ঢাকা, মঙ্গলবার 03 January 2017, ২০ পৌষ ১৪২৩, ০৪ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

হোমিওপ্যাথি : প্রশ্ন আছে অনেক

অধ্যাপক ডা. আহমদ ফারুক
প্রশ্ন: শীতের শুরুতে অনেকেরই বিশেষভাবে শিশুদের টনসিল প্রদাহ হয়। ওষুধ চাই।
-সালমা, ঢাকা
উত্তর: এ ধরনের ঋতু পরিবর্তনজনিত টলসিল প্রদাহে ‘বেলেডোনা-৩০ শক্তি’, দিনে তিনবার, তিন দিন পর্যন্ত ব্যবহারে ভালো ফল পাওয়া যায়।
প্রশ্ন: ভ্রমণকালে অনেকের বমি, বমিভাব, মাথা ঘুরানো ইত্যাদি সমস্যা দেখা যায়। এর জন্য কোনো হোমিওপ্যাথি ওষুধ আছে কি?
-মতিউর রহমান, চট্টগ্রাম
উত্তর: ‘ককিউলাস-৬ শক্তি’ ব্যবহার করুন।
প্রশ্ন: নবদম্পতিদের অনেকেই প্রস্রাবের যন্ত্রণায় ভোগেন। সমাধান চাই।
-কাওছার, বরিশাল
উত্তর: নবদম্পতিদের এ ধরনের সমস্যাকে ‘হানিমুল সিস্টাইটিস’ বলে। ‘ক্যান্থারিস-৩০ শক্তি’, দিনে তিনবার, তিন দিন পর্যন্ত ব্যবহারে উপকার পাওয়া যায়। এ ছাড়া এই সময় প্রচুর পানি পান করতে হবে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
প্রশ্ন: হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় বেশির ভাগ ডাক্তার বায়োকেমিক ওষুধ ব্যবহার করেন। কেন?
-ডা: চৌধুরী হারুন, চট্টগ্রাম
উত্তর: হোমিওপ্যাথি ওষুধ বিজ্ঞানী হানেমান প্রবর্তিত পদ্ধতিতে শক্তিকরণ করা হয়। বায়োকেমিক ওষুধ সম্পূর্ণ ভিন্ন পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। তা ছাড়া সুস্থ মানবদেহে পরীক্ষা করা হয় হোমিওপ্যাথি ওষুধ। বায়োকেমিক এভাবে পরীক্ষা করা হয় না। তাই সাময়িক ক্রিয়ার জন্য হোমিওপ্যাথির সাথে বায়োকেমিক ওষুধ ব্যবহার করা ঠিক নয়।
প্র: ভাইরাল হেপাটাইটিস নিয়ে আপনার লেখায় কোন চিকিৎসার কথা বলেননি। আমরা চিকিৎসা জানতে চাই।
-মাহমুদুর রহমান, ঢাকা।
উ: ডিএনএ পজিটিভ হলেই চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। হোমিওপ্যাথিতে এ ধরনের রোগীদের ভাল রাখার চিকিৎসা দেখা যায়।
প্র: ‘লিউকেমিয়া’ কি? এর রোগ লক্ষণ জানালে উপকৃত হবো।
-শায়লা শারমিন, কুমিল্লা।
উ: ‘লিউকেমিয়া’ কথাটা একটি গ্রিক শব্দ। মানে হচ্ছে, ‘সাদা রক্ত’। ‘লিউকেমিয়া’ হলো এক ধরনের ব্লাড ক্যান্সার যাতে রক্তে শ্বেতকণিকার সংখ্যা খুব বেড়ে যায়। ‘লিউকেমিয়াকে দু’টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
এক : খুসঢ়যড়রফ বা গুবষড়রফ লিউকেমিয়া’।
দুই : অপঁঃব বা ঈযৎড়হরপ লিউকেমিয়া’।
প্রায় সব ব্লাড ক্যান্সারের লক্ষণ এক না হলেও মোটামুটিভাবে লক্ষণের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে। প্রথমত: রোগী ক্লান্তিবোধ করবে। শ্বাসকষ্ট হতে পারে। গায়ের ফ্যাকাশে হয়ে যাবে।
দ্বিতীয়ত: অনুচক্রিকা (চষধঃবষবঃ) কমে যাবে, ফলে কালশিটে (নৎঁরংব) পড়বে। নানা জায়গা, যেমন নাক, মুখ, মাড়ি বা মলদ্বার থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে। মহিলাদের যে মাসিক হয় তার রক্তক্ষণের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে এবং দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে।
তৃতীয়ত: রক্তের শ্বেতকণিকা কমে যাওয়ার ফলে জ্বর এবং সংক্রমণজনিত অসুখও হতে পারে। মনে রাখবেন, রোগ নির্ণয়ের জন্য অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন।
প্র: আমার একজন রোগীর একটি আঁচিল বেশ বড়। কিনার খাজকাটা। কখনও কখনো রক্ত পড়ে। আমি তাকে থুজা উচ্চশক্তি (১গ, ১০গ, ৫০গ, ঈগ) প্রয়োগ করি। কিন্তু দিন দিন আঁচিলের আকার বড় হচ্চে। এ অবস্থায় কি করব পরামর্শ চাই।
-ডা. নিখিল চন্দ্র পোদ্দার, ঢাকা।
উ: প্রথম কথা হচ্ছে, আঁচিলের আকার পরিবর্তন কোন ভাল লক্ষণ নয়। এ ধরনের লক্ষণ ক্যান্সারের সতর্ক লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত। বর্তমান অবস্থায় আপনি তাকে নাইট্রিক এসিড, উচ্চশক্তি প্রয়োগন করতে পারেন।
প্র: আমার একজন রোগীর পায়খানায় প্রচ- দুর্গন্ধ। আমি তাকে ব্যাস্টেসিয়া, মাইলিশিয়া, কার্বোভেজ প্রয়োগ করি। কিন্তু কোন উপকার পাচ্ছি না। আপনার পরামর্শ চাই।
-ডা. মৃদুল চন্দ্র দাস, কুমিল্লা
উ: রোগীর পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস না জেনে ওষুধ নির্বাচন করা কঠিন কাজ। আপনার রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস জানা দরকার। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষাও প্রয়োজন তারপরেও আপনাকে কয়েকটি ওষুধের বিষয়ে বিবেচনা করতে বলছি, যেমন- আর্সেনিক, গ্রাফাইটিস, মার্ক কর, ন্যাট্রাম সালফ, পডোফাইলাস, সরিনাম, সালফার এবং টিউবারকুলিনাম ইত্যাদি। 
প্র: ‘অ্যানজাইনা পেকটরিস’ (অহমরহধ চবপঃড়ৎরং) নিয়ে একজন রোগী আমার চিকিৎসায় রয়েছে। আমি তাকে নিয়মিত ক্যাকটাস মাদার খেতে দিচ্ছি। এ রোগটি সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি।
ডা. মালিহা বানু, চট্টগ্রাম।
উ: সাধারণত: কয়েক মিনিটের জন্য হার্টে ব্যথা হওয়াকে অ্যানজাইনা পেকটরিস বলে। ব্যথা কয়েক মিনিট মাত্র স্থায়ী হয়। ব্যথা বিশ মিনিটের বেশি সময় স্থায়ী হলে তা অ্যানজাইনা নয়। সাধারণত: বিশ্রাম অবস্থায় ব্যথা হয় না। দ্রুত হাঁটা, সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠা, শারীরিক পরিশ্রম, ইত্যাদি অবস্থা ব্যথা অনুভূত হয়। খাবারের পরে সামান্য পরিশ্রমে ব্যথা হতে পারে। আবগময় উচ্ছ্বাস, ক্রোধ, ভীতি, ব্যস্ততা অথবা যৌনসম্ভোগের পরে ব্যথা হতে পারে। ব্যথা সাধারণত বুকের হাড়ের নিচের দিকে বক্ষদেশের কেন্দ্রবিন্দুতে হয়ে থাকে। হৃৎপি- বাম পাশে থাকলেও ব্যথাটা বাম পাশে সাধারণত হয় না। ব্যথাটা বাম কাঁধে বা বাহুতে, ডান কাঁধে, ডান বাহুতে অথবা উভয় স্থানেই, ঘাড়ে, নিচের থুতনিতে বা সোজাসুজি কাঁধের হাড়ের পেছনে পৃষ্ঠদেশে ছড়িয়ে পড়ে। কখনো কখনো ব্যথা বুকে না হয়ে কাঁধ, বাহু, থুতনী, এমনকি পাকস্থলীর অভ্যন্তরে অনুভূত হতে পারে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে মাদারটিংচার ব্যবহার ঠিক নয়। শক্তিকৃত সুনির্বাচিত ওষুধ ভাল কাজ করে।
প্র: ক্যান্সারের আধুনিক চিকিৎসা কেমোথেরাপি। এর দ্বারা কি ক্যান্সার নিরাময় হয়?
-ডা. মনোরঞ্জন ধর, চট্টগ্রাম।
উ: চিকিৎসা বিজ্ঞানের কথা হচ্ছে, প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার ধরা পড়লে তা নিরাময় করা যায়। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্যান্সার রোগী প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসকের নিকট আসেন না কিংবা আসতে পারেন না। কারণ এ সম্পর্কে অনেকেরই প্রাথমিক ধারণা থাকে না।
বর্তমানে অ্যালোপ্যাথিতে কেমোথেরাপির মাধ্যমে বহু ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে বিশ্বের দু’জন বিখ্যাত ক্যান্সার চিকিৎসক মন্তব্য করেছেন যে, কেমোথেরাপির মাধ্যমে মানবদেহের একটি মাত্র বিরল ক্যান্সার নিরাময় সম্ভব। তা হচ্ছে, ‘জেস্টেশনাল কোরিওকার্সিনোমা’। এ ক্যান্সার হয় অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের মধ্যে। প্রাথমিক অবস্থায় এর থেকে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব (দি আদার কেস অব ক্যান্সার, ডা. মনু কোঠারী ও ডা. লোপা মেহতা)।
প্র: গর্ভাবস্থায় বমি নিয়ন্ত্রণে কি কি ওষুধ কার্যকর? আমার এক রোগী রাতের খাবারের পরে এবং সকালে নাস্তার পরে বমি করে। এ অবস্থায় তাকে কি ওষুধ দিলে উপকার পাবে? আমি তাকে আর্সেনিক ও ইপিকাক প্রয়োগ করেছি। কিন্তু কোন উপকার পাইনি।
-ডা. শায়লা নাজমিন, ঢাকা।
উ : গর্ভাবস্থায় বমি নিয়ন্ত্রণে চেলিডোনিয়াম, ক্রিয়োজোট, মেডোরিনাম, ন্যাট্রাম সালফ, নাক্স ভম, সিপিয়া, প্রথম পর্যায়ের ওষুধ। এ ছাড়া এন্টিম ক্রুড, আর্সেনিক, ব্রায়োনিয়া, কলচিকাম, সাইক্লামেন, ফেরাম ফস, ইপিকাক, ন্যাট্রাম মিউর, অপিয়াম, ফসফরাস, সরিনাম, ভিরেট্রাম ইত্যাদি ওষুধগুলো দ্বিতীয় পর্যায়ে বিবেচ্য। তবে বিজ্ঞ চিকিৎসক অবস্থা বিবেচনা করে যে কোন ওষুধই প্রয়োগ করতে পারেন।
রাতে খাবারের পরে এবং সকালে নাস্তার পূর্বে বমি হলে ‘ক্রিয়োজাট (কজঊঙঝ)’ প্রধান ঔষধ। আর বমি না হয়ে বমিভাব সব সময় থাকলে ‘ইপিকাক’ ভাল কাজ করে।
মনে রাখবেন, আপনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা সব সময় ওষুধ নির্বাচনে সাহায্য করবে। এ জন্য উন্নতমানের মেটিরিয়া মেডিকা পড়ার অভ্যাস থাকতে হবে।
প্র: চিকিৎসা ক্ষেত্রে আমরা ব্যবস্থাপত্র না দিয়ে ঔষধ দিয়ে দিচ্ছি। রোগীকে ঔষধ সরবরাহে হোমিওপ্যাথির কোন নীতিমালা আছে কি? বিটি ঔষধ কোথায় ভাল পাওয়া যায়?
-ডা. মামুন, ঢাকা।
উ : সাধারণত : ব্যবস্থাপত্র দেয়া হয় ঔষধ ক্রয়ের জন্য। কোন নির্ভরযোগ্য ফার্মেসী থেকে ঔষধ ক্রয়ের জন্য ব্যবস্থাপত্র দেয়া যেতে পারে। কিন্তু  অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপত্রের অপ-ব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ, দেখা যায়, কোন ঔষধ দ্বারা রোগী উপকার পেলে সেটা সে বার বার নিজে নিজেই ক্রয় করে সেবন করতে থাকে। এতে ঔষধজ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। যা অনেক ক্ষেত্রে রোগীর জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাছাড়া উপকারপ্রাপ্ত ঔষধের শক্তি ও মাত্রা পরিবর্তিত অবস্থায় ব্যবহার করার নিয়ম থাকায় তা রোগীর পক্ষে জানা সম্ভব নয়। বিজ্ঞানী হানেমান বলেছেন, চিকিৎসকের নিকট অবশ্যই প্রমাণিত নির্ভেজাল ঔষধ থাকতে হবে এবং তিনি নিজে তা তৈরি করে রোগীকে সরবরাহ করবেন (অর্গা ২৬৪-২৬৫)।
বর্তমান বাজারে বিটি কোম্পানীর
ঔষধ পাওয়া যায় না। আমার জানা মতে, বিটি কোম্পানীর ঔষধ আমদানী দীর্ঘদিন যাবত বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশে। জার্মানীর দু’একটি কোম্পানী এবং সুইজারল্যান্ডের একটি কোম্পানীর ঔষধ বর্তমানে বাংলাদেশে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া ভারত ও পাকিস্তানের বিভিন্ন কোম্পানীর ঔষধ রয়েছে বাজারে।
প্র: সাইনুসাইটিস ব্যথা বুঝার উপায় কি? হোমিওপ্যাথিতে এর জন্য ভাল কি কি ঔষধ আছে?
উ : সাইনুসাইটিম (ংরহঁংরয’ং), এক ধরনের মাথা ব্যথা, যা প্রাপ্ত বয়স্কদের বেশি হয়। সাধারণত : একদিকে আক্রান্ত হয়। ফ্রন্টাল সাইনুসাইটিস (ঋৎড়হঃধষ ংরহঁংরয’ং) এর ব্যথা খুব সকালে হয়ে থাকে। ম্যাক্সিলারী সাইনুসাইটিসের (গধুরষষধৎু ঝরহঁংরয’ং) ব্যথা দুপুরের পরে বিকালের দিকে হয়ে থাকে। সাথে নাক বন্ধ থাকা এবং নাকদিয়ে পানি ঝরতে পারে। চঘঝ -এক্সরে করে রোগ নির্ণয় করা হয়ে থাকে।
রোগীর রোগ লক্ষ্মণকে কেন্দ্র করে ঔষধ নির্বাচন করতে হবে। সাধারণত : যে সব ঔষধ এক্ষেত্রে বেশি ব্যবহৃত হয় সেগুলো হচ্ছে, একোনাইন, আর্সেনিক, আর্সেনিক আরোড, ব্রায়োনিয়া, ক্যালকেরিয়া কার্ব, ডালকামারা, হিপার সালফ, কেফি-কার্ব, মার্কসল, ন্যাট্রাম মিউর, নাক্সভম, ফসফরাস, রাসটক্স, পালসেটিলা, সালফার, থুজা ইত্যাদি।
এছাড়া যে কোন ঔষধই নির্বাচিত হতে পারে রোগীর রোগ লক্ষণ অনুযায়ী।
প্র: : টাইফয়েড জ্বর নিশ্চিতকরণে কি কি পরীক্ষা দরকার? হোমিওপ্যাথিতে টাইফয়েডের ভাল চিকিৎসা আছে।
-ডা : গোপাল চন্দ্র, ঢাকা।
উ : টাইফয়েড জ্বরের চরিত্র হচ্ছে, প্রথম সপ্তাহে ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে (ঋবাবৎ-ংঃবঢ় ষধফফবৎ ৎরংব ড়ভ ঃবসঢ়বৎধঃঁৎব)। দ্বিতীয় সপ্তাহেও বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে। ৩য় ও চতুর্থ সপ্তাহে কমতে থাকে।
টাইফয়েডের রক্ত পরীক্ষা ভিডাল (ডরফধষ), জ্বর হওয়ার প্রথম সপ্তাহে পজিটিভি (চড়ংরঃরাব) নাও হতে পারে। দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ভিডাল পরীক্ষা পজিটিভ হতে পারে। জ্বরের প্রথম সপ্তাহে রক্তের জীবাণু কালচার (ইষড়ড়ফ ঈঁষঃঁৎবং) করে রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। পায়খানা কালচার (ঝঃড়ড়ষ ঈঁষঃঁৎবৎং) দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহে পজিটিভ হয়। প্র¯্রাব কালচার (টৎরৎব ঈঁষঃঁৎবং) তৃতীয় সপ্তাহে পজিটিভ হয়।
এখানে মনে রাখা দরকার যে, কখনও একবার টাইফয়েড জ্বর হলে পরবর্তি পর্যায়ে অন্যরকম জ্বর হলেও ভিডাল (ডরফধষ) পজিটিভ হতে পারে। বর্তমানে টাইফয়েড জ্বর নির্ণয়ে ভিডাল টেস্ট-এর গুরুত্ব কম। একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক সাধারণত : ৩ দিন অবিরত জ্বর থাকলেই রক্তের জীবাণু কালচার করাবেন, এটাই স্বাভাবিক নিয়ম।
হোমিওপ্যাথিতে টাইফয়েড জ্বরের খুব উন্নত চিকিৎসা রয়েছে। বিজ্ঞ চিকিৎসক পর্যায়ক্রমিক লক্ষ্মণের ভিত্তিতে ঔষধ নির্বাচন করে চিকিৎসা দিবেন।
প্র : পুরুষের জন্মদান ক্ষমতা লোপ পায় কেন? এ ব্যাপারে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা কার্যকর কিনা?
-ডা. শাহাদাৎ মন্ডল, ঢাকা।
উ: পুরুষের অনেক কারণেই জন্মদান ক্ষমতা লোপ পেতে পারে। যেমন, তিনি যদি অধিক মদ্যপান, ধুমপান, জর্দা ইত্যাদিতে আসক্ত হয়ে থাকেন, তবে তার পর্যাপ্ত শুক্রাণু উৎপাদন হবে না। দ্বিতীয় : ছোটবেলায় যদি “মাম্পস” হওয়ার ইতিহাস থাকে। মাম্পসের কারণে অন্ডকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে বীর্যে শুক্রাণু থাকে না।
তৃতীয়ত : কোন যৌন রোগের ইতিহাস। যৌন রোগের কারণে নলে ক্ষত সৃষ্টি হয়। ফলে শুক্রাণু লিঙ্গ ত্যাগ করতে পারে না। চতুর্থত : ডায়াবেটিস, যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়ার ইতিহাস থাকলে পুরুষের উর্বরতা নষ্ট হয়। এছাড়া যৌন অক্ষমতা কিংবা মানসিক চাপও উর্বরতা নষ্ট করতে পারে। এক্ষেত্রে যথাযথ কারণ চিহ্নিত করে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ প্রয়োগ করলে উপকার পাওয়া যায়।
# facebbook.com/drgmfarouq
মোবা : ০১৭৪৭-১২৯৫৪৭।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ