ঢাকা, মঙ্গলবার 27 December 2016 ১৩ পৌষ ১৪২৩, ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

উখিয়ায় সড়কের কার্পেটিং শেষ না হতেই উঠে যাচ্ছে

উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা : উখিয়া উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডির) অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ৬২ লক্ষ টাকা ব্যয় বরাদ্ধে ডাকবাংলো দরগাহবিল হাতিমোরা সড়ক উন্নয়ন কাজে পুকুর চুরির অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণ কাজ শেষ না হতেই কার্পেটিং উঠে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষুদ্ধ গ্রামবাসী নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক উন্নয়ন কাজে অনিয়ম দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, উখিয়া ডাকবাংলো দরগাহবিল হাতিমোরা সড়কে দ্বিতীয় দফা উন্নয়ন কাজের দরপত্র আহ্বান করা হলে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ঠিকাদার ফরিদ আলমকে কার্যাদেশ দেয়া হয় চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে। অভিযোগ উঠেছে, ১ হাজার ৯০ মিটার দীর্ঘ ও ১০ ফুট প্রস্থ সড়কের উন্নয়ন কাজ শেষ না হতেই খন্ড খন্ড কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করার কারণে কার্পেটিংয়ের এ অবস্থা প্রত্যক্ষ করে এলাকার জনমনে উত্তেজনা দেখা দেয়। এসময় ক্ষুদ্ধ গ্রামবাসী নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়ে উপজেলা প্রশাসনের নিকট অভিযোগ করা হয়েছে বলে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নুরুল আবছার।
সরেজমিন কার্পেটিং সড়ক উন্নয়ন কাজ ঘুরে স্থানীয় রিকসা শ্রমিক আলী আকবর, টমটম চালক ছিদ্দিক, সিএনজি চালক নুরুল ইসলাম জানায়, নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ার কারণে কাজ শেষ না হতেই সড়কের কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। তারা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের শাস্তির দাবী জানান। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী অধ্যাপক জালাল আহমদ জানান, কার্পেটিং কাজে ইরানী বিটুমিনের পরিবর্তে বাংলা বিটুমিন ব্যবহার করা হয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করায় মানসম্মত উন্নয়ন কাজ হয়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ইকবাল জানান, উপসহকারি প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন ও ঠিকাদার ফরিদ আলম সিন্ডিকেট দায়সারা নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য ৬২ লক্ষ টাকা ব্যয় বরাদ্ধে জনগুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্পে প্রকাশ্য দিবালোকে পুকুর চুরির আশ্রয় নিয়েছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী কার্পেটিং সড়ক উন্নয়ন কাজে অনিয়মের সত্যতা স্বীকার করে পত্রিকায় লেখালেখি করার জন্য স্থানীয় সাংবাদিকদের পরামর্শ দেন।
অনিয়মের অভিযোগে কার্পেটিং কাজ বন্ধ করে দেয়ার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে ঠিকাদার ফরিদ আলম জানান, কাজ বন্ধ হয়নি। তবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে স্থানীয় কিছু স্বার্থন্বেষী মহল। কার্পেটিং সড়ক উন্নয়ন কাজে দায়িত্বরত উপসহকারি প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন জানান, স্থানীয় একটি মহল ইচ্ছে করে কার্পেটিং তুলে ফেলেছে। ঢাকায় সরকারি কাজে অপেক্ষমান উপজেলা প্রকৌশলী সুমন মাহমুদের সাথে মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, কার্পেটিং সড়ক উন্নয়ন কাজে অনিয়ম করা হলে ঠিকাদারের প্রাপ্ত বিল পরিশোধ করা হবে না। উপরোন্তু তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস্ত করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ