ঢাকা, বুধবার 04 January 2017, ২১ পৌষ ১৪২৩, ০৫ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

২৩৬৭ গেরিলা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি আপিলে বহাল

স্টাফ রিপোর্টার : ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের বিশেষ গেরিলা বাহিনীর ২ হাজার ৩৬৭ জন মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিলের প্রজ্ঞাপন অবৈধ ঘোষণার হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের করা লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) গতকাল মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার ( এস কে) সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ খারিজ করে দেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন-বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।
আদেশের পর রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী বলেন, এতে বিশেষ গেরিলা বাহিনীর ২ হাজার ৩৬৭ জনের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি বহাল রইল। তাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রাপ্য সম্মান, মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে।
গত ৯ অক্টোবর সরকারের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের অবকাশকালীন চেম্বার জজ বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন। একইসঙ্গে ৩০ অক্টোবর বিষয়টি শুনানির জন্য নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। ওইদিন আপিল বিভাগ স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়িয়ে সরকার পক্ষকে লিভ টু আপিল করতে বলেন।
আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেন ও সুব্রত চৌধুরী। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার ঊর্মি রহমান। সরকার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর গেরিলা বাহিনীর ২ হাজার ৩৬৭ জন মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিলের প্রজ্ঞাপন অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তালিকা প্রকাশের দিন (২০১৩ সালের ২২ জুলাই) থেকে এসব মুক্তিযোদ্ধাকে সুযোগ-সুবিধা দিতে বলা হয়। বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এ রায় দেন।
২০১৩ সালের ২২ জুলাই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে গেরিলা বাহিনীর ২ হাজার ৩৬৭ জন মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রকাশ করে। গেরিলা বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার ও ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকারের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য কমরেড মণি সিংহ ও অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের নাম ছিল। তবে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ওই তালিকার প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়। ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের বিশেষ গেরিলা বাহিনীর এই তালিকা বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন পঙ্কজ ভট্টাচার্য। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করেন। তালিকা বাতিলের ওই প্রজ্ঞাপন কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। একই সঙ্গে তালিকা বাতিলের ওই প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়। গত ৫ সেপ্টেম্বর ওই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট ৮ সেপ্টেম্বর  রায়ের দিন নির্ধারণ করেন। এর ধারাবাহিকতায় আদালত রায় ঘোষণা করলেন।
রায়ের পরে রিটের আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী বলেছিলেন, গেরিলা বাহিনীর তালিকা বাতিলের প্রজ্ঞাপনটি অবৈধ ঘোষণা করেছেন আদালত। ফলে ২০১৩ সালের ২২ জুলাই গেরিলা বাহিনীর যে তালিকা করা হয়েছিল, তা বহাল রইল। তালিকা বাতিলের দিন থেকে এসব মুক্তিযোদ্ধাকে যাবতীয় সুবিধা ও পাওনা নিশ্চিত করতে বলেছেন আদালত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ