ঢাকা, মঙ্গলবার 03 January 2017, ২০ পৌষ ১৪২৩, ০৪ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিদেশী টিভি চ্যানেলে দেশি বিজ্ঞাপন প্রচারে নিষেধাজ্ঞা

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশে সম্প্রচারিত হয় এমন বিদেশী টেলিভিশন চ্যানেলে দেশি বিজ্ঞাপন প্রচারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। বাংলাদেশে সম্প্রচারিত বিদেশী টেলিভিশন চ্যানেলে দেশি পণ্যের বিজ্ঞাপন বন্ধের দাবিতে ‘মিডিয়া ইউনিটি’র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গতকাল সোমবার এক তথ্য বিবরণীতে এই নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়, ‘কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন ২০০৬’ এর ধারা ১৯ এর ১৩ উপধারার আলোকে বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য বাংলাদেশে ডাউনলিংককৃত বিদেশী টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।” এই নির্দেশনা না মানলে সংশ্লিষ্ট বিদেশী টিভি চ্যানেল ডিস্ট্রিবিউশনের অনাপত্তি ও অনুমতি এবং লাইসেন্স বাতিলসহ আইনানুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও সরকারি ভাষ্যে বলা হয়েছে।

বিদেশী চ্যানেলে দেশি বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে দেশের টাকা অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে অভিযোগ তুলে তা বন্ধের দাবিতে গত ৫ নবেম্বর আন্দোলন শুরু করে মিডিয়া ইউনিটি। সাংবাদিক, ক্যামেরাপারসন, অভিনয় শিল্পী, নাট্যকর্মী, অনুষ্ঠান নির্মাতা, বিজ্ঞাপন নির্মাতা, প্রযোজক ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিনিয়োগকারী, ব্রডকাস্টারদের নিয়ে গঠিত হয়েছিল এই ফোরাম। 

তার মধ্যেই বাংলাদেশে সম্প্রচারে থাকা বিদেশী চ্যানেলগুলোতে সব ধরনের দেশি বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধে গত বছরের ২৯ নবেম্বর তথ্য সচিব, বাণিজ্য সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানসহ সাতজনকে বিবাদী করে লিগ্যাল নোটিশ দেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূইয়া। রেজিস্ট্রি ডাকে পাঠানো এই আইনি নোটিশে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিদেশী চ্যানেলে এসব বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ না হলে উচ্চ আদালতের আশ্রয় নেয়া হবে জানিয়ে বলা হয়, ২০০৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ কেব্ল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন পাস হয়। ওই আইনের ১৯(১৩) ধারায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য বিদেশী কোনো টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে না। ওই ধারা লঙ্ঘন করলে শাস্তির বিধানও রয়েছে। এই আইনের ১৫ ধারা অনুসারে কোনো অনুষ্ঠান ১৯ ধারার পরিপন্থী হলে সরকার তাৎক্ষণিক বা যাচাই করে ওই চ্যানেলের বিপণন প্রজ্ঞাপন ও সম্প্রচার সাময়িক বা স্থায়ীভাবে বন্ধের নির্দেশ দিতে পারে।

এরপর গত ২০ নবেম্বর তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু জানান, বিদেশী চ্যানেল ডাউনলিঙ্ক ও বিদেশী চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের ব্যাপারে আইনে যা-যা আছে, তা সবই কার্যকর করা হবে। কিন্তু আমি এটুকু বলি, এ ব্যাপারে কোথায়-কোথায় আইনের বরখেলাপ হচ্ছে, সেটা আমরা পরীক্ষা করবো। পরীক্ষা শেষে আমরা প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবো। ওইদিন সচিবালয়ে মিডিয়া ইউনিটি’র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা জানান। বৈঠকে মিডিয়া ইউনিটির পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়েছিল, বর্তমানে স্থানীয় চ্যানেলে বিজ্ঞাপনের বাজার সংকুচিত হচ্ছে এবং এ বাজার বিদেশী চ্যানেলের হাতে চলে গেছে। বিগত কয়েক বছরে এসব চ্যানেল বাংলাদেশর কিছু কোম্পানির কাছে পাওনা বাবদ বকেয়া তৈরি করে প্রভাব খাটিয়ে সেই টাকা নিয়ে যেতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি বের করে। গত এক বছরে এই অনুমতিপত্রের মাধ্যমে দেশ থেকে কোটি-কোটি টাকা পাচার হয়েছে। বৈঠকে মিডিয়া ইউনিটির উপদেষ্টা ব্যবসায়ী নেতা সালমান এফ রহমান, মিডিয়া ইউনিটির আহ্বায়ক ও একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু, সদস্য সচিব আরিফ হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পরে তথ্য মন্ত্রণালয় গত ২৪ নবেম্বর বিদেশী চ্যানেলে বাংলাদেশি পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচারে দুই বছরের কারাদণ্ডসহ অন্যান্য দণ্ডের কথা স্মরণ করিয়ে বিদেশী টেলিভিশন চ্যানেল ডাউনলিংক করে বাংলাদেশে সম্প্রচারকারী ন্যাশনওয়াইড মিডিয়া লিমিটেড ও ডিজি যাদু ব্রডব্যান্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে নোটিশ পাঠায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ