ঢাকা, মঙ্গলবার 27 December 2016 ১৩ পৌষ ১৪২৩, ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বগুড়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে গ্রেফতার বাণিজ্যের অভিযোগ

বগুড়া অফিস : বগুড়া শহরের ফুলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই রবিউল ইসলামসহ ওই ফাঁড়িতে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে তল্লাশির নামে শরীরে মাদকদ্রব্য ঢুকিয়ে জনসাধারণের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে ‘গ্রেফতার বাণিজ্য’ চালিয়ে আসছেন। দাবি করা টাকা না পেলে তারা বসত-বাড়িতে তল্লাশির নামে ভাংচুর ও লুটপাট করতেও দ্বিধা করে না।
পুলিশের হাতে নির্যাতিত এলাকাবাসীর পক্ষে সোমবার দুপুরে বগুড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শহরের মুগলিশপুর মহল্লার স্বর্ণ শ্রমিক উজ্জ্বল মোহন্তের স্ত্রী সীমা রাণী মোহন্ত। সংবাদ সম্মেলনে তার সঙ্গে মুগলিশপুরসহ পার্শ্ববর্তী ফুলবাড়ি, জয়পুরপাড়া এবং মাটিডালি এলাকার নির্যাতিত অর্ধশত নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখিত চার মহল্লাবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্যে সীমা রাণী মোহন্ত বলেন, ফুলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই রবিউল ইসলাম ও এটিএসআই বদিসহ পুলিশের অন্য সদস্যরা মাদক বিরোধী অভিযানে নামে শরীর তল্লাশির সময় এলাকার লোকজনদের পকেটে ইয়াবা ও গাঁজাসহ অন্যান্য মাদক দ্রব্য ঢুকিয়ে দিয়ে ফাঁড়িতে নিয়ে এসে টাকা দাবি করে। যারা তাদের দাবি করা টাকা দিতে পারে তাদের সঙ্গে সঙ্গে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু যারা টাকা দিতে পারে না তাদেরকে ফাঁড়িতে আটক রেখে পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরাও না দিলে আটক লোকজনদের বিরুদ্ধে মাদকের মিথ্যা মামলা দিয়ে আদালতে চালান দেয়া হয় কিংবা ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করা হয়।
সীমা রাণী মোহন্ত অভিযোগ করেন, তার ছোট ভাই উজ্জ্বল গত ২২ ডিসেম্বর রাতে ভোলা ও সানোয়ার নামে দুই বন্ধুকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। রাত আনুমানিক একটার দিকে বাড়ির সামনে পৌঁছার পর পরই এস আই রবিউলসহ ফুলবাড়ি ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা নামে ওই ৩জনকে আটক করে। পরে তল্লাশি করেও অবৈধ কোন কিছু পাওয়া না গেলেও তাদেরকে ফাঁড়িতে নিয়ে আটকে রাখা হয়। এরপর ওই ৩জনের পরিবারের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা করে দাবি করা হয়। আটক ৩ ব্যক্তির মধ্যে অর্থের বিনিময়ে ভোলা এবং সানোয়ারকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হলেও উজ্জ্বলকে আটক রাখা হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা টাকা দিতে না পারায় পুলিশ আমার ভাই উজ্জ্বলের পকেটে ২০টি ইয়াবা ট্যাবলেট ঢুকিয়ে দিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। অথচ মামলায় যাদের সাক্ষী করা হয়েছে তারা ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানে না।’
ফুলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রবিউল ইসলাম তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, ‘মুগলিশপুরসহ অন্যান্য এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান চালানোর কারণে স্থানীয় একটি চক্র পুলিশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। যারা মাদক ব্যবসায় সুবিধা করতে পারছে না তারাই নানাভাবে পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করছে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ