ঢাকা, মঙ্গলবার 27 December 2016 ১৩ পৌষ ১৪২৩, ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

দুর্নীতি নিরাময়ে দুদকের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে এনবিআর

স্টাফ রিপোর্টার : দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি রোগ নিরাময়ে দুদকের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ সময় বক্তারা বলেন, বিদেশ থেকে আসা শিল্পী, খেলোয়াড়, চিকিৎসকসহ পেশাজীবীরা এদেশে কাজ করে যে অর্থ আয় করেন- তার থেকে উৎসে করের আওতায় আনতে হবে।
গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) ভবনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে বিটিএলএর মতবিনিময় সভা ও রাজস্ব সংলাপে এ দাবি জানানো হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান। ট্যাকসেস লিগ্যাল এন্ড এনফোর্সমেন্টের সদস্য ড. মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিটিএলএ মহাসচিব এম.এ. গফুর মজুমদার, ঢাকা ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আব্বাস উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সরদার আকিল আহমেদ ফারুকী, বাংলাদেশ ট্যাক্স ল’ইয়ার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মনিরুল হুদা প্রমুখ।
 নজিবুর রহমান বলেন, আইন প্রয়োগের এই মাসে দুর্নীতি পরায়ণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতির রোগ নিরাময়ে ও রাজস্ব সংশ্লিষ্ট দুর্নীতি প্রতিরোধে এনবিআর দুদকের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করবে। এজন্য দুদক ও এনবিআর যৌথভাবে পার্টনারশীপ সংলাপ করবে। যেখানে দুর্নীতি প্রতিরোধের পাশাপাশি ও দুর্নীতিবাজদের দুর্নীতি নামের রোগ নিরাময় করা হবে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, সময় এসেছে এখন বদলাতে হবে। অফিস ফাঁকি দিয়ে পরগাছা অফিস চালানো যাবে না। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলকে (সিআইসি) নির্দেশ দিয়েছি- তারা বিষয়টি তদারকি করবে।
তিনি বলেন, এখন থেকে বাৎসরিক কাজের মূল্যায়ন হবে। বছর শেষে কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাজের সালতামামি জমা দিতে হবে। যেখানে বলতে হবে সারা বছর আপনি রাজস্ব আদায়ে কী ভূমিকা রেখেছেন; রাজস্ব মামলা নিষ্পত্তিতে কী ভূমিকা রেখেছেন? আপনার অবস্থান আপনি নিজেই মূল্যায়ন করবেন।
আইনজীবীদের সঙ্গে যৌথভাব কাজ করতে পরামর্শক কমিটি গঠনের বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এক সঙ্গে কাজ করতে পরামর্শক কমিটি গঠন করা হবে। যেখানে কমিটির সদস্যরা পারস্পরিক সমস্যার সমাধান করা হবে। এছাড়া সব একাডেমীকে শক্তিশালী করা হবে, যেখানে আইনজীবীদেরও প্রশিক্ষক হিসেবে ডাকা হবে।
তিনি বলেন, আমরা চাই আগামী ১০০ বা ২০০ বছর পর্যন্ত কর বুনিয়াদ তৈরি করতে চাই। আমরা অতীত থেকে শিক্ষা নিতে চাই। আপনারা এমন কোনো পরিবেশ তৈরি করবেন না- যাতে করদাতারা এনবিআরে আসতে ভয় পায়। কারণ আমরা চাই আইনজীবীরা সত্যিকার অর্থে এনবিআর ও করদাতাদের মধ্যে ব্রিজ হিসেবে কাজ করবে। আশা করি কেউ বাঁধা তৈরি করবেন না।
এদিকে মতবিনিময় সভায় ব্যাংক হিসাব খোলা, নতুন গাড়ি, জমি ক্রয়-বিক্রয়ের রেজিস্ট্রেশন, ট্রেড লাইসেন্সসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে ই-টিআইএন জালিয়াতি হচ্ছে বলে দাবি করে কর আনইজীবীদের সংগঠন বাংলাদেশ ট্যাক্স ল’ইয়ার্স এসোসিয়েশন (বিটিএলএ)। সভা থেকে আয়কর বাড়াতে ই-টিআইএন জালিয়াতি রোধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানায় সংগঠনটি।
গফুর মজুমদার বলেন, আয়কর বাড়াতে বিদেশ থেকে আসা এসব পেশাজীবীদের আয় থেকে উৎসে কর কর্তন করা প্রয়োজন। এছাড়া বিদেশি টিভি চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত বিজ্ঞাপন থেকে উৎসে কর কর্তনের বিষয়ে আরও তদারকি বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি বলেন, যেকোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে টেন্ডারে অংশগ্রহণপূর্বক কোনো স্থাপনা নির্মাণে যুক্ত হলে তাদেরকে করের আওতায় আনার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করতে হবে।
এনবিআরের ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ইউনিফর্ম ব্যবহারের দাবি জানিয়ে এম.এ. গফুর বলেন, অনেক সময় দেখা যায়, ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীরা মাঠ পর্যায়ে তাদেরকে কর কর্মকর্তা বা ইন্সপেক্টর হিসেবে পরিচয় দেন। এতে করদাতারা বিভ্রান্তির সম্মুখীন হন। তাই বিধান অনুযায়ী এসব কর্মচারীদের ইউনিফর্ম ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে।
আয়কর আইনজীবীদের জন্য স্বতন্ত্র বার কাউন্সিল গঠনের দাবি জানিয়ে বিটিএলএ মহাসচিব বলেন, আয়কর আইনজীবীদের দীর্ঘদিনের দাবি, স্বতন্ত্র ট্যাক্স ল’ইয়ার্স কাউন্সিল গঠন করা। এর বাস্তবায়ন হলে পেশাগত দিক থেকে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতির মধ্যে পরিচালিত হতে পারবেন কর আইনজীবীরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ