ঢাকা, মঙ্গলবার 27 December 2016 ১৩ পৌষ ১৪২৩, ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মান্দায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ পুরো গ্রাম অন্ধকারে জনদুর্ভোগ চরমে

মান্দা (নওগাঁ) সংবাদদাতা : নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার ১২নং কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের ভরট্টো কাঠের ডাঙ্গা গ্রাম গত ২০ ডিসেম্বর থেকে বিদ্যুতের অভাবে অন্ধকারে ভাসছে। মান্দা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ওই গ্রামের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। স্থানীয় ছাত্র-ছাত্রীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষেরা বেশ ভোগান্তির স্বীকার হয়েছে। আশে পাশে বিদ্যুৎ থাকলেও ৫৬টি পরিবার খুবই অন্ধকারের মধ্যে আছে। উপজেলা বিদ্যুৎ অফিসের মিটার রিডারকে মার ধর করার ঘটনায় মান্দা পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ওই এলাকার বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন করে রেখেছে এবং ৩টি মিটার খুলে নিয়ে এসেছে বিদ্যুৎ অফিস। জানা গেছে, মান্দা উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের মিটার রিডার আব্দুল কুদ্দস ওই এলাকার মিটার রিডিং সংরক্ষণ এবং বেশ কিছু দিন থেকে ওই এলাকার বিদ্যুতের পার্শ্ব সংযোগের ভয়ভীতি দেখিয়ে মাসিক টাকাও উঠাতেন। ওই এলাকার মৃত জসিম উদ্দিনের পুত্র কমের আলী (৫০) এর নিজ বাসা থেকে পাশে ২৫/৩০ ফিট দূরে মুদির দোকানে বিদ্যুতের লাইন নিয়ে ব্যবসা করে আসছিল এবং নাসির উদ্দিনের পুত্র আশরাফুল ইসলাম (৪৫), নিজ বাসা থেকে পার্শ্বে চায়ের দোকানে বিদ্যুৎ লাইন টেনে ব্যবসা করে আসছিল। পরবর্তীতে ওই মিটার রিডার ঠিকমত টাকা না পাওয়ার কারণে মিটার রিডার তার অফিসে অভিযোগ করেন পার্শ্বসংযোগের। বিষয়টি জানাজানি হলে গত ২০ ডিসেম্বর অনুমান সকাল ১০.০০ ঘটিকার সময় ওই মিটার রিডার এলাকায় গেলে উভয়ের মধ্যে বাক বিত-ার এক পর্যায়ে মিটার রিডার আব্দুল কুদ্দুসকে মারধর করে। এ ঘটানার জের ধরে মান্দা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সালাম বাদী হয়ে একই এলাকার মৃত কায়েম উদ্দিনের পুত্র কলিম উদ্দিন (৮০), মৃত জসিম উদ্দিন এর পুত্র কমের উদ্দিন (৫০), নাসির উদ্দিনের পুত্র আশরাফুল ইসলাম (৪৫), মৃত আহম্মদ মোল্যার পুত্র আব্দুর রাজ্জাক (৪০)সহ আরো অজ্ঞাত ৪/৫জনকে আসামী করে মান্দা থানায় একটি মামলা করেন। বিদ্যুৎ অফিস ওই ৩জনের বাড়ি থেকে মিটার খুলে নিয়ে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলিমুদ্দিন প্রাং এর বাড়িতে কোন মিটার না থাকার কারণে তার ছেলে ছাইদুরের বাড়ি থেকে বিদ্যুৎ অফিস মিটার খুলে নিয়ে গেছে। মান্দা থানা বিদ্যুৎ অফিস কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের মিটার রিডারকে মারধর করার অপরাধে এটা করা হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করা হয়েছে। আর মিটার রিডার আব্দুল কুদ্দুসকে প্রথমে মান্দা থানা স্বাস্থ্য কম্পেøক্সে ভর্তি করা হয়েছে পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আব্দুল কুদ্দুসের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল কুদ্দুসকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে ওই দিন সন্ধ্যায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে একদিন পর বৃহস্পতিবার বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আবার স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে ভুল স্বীকার করে মিটার রিডার আব্দুল কুদ্দুসকে চিকিৎসার জন্য মান্দা বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম মিলন কুমার ও ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সালামকে কিছু টাকাও দিয়েছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে মান্দা পল্লি বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম মিলন কুমারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কাজে বাইরে আছি। অফিসে এসে যোগাযোগ করার কথা বলে ফোনে কথা না বলার অনুরোধ করেন। মামলার বাদী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সালামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনিও বলেন ব্যক্তিগত কাজে বাইরে আছি। ফোনে কথা না বলার জন্য নিষেধসহ মানহানির মামলা করার ভয়ভীতি দেখিয়ে অসৌজন্যমূলক কথা বলেন সাংবাদিকের সঙ্গে। টাকার নেওয়ার বিষয়ে উভয়ের সঙ্গে কথা বলা হলে তা তারা অস্বীকার করেন। বিষয়টি নিয়ে নওগাঁ জেলা পল্লী বিদ্যুৎ জিএম এর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলা হলে তিনি জানান, বিষয়টি মান্দা বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম আমাকে জানিয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। সাংবাদিকের সাথে ইঞ্জিনিয়ারের এমন আচরণের ব্যাপারে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য মান্দা থানা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের সোর্স  ও দালালদের মাধ্যমে টাকা পয়সার বিনিময়ে মিটার লাগানো, টাকার বিনিময়ে বিদ্যুৎ বিল কম করানো, বিদ্যুতের লাইন দেয়াসহ নানা অনিয়ম ও গ্রাহক হয়রানি করেন বলেও জানা গেছে। বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে উভয়গ্রুপের দোষীদের বিচারসহ জনস্বার্থে অতিদ্রুত বিদ্যুৎ লাইন চালু করার জন্য ভুক্তভোগীসহ স্থানীয়রা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ