ঢাকা, শুক্রবার 30 December 2016 ১৬ পৌষ ১৪২৩, ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ফুটবলে ঐতিহ্যবাহী মোহামেডানের ভরাডুবি

স্পোর্টস রিপোর্টার: ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড  নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে মওসুম  শেষ করলো। এতটা শোচনীয় পরিস্থিতিতে অতীতে কখনোই পড়তে দেখা যায়নি মতিঝিল পাড়ার ক্লাবটিকে। সমর্থকপ্রিয় ক্লাবটির এমন ত্রাহী দশায় সমর্থকরাও দারুণভাবে ক্ষুব্ধ ও হতাশ। অনেকেই ব্যর্থতার জন্য  ক্লাব পরিচালকদের দায়ী করেছেন। তাদের দুরদর্শীতার অভাবেই সাদাকালো শিবিরের সুখ্যাতি হারাচ্ছে। জেবি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে এবার মোহামেডান ২২ টি ম্যাচ খেলে মাত্র ২০ পয়েন্ট অর্জন করলো। যা সত্যি লজ্জার। বারো দলের লিগে দশম অবস্থানে থেকে কোন রকমে প্রিমিয়ারে টিকে রইলো মোহামেডান। গতকাল বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে উত্তর বারিধারার বিপক্ষে লিগের শেষ ম্যাচে খেলেছে মোহামেডান। উত্তর বারিধারার মতো দলকেও হারাতে পারলো না ক্লাবটি। বরং প্রথম পর্বে বারিধারার কাছে ০-১ গোলে হেরেছিল। এবার ফিরতি পর্বে মাহামেডান গোলশূন্য ড্র করে মান বাঁচিয়েছে এমনটি বলা যায়। লিগের শেষ ম্যাচটি দু‘দলের জন্যই ছিলো গুরুত্বপূর্ণ। এ ম্যাচ হারলে অবনমনের শঙ্কায় পড়তো বারিধারা। যদিও এখন অবনমনের খড়গ ঝুলছে ১৫ পয়েন্ট পাওয়া ফেনী সকারের ওপর। হারলে অবস্থানগত দিক থেকে আরো পিছিয়ে যেতো মোহামেডান। রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়েই দু‘দলই খেলার কারণে ম্যাচে গোল হয়নি। যদিও গোল লাভের মত একাধিক সুযোগ নষ্ট করেছে মোহামেডান। ম্যাচের ৯ মিনিটে বক্সের ওপর থেকে নেয়া মাশুক মিয়া জনির চিপে পায়ের বাইরের অংশ দিয়ে প্লেস করেছিলেন নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার পউমি ল্যান্ড্রি। বল ক্রস পিসে  লেগে রাইরে যায়। সংঘবদ্ধ আক্রমণ শানিয়ে ২০ মিনিটে ইসমাইল বাংগুরা থ্রুু পাস বক্সের ভিতর আমিনুর রহমান সজিব পেলেও গোলরক্ষক মো. রাজিবকে পরাস্ত করতে পারেননি। একইভাবে ২২ মিনিটে গোলের কাছাকাছি এসেছিল বারিধারাও। আগের মিনিটেই খালেকুজ্জামান সবুজের ফ্রি-কিক পাঞ্চ করে কর্নার করেছিলেন মোহামেডান গোলরক্ষকমানহাল। সেই কর্নারটিই নেন সবুজ, তাতে হেড করেছিলেন বারিধারার গিনিয়ান ডিফেন্ডার সিলা মানসা। বল ক্রসপিসে লেগে ফিরে আসলে ডিফেন্ডাররা তা ক্লিয়ার করেন। দ্বিতীয়ার্ধেও শুরু থেকে মোহামেডানের দাপট ছিল। ৫৫ মিনিটে মাশুক মিয়া জনির কর্নারে ছোট বক্সের ওপর থেকে হেড করেছিলেন ইসমাইল বাংগুরা। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল কর্নার করেন মো. রাজিব। তবে উত্তর বারিধারা তাদের ডিফেন্স মজবুত করে খেললে ম্যাচে আর গোল হয়নি। লিগের ২২তম ম্যাচ শেষে উত্তর বারিধারা ১৮ পয়েন্ট নিয়ে ১১তম অবস্থানে রয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০০৮-০৯ মওসুমে ষষ্ঠ অবস্থান ছিল সাদাকালো শিবিরের সর্বনিম্ন রেকর্ড।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ