হওয়ার কোন সুযোগ তাদের নেই। এর ওপর রয়েছে মিয়ানমার সরকারের নিয়মিত রোহিঙ্গা মুসলিম নির্মূল অভিযান। সীমাহীন অত্যাচারে রাষ্ট্রহীন এই জাতির সন্তানেরা তাদের অস্তমিত স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের জন্য মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালায় বলে অনেকে মনে করছেন। মিয়ানমার সরকার ও আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবীদের ভাষায় অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলনে নিয়োজত  সশস্ত্র যোদ্ধারা এখন সন্ত্রাসী। এরা পাকিস্তানী রাজাকারের ভাষায় কথা বলছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সরকার ও তাদের দোসরের চোখে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা ছিল সন্ত্রাসী। ভারতের উস্কানিতেই তারা দেশে অরাজকতা করছে। তেমনিভাবে বাংলাদেশর ধর্মান্ধগোষ্ঠীর যোগসাজশে আরাকানের সশস্ত্র যোদ্ধারা রাখাইন রাজ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে-এহেন অজুহাতে তারা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত হামলাকে বৈধতা দিচ্ছে। এরা বর্মী সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গা নির্যাতন প্রকাশের পরিবর্তে গণহত্যার হোতা সু চি সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জল প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব হাতে নিয়েছে। তারা মজলুমকে বানায় দানব আর রক্তপিপাসু জানোয়ারকে বানায় মহামানব। তাই পত্রপত্রিকায় রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রকাশিত খবর ও ছবি তারা ভুয়া বলে উড়িয়ে দেয়। তাদের প্রচারণার মধ্যেও রয়েছে স্ববিরোধিতা। তাদের কারও দাবি মিয়ানমারে ৯ নিরাপত্তাকর্মী  নিহতের ঘটনায় রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) জড়িত। কেউবা দায়ী করছেন আরাকান লিবারেশন আর্মিকে। আরও জানা গেছে, মিয়ানমার সরকারের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধার বিনিময়ে ফরমায়েসি প্রতিবেদন প্রকাশ করছে কিছু বিদেশী সংগঠন। এর মধ্যে রয়েছে ব্রাসেল্সভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ। সংগঠনটি ৯ অক্টোবর মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ওপর হামলার জন্য হারাকা আল ইয়াকিন নামে এক জঙ্গিগোষ্ঠীর অস্তিত্ব আবিষ্কার করেন যারা পাকিস্তান ও সৌদি আরবের আনুকূল্যে পরিচালিত। হারাকা আল ইয়াকিন  এখনও মিয়ানমারের সরকারী বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে ঐ সংগঠনটির দাবি। মিয়ানমারের বর্বরোচিত হত্যাকা-ে হাজার হাজার নারী পুরুষ ও শিশু যখন প্রাণভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে তখন আমাদের দেশের অসুস্থ চিন্তার বুদ্ধিজীবীরা তার জন্য ক্ষুব্ধ না হয়ে আইসিজির কারখানায় উতপাদিত হারাকা আল ইয়াকিনের নামে আতঙ্ক ছড়ায়। তারা বার্মায় ৯ অক্টোবরের হামলার সঙ্গে ঢাকার গুলশানের হলিআর্টিজানে হামলার যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে। তাদের নজরে আসেনি বার্মার সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে পরিচালিত ঐ হামলায় রয়েছে রোহিঙ্গা জাতির স্বাধীনতা ও মুক্তির অদম্য বাসনা। হামলায় জড়িত যুবকেরা সন্ত্রাসী নয় তারা নিপীড়িত রোহিঙ্গা জাতির সূর্য সন্তান। ওদেরকে স্যালুট। দেশের দায়িত্বশীল অনেকেই। তারা বলছেন, প্রতিবেশী দেশে একটা ঘটনা ঘটেছে। যারা মিয়ানমারের ৯ বর্ডার গার্ড পুলিশকে হত্যা করেছে, সেনাবাহিনীর ওপর আক্রমণ করেছে, তাদের কারণেই এটা হচ্ছে। যারা এই ধরনের ঘটনা ঘটালো তাদের জন্যই হাজার হাজার নারী পুরুষ শিশু কষ্ট পাচ্ছে। এসব নারী শিশুতো এর জন্য দায়ী না।
তিনি বলেন, যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তারা বাংলাদেশে আছে কি না তা খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যখনই আমরা পাব ধরে মিয়ানমার পুলিশের হাতে দিয়ে দেব। বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে কেউ প্রতিবেশী রাষ্ট্রে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটাবে, আমরা সেটা হতে দেব না। আমরা ভুলে গেছি, ৯ অক্টোবরের ঘটনা নিছক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নয়, ঐ হামলায় রয়েছে রোহিঙ্গা জাতির স্বাধীনতার আকাঙ্খা। ঐ ঘটনায় জড়িতরা সন্ত্রাসী নয় তারা রোহিঙ্গা জাতির বীরসন্তান। তাদের স্বাধীনতার স্বপ্নকে অসম্মান করার অধিকার কাহারও নেই। প্রধানমন্ত্রী, ৭১ এ আমরা যখন পাকিস্তান দ্বারা আক্রান্ত হয়েছি তখন ভারত আমাদের পাকিস্তান হানাদারবাহিনীর হাতে তুলে দেয়নি বরং সর্বাত্মক সহযোগতা করেছিল। সে সময় ভারত আমাদের আশ্রয় দিয়েছে ট্রেনিং দিয়েছে অস্ত্র দিয়েছে সৈন্য দিয়েছে। ভারতীয় সৈন্যরা আমাদের জন্য জীবনও দিয়েছে। তাই বলছি প্রধানমন্ত্রী ভারতের মতো রোহিঙ্গাদের সাহায্য করার জন্য বাংলাদেশের শক্তি না থাকলে অন্তত গণহত্যার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে অর্জিত স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বাধীনতাকামী বীর রোহিঙ্গা লড়াকুদের সন্ত্রাসের অভিযোগে মিয়ানমার পুলিশের হাতে তুলে দিতে পারি না। বরং গণহত্যা ও রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়ার অপরাধে অং সান সু চির প্রশাসনের বিরুদ্ধে সংসদে একটি নিন্দা প্রস্তাব বাংলাদেশ গ্রহণ করতে পারে। যদি নিন্দা জানানোর মতো সাহসও না থাকে তাহলে অন্তত রেহিঙ্গাদের জন্য কাঁদতে তো পারি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ