ঢাকা, মঙ্গলবার 03 January 2017, ২০ পৌষ ১৪২৩, ০৪ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মগবাজার টু মৌচাক ফ্লাইওভারের নিচের রাস্তায় মেরামতের পর আবার খোঁড়াখুঁড়ি

রাজধানী ঢাকার অসহনীয় যানজট। গতকাল সোমবার কাকরাইল এলাকা থেকে তোলা ছবি -সংগ্রাম

ইবরাহীম খলিল : মগবাজার ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের জন্য তিন বছর ধরে ভোগান্তির শেষ ছিল না মগবাজার মোড় সন্নিহিত রাস্তা দিয়ে চলাচলকারীদের। ফ্লাইওভারের হলি ফ্যামিলি-সাতরাস্তা অংশ চালু হওয়ার বেশ অনেক দিন পর এর নিচের রাস্তা মেরামত করা হয়। সেটাও বেশি দিন হয়নি, মাস খানেক হবে। এরই মধ্যে খোঁড়াখুঁড়ির কবলে পড়েছে মগবাজার থেকে কাকরাইল দিকের রাস্তাটি। ওদিকে আগে থেকে ভাঙাচুরা মগবাজার-মালিবাগ রাস্তায় পড়েছে খোঁড়াখুঁড়ির নতুন ভোগান্তি। ফলে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত মানে আবার ভোগান্তি, আবার যানজট। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে যানবাহন। এদিকে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে বিপাকে পড়েছেন মালিবাগ রেললাইনের মোড় হয়ে খিলগাঁওয়ের দিকে যাতায়াতকারী মানুষ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে চলে যাচ্ছেন পথচারীরা। 

সংস্কার করা সড়ক দিয়ে কদিন যাতায়াত করতে করতে পথচারীদের গা কিছুটা সয়ে গেলেও নতুন করে আবার খোঁড়াখোঁড়িতে যন্ত্রণা আরও বেড়ে গেছে। একারণে এই জায়গাগুলোর কাছাকাছি এসেই যাত্রীর গাড়ি থেমে যাচ্ছে।

 খোঁজ নিয়ে জানা গেল নতুন করে ভোগান্তিতে পড়ার কারণটির নাম ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) নতুন কাজ অথাৎ মূল সড়কের পাশ ধরে চালাচ্ছে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ। পাশে স্তূপ করা মাটি। সড়কের উভয় পাশে এক লাইন ধরে চলছে গাড়িগুলো।

রোববার সন্ধ্যায় ফ্লাইওভারের হলি ফ্যামিলি অংশে গিয়ে দেখা যায়, খোঁড়খুঁড়িতে বেদখল হয়ে গেছে সড়কের দশ ফুটের মতো অংশ। ব্যস্ত এই সড়কে গাড়ি চলছে এক লাইনে। ফলে পেছনে লেগেছে জট। আর মৌচাক থেকে মগবাজারমুখী পথে গাড়ি চলাচল তো প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ করে রাখা হয়। ফলে বাধ্য হয়ে ঘুর পথ ধরে অন্য রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালাতে হয় বলে জানান কয়েকজন চালক। এখন গাড়ি চলাচলে রাস্তাটি খুলে দেয়া হলেও খোঁড়াখুঁড়ির কারণে যানজট বেড়েছে আরো।

শফিক নামের এক বাসচালক জানান, কদিন পরপর রাস্তা কেটেকুটে, আর আমগো ঘুইরা অন্য রাস্তায় দিয়া যাইতে কয়।

 মৌচাক-মগবাজার রাস্তাটি ঠিক করার পর যানজট কিছুটা কমেছিল জানিয়ে তিনি বলেন, চাইর রাস্তার মোড়ে এমনেই টেরাফিক আছে, তার উপরে রাস্তা ভাঙা। গাড়ি স্বাভাবিক গতি দিয়া টানুন যায় না। বর্তমানে অফিস সময় ও সন্ধ্যার পরে আগের চেয়ে বেশি যানজটের সৃষ্টি হয় বলে জানান তিনি।

খোঁড়াখুঁড়ির কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ডিপিডিসি পথ খুঁড়ছে। কারণ কী? জবাবে কাজের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তি জানান, ১৩২ কেভি লাইনের জন্য মাটির নিচ দিয়ে বিদ্যুতের তার টানা হচ্ছে। এ জন্য চার ফুট চওড়া করে সাত ফুট গভীর গর্ত খোঁড়া হচ্ছে। তবে কাজ শেষ হতে কত দিন লাগতে পারে এ ব্যাপারে তিনি জানেন না।

মগবাজারের বাসিন্দা শামসুজ্জামান লিয়ন বলেন, ওই পথে নিয়মিত আসা-যাওয়া করি। মাটি ফেলার কারণে ফুটপাতেও সামান্য পরিমাণ জায়গায় চলচলে কষ্ট হয়। তিনি আরো বলেন, বোঝাই যায় এখানে পরিকল্পনার অভাব রয়েছে, কাকে কী বলব! এক মাসের মাথায় হঠাৎ মূল সড়ক খুঁড়ে এভাবে পথচারীদের ভোগান্তির মুখে ফেলার কোনো মানে হয় না।

ব্যবসায়ী আরমান আহমেদ বলেন, ফ্লাইওভার তৈরির কারণে তিন বছরের বেশি সময় ভোগান্তিতে আছিলাম। ভাঙাচুরা আর রাস্তায় নির্মাণসামগ্রী রাখার কারণে অনেক ধুলাবালি হজম করেছি। তিনি আরো বলেন, রাস্তা ঠিক করার পর ভেবেছিলাম এখন একটু শান্তিতে থাকতে পারব, কিন্তু দেহেন তাদের প্লান, এক মাসের মধ্যে খোঁড়াখুঁড়ি। 

সংগ্রামের সঙ্গে আলাপকালে আবদুল আওয়াল নামের একজন চাকরিজীবী জানান, খোঁড়াখুঁড়ির কারণে এতটাই জ্যাম লেগে থাকে যে, গাড়িতে ওঠার পরিবর্তে হেঁটে খিলগাঁও ফ্লাইওভার পর্যন্ত চলে যাই। 

এভাবে যখন-তখন রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির বিষয়টি নগর ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা বলে মনে করেন নগরবিদরা। জানতে চাইলে নগরবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম খান বলেন, গোটা শহরটাই অপরিকল্পিত। এখানে কে কোথায় কখন রাস্তা খুঁড়ছে এটা বলাও মুশকিল। তবে সারা বছরই যদি এ ধরনের কাজ চলতে থাকে তাহলে নগরবাসীর ভোগান্তি বাড়বে ছাড়া কমবে না, এটাই স্বাভাবিক। এটাই নগরবাসীর নিয়তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ