ঢাকা, শুক্রবার 30 December 2016 ১৬ পৌষ ১৪২৩, ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চিরিরবন্দরের মাঠ ছেয়ে গেছে সরিষা ফুলের বর্ণিল আভায়

মোহাম্মাদ মানিক হোসেন চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) : দিনাজপুর  চিরিরবন্দর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা সরিষার ফুলে ছেয়ে গেছে বর্ণিল আভায়। আগের তুলনায় বর্তমান চাষীদের মধ্যে সরিষা চাষে  ব্যাপক আাগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি গ্রামের প্রান্তিক কৃষকরা কিছু হলেও সরিষা চাষ করেছে। চলতি রবি মওসুমে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। মাঠে ময়দানে এখন হলুদ রঙ্গের সরিষা ফুলের চোখ ধাঁধানো বর্ণিল সমারোহ লক্ষ্য করার মত। মৌমাছিদের গুনগুন শব্দে ফুলের রেণু থেকে মধু সংগ্রহ দৃশ্য সত্যিই যেন মনোমুগ্ধকর।
সরিষাক্ষেতের অপরূপ দৃশ্য আর তার মৌ মৌ গন্ধ সুবাসিত  করে সরিষাক্ষেতের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া পথচারীকে। আর কয়েক দিন পরেই সরিষার হলুদ ফুল ঝরে গিয়ে সরিষার দানা ভর্তি ছোট ছোট সবুজ পত্র ছড়াতে শুরু করবে। তখন সবুজে সবুজে ছেয়ে যাবে ক্ষেত। ওই পত্রগুলো পরি পুষ্ট হয়ে কালচে বরণ ও গাছ গুলো মরে যেতে শুরু করলেই সরিষা ঘরে তোলার পর্ব শুরু হবে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে এ রবি মৌসুমে ৫৯০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এ বছর গত বছরের তুলনায় প্রায় ১শ’ হেক্টর জমিতে সরিষা বেশি চাষ হয়েছে।
উপজেলার রাণীপুর গ্রাামের সরিষা চাষি লিয়াকত আলী, আলোকডিহি গ্রামের দয়াল চন্দ্র, সাইতাড়া গ্রামের এনামুল হক, নশরতপুর গ্রামের আব্দুর রশিদসহ অনেক সরিষা চাষি জানান, আমন ফসলের পর বোরো ফসলের আগে সরিষা আবাদ শুরু হয় এবং বোরো ধান রোপণের আগেই এ ফসলটি ঘরে ওঠে। অন্য দিকে খাদ্য তালিকায় শাক জনপ্রিয় হওয়ায় মৌসুমের শুরুতেই অনেক কৃষক সরিষা শাক বিক্রি করে কাঁচা পয়সা ঘরে তুলে। চাষিরা আরও জানান, মাঠ পর্যায়ে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে যথাযথ পরামর্শ ও প্রত্যক্ষ কারিগরি সহযোগিতার কারণে সরিষা ক্ষেত রোগ-বালাই মুক্ত রয়েছে। সরিষা ভালো হলে প্রতি একরে প্রায় ১০ মণ করে হবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার ও কৃষিবিদ মো: মাহমুদুল হাসান জানান, সরিষা স্বল্পমেয়াদি ও লাভজনক হওয়ায় এ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে তবে বিগত বছরের তুলনায় এ বছর সবচেয়ে বেশি পরিমাণ জমিতে সরিষা চাষ করেছেন কৃষকরা ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ