ঢাকা, মঙ্গলবার 03 January 2017, ২০ পৌষ ১৪২৩, ০৪ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

স্পেন-মরক্কো সীমান্তে অভিবাসী প্রত্যাশীদের ঢল

২ জানুয়ারি, আল জাজিরা/বিবিসি : ২০১৭ সালের প্রথম দিনেই ইউরোপমুখী অভিবাসন-প্রত্যাশীদের ঢল নেমেছে স্পেন-মরক্কো সীমান্তে। স্পেনে প্রবেশের চেষ্টাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে হাজারখানেক অভিবাসন-প্রত্যাশী। আফ্রিকা মহাদেশের এসব বাসিন্দা রবিবার লাফিয়ে মরক্কো এবং স্প্যানিশ ছিটমহল কিউটা’র মধ্যকার বেষ্টনী পার হওয়ার চেষ্টা করে। স্প্যানিশ ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টাকালে দুই দেশের পুলিশ তাদের বাধা দেয়। ফলশ্রুতিতে শুরু হয় সংঘর্ষ। এতে একজন পুলিশ সদস্য তার এক চোখ হারিয়েছেন।
গত রোববার ভোর ৪টার দিকে ওই এলাকায় জড়ো হন ইউরোপমুখী অভিবাসন-প্রত্যাশীরা। কোয়েটার স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি জানান, তারা ছিল ‘অত্যন্ত হিংস্র এবং সংগঠিত।’
এ সংঘর্ষের ঘটনায় কোনও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে অনেকে আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত দুই ব্যক্তিকে কিউটা’র স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ধরনের ঘটনা অবশ্য এটাই প্রথম নয়। এর আগে গত ৯ ডিসেম্বর একই ধরনের ঘটনা ঘটে। সে সময় চার শতাধিক অভিবাসন-প্রত্যাশী ক্ষুদে এই ছিটমহলটিতে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
স্প্যানিশ ছিটমহলটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিবাসন-প্রত্যাশীরা লোহার দণ্ড, তার কাটার যন্ত্র দিয়ে জোরপূর্বক সীমান্ত বেষ্টনীর কিছু প্রবেশদ্বার ভেঙে ফেলার চেষ্টা করে। মরোক্কো ও স্প্যানিশ বাহিনীর দিকে ছোড়ার জন্য সঙ্গে নিয়ে আসে বিশাল বিশাল পাথরের টুকরো। এতে স্পেনের পাঁচ পুলিশ সদস্য এবং মরোক্কান বাহিনীর ৫০ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজন তার চোখ হারিয়েছেন।
মরক্কোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এখন থেকে এ ধরনের চেষ্টাকারীদের যথাযথ বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে হাজির করা হবে। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, উত্তর আফ্রিকায় কিউটা, মিলিলা নামের দুটি স্প্যানিশ ভূখণ্ড রয়েছে। এছাড়া, আফ্রিকা মহাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর কোনও সমতল সীমান্ত নেই। জীবন-জীবিকার তাগিদে এ ভূখণ্ড দিয়ে তাই স্বপ্নভূমির ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করেন অনেকে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জাহাজ বা নৌকায় চড়ে সমুদ্রপথে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন বিপুল সংখ্যক শরণার্থী। আর উত্তাল সাগরের বুকে একের পর নৌকাডুবিতে প্রাণ যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষের।
২০১৫ সালে ইউরোপের অভিবাসী এবং শরণার্থী-বিষয়ক সংগঠনগুলো মূল সমস্যার পাঁচটি উপাদান চিহ্নিত করেছে। এগুলো হচ্ছে- ১. সিরিয়া, ইরাক ও লিবিয়ায় গৃহযুদ্ধের তীব্রতা আরও বেড়ে যাওয়া, ২. যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতে শিগগিরই সমস্যা সমাধানের আশা না থাকা, ৩. প্রতিবেশী দেশগুলোর শরণার্থীদের সমস্যা ও পুনর্বাসনের ব্যাপারে অনীহা, ৪. তুরস্কে বসবাসরত সিরিয়ার শরণার্থীদের যেকোনো সময় ফেরত পাঠিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা, ৫. সাবেক যুগোস্লাভিয়ার বিভক্ত বলকান রাষ্ট্র সার্বিয়া, কসোভো মন্টেনেগ্রো ও মেসিডোনিয়ার মতো দেশগুলোতে অর্থনৈতিক বিপর্যয়।
২ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে তুরস্কের উপকূলে সন্ধান মেলে আয়লান নামের এক সিরীয় শিশুর লাশ। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে নিথর পড়ে থাকা শিশু আয়লান কুর্দির নাম শুনলে এখনও স্তব্ধ হয়ে যান অনেকে। ছোট নৌকায় থাকা আয়লান ও তার ভাই ভেসে যায় তুরস্কের সৈকতে। তাদের মা ভেসে যান দূরের অন্য এক সৈকতে। এখনও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সপরিবারে সাগরে ভাসছেন হাজার হাজার আয়লান কুর্দি। আর ইউরোপ সংলগ্ন সমতল সীমান্তে দৃষ্টি গরিব দেশগুলোর লাখো অভিবাসন-প্রত্যাশীর। এর বাইরে নয় কিউটা’র মতো ক্ষুদে স্প্যানিশ ছিটমহলও। ছিটমহল হোক; তাও তো ইউরোপের মাটি!

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ