ঢাকা, শুক্রবার 30 December 2016 ১৬ পৌষ ১৪২৩, ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

এক ম্যাচ আগেই সিরিজ হারল বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার : নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে সিরিজ বাঁচানো সুযোগটা ভালোই পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সুযোগটা কাজে লাগেনি ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায়। ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ হারল বাংলাদেশ। গতকাল আগে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ড সব কটি উইকেট হারিয়ে করে ২৫১ রান। জয়ের জন্য ২৫২ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ অলআউট হয় ১৮৪ রানে। ফলে নিউজিল্যান্ড জয় পায় ৬৭ রানে। নাইল ব্রুম ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন। 

আর এই জয়ের ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা। বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচের মতো খেলতে পারেনি পুরো ৫০ ওভার। ৪২.৪ ওভারেই অলআউট হয় মাশরাফিরা। টাইগার বোলাররা ম্যাচ জয়ের একটা সুযোগ এনে দিলেও সেটা কাজে লাগাতে পারেনি টাইগার ব্যাটসম্যানরা। ব্যাটসম্যানদের কারনেই জয়ের সুযোগ হাত ছাড়া হয় বাংলাদেশের।  ২৫২ রানের জয়ের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ইমরুল কায়েসের হাফ সেঞ্চুরি ও সাব্বির রহমানের ব্যাটে ভালো সম্ভাবনাই জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ৭৫ রানের জুটিটি ভাংতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। কারণ ৭৯ রানের ব্যবধানে শেষ ৯ উইকেট হারিয়েছে মাশরাফিরা। ফলে ক্রাইস্টচার্চের ৭৭ রানে হারার পর নেলসনে ৬৭ রানে হারতে হলো বাংলাদেশকে।  নেলসনের মাঠে পরে ব্যাটিং করা দল সব সময়ই বাড়তি সুবিধা পায়। এ কারণে টস জিতে আগে ফিল্ডিং নেন মাশরাফি। কিন্তু ঘটল উল্টো ঘটনা। ২৫২ রানের জবাবে খেলতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। ফলে ১৮৪ রানেই শেষ বাংলাদেশের ইনিংস। ব্যাট করতে নেমে ওপেনার তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস দেখে শুনেই শুরু করেছিলেন।  কিন্তু দলীয় ৩০ রানে তামিম ফিরে গেলে ক্রিজে নামেন সাব্বির। ইমরুল কায়েস-সাব্বির মিলে দলকে ভালোই এগিয়ে নিচ্ছিলেন। কিন্তু দলীয় ১০৫ রানে ইমরুলের সঙ্গে ভুলবোঝাবুঝিতে রান আউট হলে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপের ছন্দপতনটা তখনই ঘটে। ব্যক্তিগত ৩৮ রান করে সাব্বির ফিরে গেলে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও দায়িত্বহীন ব্যাটিং করে মাত্র ১ রানে সাজঘরে ফিরে যান। রিয়াদের মতো দায়িত্বহীন ব্যাটিং করেন সাকিব আল হাসান ও মোসাদ্দেক হোসেনও। ফলে ১৩৪ রানে বাংলাদেশ হারায় প্রথম ৫ উইকেট। দলীয় ১৩৬ রানে আউট হন দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করা ওপেনার ইমরুল কায়েস। ইমরুল তার ক্যারিয়ারের ১৩তম হাফসেঞ্চুরি করে ব্যক্তিগত ৫৯ রানে টিম সাউদির বলে নাইল ব্রুমের তালুবন্দী হন। ইমরুলের বিদায়েই দলের সব আশা শেষ হয়ে যায়। নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন বাংলাদেশের মূল অর্ডারে ধস নামান দ্রুত তিন উইকেট নিয়ে। তারপরও অভিষেক ম্যাচে নামা নুরুল হাসান  সোহান ও অধিনায়ক মাশরাফি শেষদিকে দলকে এগিয়ে নিতে চেষ্টা চালান। মাশরাফি ১৯ বলে ১৭ রান করে রান রেট কিছুটা বাড়িয়ে দেন। কিন্তু শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে নুরুল যখন আউট হন বাংলাদেশ তখন জয় থেকে ৬৮ রান দূরে। ফলে বাংলাদেশ অলআউট হয় ৪২.৪ ওভারে ১৮৪ রানে। সোহান ৩১ বলে ১ চার ও ১ ছয়ে ২৪ রানের ইনিংস খেলেন। নিউজিল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে কেন উইলিয়ামসন সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া টিম সাউদি ও ট্রেন্ট বোল্ট প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। এর আগে, টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামা নিউজিল্যান্ডকে ভালোই চেপে ধরেছে টাইগার বোলাররা। শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলাররা নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে থাকে। মাঝে নাইল ব্রুম চতুর্থ উইকেটে জেমস নিশামের সঙ্গে ৫১ ও ষষ্ঠ উইকেটে লুক রঞ্চির সঙ্গে ৬৪ রানের জুটি না বাঁধলে আরো অল্প রানে গুটিয়ে যাওয়ার পথেই ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নাইল ব্রুমের সেঞ্চুরিতেই ২৫১ রান করতে পারে কিউইরা। ইনিংসের প্রথম ওভারে মাশরাফি কিউই ওপেনার মার্টিন গাপটিলকে ফিরিয়ে শুভ সূচনা করেন। শুরুর বিপর্যয় কাটিয়ে আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান টম ল্যাথাম ও অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন জুটি গড়ার চেষ্টা করেন। তখনই আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। উইলিয়ামসকে ব্যক্তিগত ১৪ রানে সাকিবের তালুবন্দী করে সাজঘরের পথ ধরান। সঙ্গী হারিয়ে সাকিবের বলে ফিরে যান ল্যাথামও। তিনি ২২ রান করে সাকিবের ঘূর্ণিতে লেগ বিফরের ফাঁদে পড়েন। তবে দলের হয়ে ব্যাট করতে নেমে নাইল ব্রুম দলকে ভালোই এগিয়ে নেন। তার ব্যাট না হাসলে বিপদই ছিল কিউইদের। শেষ পর্যন্ত ব্রুম সেঞ্চুরিসহ ১০৯ রানে অপরাজিত থাকেন।এটা ব্রুমের ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি। নিউজিল্যান্ডের অন্য ব্যাটসম্যানদের মধ্যে লুক রঞ্চি ৩৫, জেমস নিশাম ২৮ ও টম ল্যাথাম ২২ রান করেন। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তিনি ৪৯ রান খরচ করে তিনটি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া তাসকিন আহমেদ ও সাকিব আল হাসান দুটি করে উইকেট নেন। অভিষিক্ত পেসার শুভাষিশ ও স্পিনার মোসাদ্দেক হোসেন নেন একটি করে উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর : নিউজিল্যান্ড : ২৫১/১০, ৫০ ওভার (ব্রুম ১০ অপ:, রঞ্চি ৩৫, মাশরাফি ৩/৪৯)।

বাংলাদেশ : ১৮৪/১০, ৪২.৪ ওভার (ইমরুল ৫৯, সাব্বির ৩৮, উইলিয়ামসন ৩/২২)।

ফল : নিউজিল্যান্ড ৬৭ রানে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : নাইল ব্রুম (নিউজিল্যান্ড)।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ