ঢাকা, রোববার 01 January 2017, ১৮ পৌষ ১৪২৩, ২ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

হোয়াইটওয়াশে বছর শেষ হলো টাইগারদের

স্পোর্টস রিপোর্টার : বিদায়ী বছরের শেষ দিনটা মোটেও ভালো গেলনা টাইগারদের। নিউজিল্যান্ড সফরের গতকাল ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ হেরে আগেই সিরিজ হেরেছিল বাংলাদেশ দল। গতকাল শেষ ওয়ানডে জিতে হোয়াইটওয়াশ ঠেকানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু সেটা আর হয়নি। টানা তিন ম্যাচ হেরে বছরের শেষ দিনটা হোয়াইটওয়াশ দিয়েই পার করল মাশরাফিরা। তারপরও লড়াই করে হারলে একটু শান্তনা ছিল। কিন্তু গতকাল নিউজিল্যান্ডের কাছে ৮ উইকেটে বিশাল ব্যবধানেই হেরেছে সফরকারী বাংলাদেশ। ৪১.২ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে ব্ল্যাক ক্যাপরা। ৮ উইকেটে ম্যাচটি জিতে ৩-০ ব্যবধানে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করল নিউজিল্যান্ড। গতকাল নেলসনের স্যাক্সটন ওভালে টসে জিতে আগে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৩৬ রান করে বাংলাদেশ। দলের পক্ষে তামিম ইকবাল সর্বোচ্চ ৫৯ রান করেন। এছাড়া ইমরুল কায়েস ও নুরুল হাসান সোহান উভয়েই করেন ৪৪ রান করে। দলের পক্ষে অন্য কোন ক্রিকেটার ভালো রানই করতে পারেননি। অথচ ব্যাটিংয়ের শুরুটা হয়েছিল দারুণ ভাবেই। তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসের ১০২ রানের ওপেনিং জুটিতে দুর্দান্ত সূচনা পায় বাংলাদেশ। কিন্তু মাঝ পথের ধসে এলোমেলো হয়ে যায় টপঅর্ডার। ১৭৯ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। ফলে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বড় স্কোর করার স্বপ্ন তখনই শেষ হয়ে যায়। তবে, শেষ দিকে নুরুল হাসান সোহানের ৪৪ ও মাশরাফি বিন মর্তুজার ১৪ রানের সুবাদে ২৩৬ রানের সম্মানজনক স্কোর গড়ে বাংলাদেশ। তামিম ইকবাল জেমস নিশামের বলে আউট হওয়ার আগে ৮৮ বলে ৫টি চারের সাহায্যে সর্বোচ্চ ৫৯ রান করেন। ৪৪ রান এসেছে অপর ওপেনার ইমরুল কায়েসের ব্যাট  থেকে। ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় ৬২ বলে এ রান করেছেন বাঁহাতিএই ব্যাটসম্যান। মিচেল স্যান্টনারের বলে ইমরুল ফিরে গেলে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপের ছন্দপতন ঘটে। ইমরুলের বিদায়ে ক্রিজে নামেন  সাব্বির রহমান। কিন্তু তিনিও অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরে যান ম্যাট হেনরির বলে। যাওয়ার আগে ১৪ বলে ৪ চারে ১৯ রান করেন। সাব্বিরের বিদায়ে কোনঠাসা বাংলাদেশের জন্য নতুন শুরুর প্রয়োজন ছিল। কিন্তু গত দুই ম্যাচ ধরে ব্যর্থ হওয়া মাহমুদউল্লাহ এই ম্যাচে আউট হওয়ার আগে করেন মাত্র ৩ রান।  টিম সাউটির অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বল টেনে পুল করতে গিয়ে জেমস নিশামের সহজ ক্যাচে বিদায় নেন। মাহমুদউল্লাহর বিদায়ের পর আর ৮ রান যোগ করে ফিরে যান ওপেনার তামিম ইকবালও। তামিম আউট হওয়ার পর শেষ ভরসা হিসেবে সাকিব-মোসাদ্দেকই ছিলেন। দুইজন মিলে ২৭ রানের জুটিও গড়েছিলেন। কিন্তু বাজে একটি রান নিতে গিয়ে সাকিব ব্যক্তিগত ১৮ রানে আউট হন। সঙ্গী হারিয়ে ফিরে যান তরুণ ক্রিকেটার  মোসাদ্দেকও। ১৩ বলে ১১ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। নুরুল হাসান দায়িত্বশীল ব্যাটিং না করলে বাংলাদেশের স্কোরটা ২০০’র নিচেই থাকতো। ম্যাচে ৪৪ রানের অসাধারণ এক ইনিংসে খেলেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। ৩৯ বলে ৩ চার ও এক ছয়ে তিনি তার ৪৪ রানের ইনিংসটি সাজিয়েছেন। এটাই তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। অভিষেক ম্যাচে ২৪ রান করেছিলেন তিনি। দলকে ২৩৫ রানে নিতে মাশরাফির অবদান ১৪ রান। নিউজিল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট নিয়েছেন মিচেল স্যান্টনার ও ম্যাট হেনরি। এছাড়া সাউদি, জিতেন প্যাটেল, নিশাম ও উইলিয়ামসন প্রত্যেকে একটি করে উইকেট নেন। জয়ের জন্য নিউজিল্রান্ডের সামনে টার্গেট ছিল ২৩৭ রান। টার্গেটটা সহজই ছির দলটির সামনে।  আর জয়ের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ২৩৯ রানে পৌছে যায় স্বাগতিকরা। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন অনডাউনে নামা দুই ব্যাটসম্যান নেইল ব্রুম ও অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। ব্রুম ৯৭ রান করে মুস্তাফিজের শিকার হলেও অধিনায়ক উইলিয়ামসন টাইগারদের বিপক্ষে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়েন।
শেষ পর্যন্ত তিনি ৯৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। আর তার সঙ্গী ছিলেন অপরাজিত ২৮ রান করা জেমস নিশাম। বাংলাদেশের পক্ষে দুটি উইকেটই তুলে নিয়েছেন ইনজুরি থেকে ফেরা মুস্তাফিজুর রহমান। ৯.২ ওভারে ৩২ রানে দু্টি উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি। যার মধ্যে দুটি মেডেন ওভার ছিল তার। এই ম্যাচে শুরুতেই নিউজিল্যান্ড শিবিরে হানা দেন মুস্তাফিজ। দলীয় ১০ রানে স্বাগতিকদের প্রথম উইকেটটি তুলে নেন তিনি। ৪ রান করা টম লাথামকে এলবিডাব্লিউ করে ফিরিযয়ে দেন সাজঘরে। পরের ওভারে মার্টিন গাপটিলও ২২ গজ ছাড়েন। তবে আউট হননি তিনি। রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন কিউই ওপেনার। শেষদিকে এসে ৯৭ রান করা ব্রুমকেও ক্যাচ আউট করে ফেরান সাজঘরে। ব্রুমের ক্যাচটি তালুবন্দি করেন অধিনায়ক মাশরাফি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ