ঢাকা, মঙ্গলবার 03 January 2017, ২০ পৌষ ১৪২৩, ০৪ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সরকারের প্রশ্রয়ের কারণে সমাজ ও রাষ্ট্রে দুর্বৃত্তরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গাইবান্ধার সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে হত্যার ঘটনাই প্রমাণ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ। গতকাল সোমবার দুপুরে ছাত্রদলের ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আজকে এই হত্যার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, এই সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও জনগণের জীবনের নিরাপত্তা দিতে। তিনি বলেন, সরকারের প্রশ্রয়ের কারণে সমগ্র সমাজ ও রাষ্ট্রে দুর্বৃত্তরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এখন যেমন একজন এমপি নিরাপদ নন এবং সাধারণ মানুষও নিরাপদ নয়। এদেশে আজকে স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি নেই। এর প্রধান কারণ হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করা হচ্ছে দলীয় স্বার্থে।

এমপি লিটন হত্যায় বিএনপি-জামায়াত জড়িত বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এর জবাবে তিনি বলেন, সরকার বরাবরই নিজেদের অপকর্মগুলোকে অন্যের উপর চাপিয়ে দেয়। এর মাধ্যমে তারা ফায়দা লুটতে চায়। মির্জা ফখরুল বলেন, তারা (সরকারি দল) তাদের অপকর্মগুলোকে সবসময় অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতে চায়, এটা তাদের স্বভাব। এতে সত্য কখনও চাপা থাকে না। এটাই সত্য যে, এই সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে জনগণের জীবনের নিরাপত্তা প্রদান করতে। 

তিনি বলেন, সরকার বিরোধী দলকে দমন করছে, ছাত্রদেরকে তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম করতে দিচ্ছে না। আজকে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থা থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য ছাত্রদল গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার শপথ নিয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ছাত্রদল জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে শপথ নিয়েছে। দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে সাথে নিয়ে, তারেক রহমানের পরামর্শে লড়াই করে যাবে।

এ সময় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, আবু আল আতিক হাসান মিন্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, মেহবুব মাছুম শান্ত, দফতর সম্পদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, ক্রিড়া সম্পাদক সৈয়দ মাহমুদসহ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: এদিকে গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) ৩১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনীতিসহ চলমান সার্বিক পরিস্থির কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশ কঠিন দুঃসময় অতিক্রম করছে। ক্ষমতাসীনরা সমস্ত রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে ভিন্নমতকে দমন ও ধ্বংস করতে চায়। অতীতেও এরা ভিন্নমত দমন করে শেষ পর্যন্ত একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করেছে। এখন ছদ্মবেশে একদলীয় শাসন চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই, অথচ এরা (আওয়ামী লীগ) জঙ্গি অভিযোগে এবং জঙ্গি সন্দেহে এ পর্যন্ত যাদেরকে গ্রেফতার করেছে তাদের সবাইকেই তদন্তের আগে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে। এ ক্রসফায়ার কিসের আলামত?। দেশের সকল গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দললের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আসুন মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলি। কারণ বাংলাদেশে কোথাও শান্তি নেই, কেউ নিরাপদ নয়। অর্থ্যাৎ জবরদখলকারী, জুলুমবাজ ও অত্যাচারী সরকারের পাল্লায় পড়েছে দেশ।

জীবন বাঁচাতে আমাকে ক্ষমতায় আসতে হবে বলে এরশাদের দেয়া এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেছেন। এখন আবার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করে অনির্বাচিত সরকারের সহযোগী হয়েছেন। কাজেই বলবো আগে পদত্যাগ করে জনতার কাতারে আসুন। জনগণ ক্ষমা করলে করতেও পারে।

আয়োজক সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ডা. টি আই এম ফজলে রাব্বী চৌধুরীর সভাপতি এতে অন্যান্যের মধ্যে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য নবাব আলী আব্বাস খান, আহসান হাবিব লিঙ্কন, মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ