ঢাকা, মঙ্গলবার 03 January 2017, ২০ পৌষ ১৪২৩, ০৪ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

তুরস্ক কেন বারবার হামলার টার্গেট হচ্ছে

আয়ান আকিনের জানাযায় কান্নায় ভেঙে পড়েন উপস্থিত আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুরা। তুরস্কের ইস্তাম্বুলের একটি নাইট ক্লাবে বন্দুকধারীর হামলায় সে নিহত হয়। ছবি-ভয়েস অব আমেরিকা

২ জানুয়ারি, বিবিসি/রয়টার্স : তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে নাইটক্লাবের ওপর হামলার দায়িত্ব জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস স্বীকার করেছে। তবে কোনো হামলাকারীকেও ধরতে পারেনি পুলিশ। ইংরেজি নববর্ষের প্রথম প্রহরে চালানো এই হামলায় অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়। গত বছর জুড়ে তুরস্কে ইসলামিক স্টেট এবং কুর্দি জঙ্গিদের চালানো অন্তত ছয়টি বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে যাতে হতাহত হয়েছে দুশতাধিক লোক।
ফলে দেশটির জন্য ২০১৬ ছিল এক ভয়াবহ বছর এবং শেষ দিনে আরো একটি আক্রমণ দেখিয়ে দিল, নিরাপত্তা জোরদার করা স্বত্বেও দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি কতটা নাজুক অবস্থায় আছে।
আঙ্কারায় একজন সাংবাদিক সরওয়ার আলম বলছিলেন তুরস্কের পাশের দুটি দেশ ইরাক ও সিরিয়াতে কয়েক বছর ধরে যুদ্ধ চলছে এবং সেখানে যে সন্ত্রাসী গ্রুপ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে গত দেড় / দুই বছর তুরস্কের অবস্থান ছিল প্রত্যক্ষ। এর কারণেই আইএস তুরস্ককে টার্গেট করছে।
তিনি বলছিলেন ‘কিছুদিন আগে আইএস যে ভিডিও গুলো প্রকাশ করেছে সেখানে স্পষ্টভাবেই তারা হুমকি দিয়েছে যে পরবর্তী টার্গেট হবে তুরস্ক এবং তুরস্কের যে মুল স্থাপনাগুলো আছে সেগুলোকে তারা টার্গেট করবে’।
প্রেসিডেন্ট এরদোগানের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জ?
তুরস্কের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই তুরস্ক এটা দেখছে।
তুরস্কের সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে একটা সন্ত্রাসী গ্রুপের বিরুদ্ধে আমরা কাজ করছি ব্যাপারটা তেমন না বা একটা গোষ্ঠী যে আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করছে তেমনটিও না। সরকারের কথা হলো তারা একসাথে অনেকগুলো সন্ত্রাসী গ্রুপের মোকাবেলা করছে। দেশের ভেতরের রাজনৈতিক অস্থীতিশীল অবস্থা কি দায়ী?
এরদোগান সরকারের সাথে ন্যাশনালিষ্ট মুভমেন্ট পার্টি সরাসরি একাত্মতা ঘোষণা করেছে।
এর আগে ইস্তাম্বুল স্টেডিয়ামের পাশে যে হামলাটা হলো তারপর পার্লামেন্টের চারটা দলের মধ্যে তিনটা দল সন্ত্রাস মোকাবেলা করার জন্য একত্রে বিবৃতি দিয়েছে।
আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে রাজনীতির মাঠে মতভেদ থাকলেও সন্ত্রাসী মোকাবেলায় তারা এরদোগান সরকারকে সমর্থন করার কথায় বলছে।
তবে এখানে একটা বড় বিষয় হলো তিনটি দল সন্ত্রাসবাদ বিরোধী বিবৃতি দিলেও কুর্দিদের দল এই বিবৃতির বাইরে রয়েছে। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা’ জারি করে খোঁজা হচ্ছে বর্ষবরণের দিনে নৈশ ক্লাবে হামলা চালানো সন্দেহভাজন বন্দুকধারীকে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এবং দ্য গার্ডিয়ানের খবর থেকে এ কথা জানা গেছে।
ইস্তাম্বুলের রেইনা নৈশক্লাবে শনিবার দিবাগত রাত ১টার পরপর এ হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। হামলার নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার দিবাগত রাত সোয়া একটার দিকে এই হামলা হয়। দূরপাল্লার আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে একজন সন্ত্রাসী নির্মমভাবে নববর্ষ উদযাপনরত নিরীহ লোকজনের ওপর গুলী চালায়।’
গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, প্রথমে হামলাকারী নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও পরে নিরাপত্তা সূত্র দাবি করে, ওই হামলাকারী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন।
তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেয়মান সয়লু  রোববার জানিয়েছিলেন, হামলাকারীদের খোঁজে অভিযান শুরু হয়েছে। সুলেয়মান সয়লু সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘হামলাকারীকে খোঁজা শুরু হয়েছে। পুলিশ সন্দেহভাজনদের ধরতে অভিযান পরিচালনা করছে। আশা করি শিগগির হামলাকারী ধরা পড়বে।’ তবে বিবিসির সোমবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় নিহতদের প্রথম ধাপের শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার পরও সন্দেহভাজন হামলাকারীকে গ্রেফতার করা যায়নি।
গার্ডিয়ান তাদের সোমবারের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছিল যে হামলাকারী নিহত হয়েছে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সোলায়মান সয়লুকে উদ্ধৃত করে সর্বশেষ প্রতিবেদনে গার্ডিয়ান জানিয়েছে, শহরজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ইস্তাম্বুলের গভর্নর ভ্যাসিপ শাহিন প্রাথমিকভাবে জানান, বন্দুকধারীর গুলীতে কমপক্ষে ৩৫ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আহত হয়েছে কমপক্ষে ৪০ জন। পরে রয়টার্স এবং গার্ডিয়ান পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে ৩৯ জনের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করে। তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বরাত দিয়ে নিহতদের মধ্যে ১৫ থেকে ১৬ জন বিদেশী নাগরিক থাকার কথা জানিয়েছে রয়টার্স। আর পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে সুনির্দিষ্ট করে গার্ডিয়ান নিহতদের মধ্যে ১৫ জন বিদেশী নাগরিক থাকার কথা জানিয়েছে।
তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেয়মান সয়লু  রোববার জানিয়েছিলেন, হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৬৯ জন। এদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার দিবাগত রাত সোয়া একটার দিকে এই হামলা হয়। দূরপাল্লার আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে একজন সন্ত্রাসী নির্মমভাবে নববর্ষ উদযাপনরত নিরীহ লোকজনের ওপর গুলী চালায়।’
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট বলছে তুরস্কের সম্প্রচার মাধ্যমে এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রচার করা হয়েছে। ওই ফুটেজে সান্তা ক্লজের পোশাক পড়া এক ব্যক্তিকে দেখা গেছে। এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন তুর্ক প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বলছে, হামলাকারী সান্তা ক্লজের পোশাকে ছিল। ইস্তাব্লুলের গভর্নর ভ্যাসিপ শাহিন নৈশ ক্লাবে গুলীর এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রাদেশিক গভর্নর। গভর্নর বলছেন, এক ব্যক্তি এই হামলা চালিয়েছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ একাধিক হামলাকারী ছিল বলে দাবি করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ