ঢাকা, বুধবার 04 January 2017, ২১ পৌষ ১৪২৩, ০৫ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ভাষা সৈনিক সমীর আহমেদের ইন্তিকাল

খুলনা অফিস : ভাষা সৈনিক সমীর আহমেদ (৮৭) ইন্তিকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকার এ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তিকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার পুত্র ও তিন কন্যা সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
 মঙ্গলবার নগরীর শহীদ হাদিস পার্কে জোহরবাদ মরহুমের নামাযে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা শেষে জিরোপয়েন্টে মরহুমের বাসভবনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। গত ২৫ ডিসেম্বর অসুস্থ হয়ে পড়লে খুলনার বেসরকারি একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছিল। দু’দিন পর ২৭ ডিসেম্বর হেলিকপ্টারযোগে নিয়ে তাকে ঢাকার এ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উল্লেখ্য, তিনি ১৯৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের জন্মগ্রহণ করেন।
ভাষা আন্দোলন সংগঠিত করার জন্য খুলনায় ১৯৫০ সালে গঠিত হয় নয়া সাংস্কৃতিক সংসদ নামে একটি সামাজিক সংগঠন। সমীর আহমেদ এই কমিটির সদস্য। ১৯৫২ সালে এই সংগঠন খুলনায় ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়। তিনি সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন। ৫২ সালে গঠিত ভাষা সংগ্রাম কমিটি খুলনার সদস্য ছিলেন। ১৯৫১ সালে খুলনা শহরের নীলা সিনেমা হল (আজকের পিকচার প্যালেস) এর বিপরীতে স্টুডিও ফোকাসের দোতলা থেকে সমীর আহমেদের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় মাসিক সবুজপত্র। তিনি এই পত্রিকার প্রকাশকও ছিলেন। খুলনায় পত্রিকার অফিস হলেও ছাপা হতো বাগেরহাট থেকে। প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মুখপাত্র হিসেবে স্বীকৃতি পায়। সবুজপত্র মুসলিম লীগ সরকারের বিরুদ্ধে পরোক্ষভাবে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ সম্পর্কিত লেখা থাকতো। সরকার সবুজপত্রের ডিক্লিয়ারেশন বাতিল করে দেয়। সবুজপত্র আর প্রকাশিত হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে ভাষা সৈনিক হিসেবে খুলনা সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক মেয়র পদক ও ২০১৪ সালে খুলনা জেলা প্রশাসন কর্তৃক ভাষা সৈনিক সম্মাননাসহ জীবদ্দশায় তিনি একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ