ঢাকা, বৃহস্পতিবার 05 January 2017, ২২ পৌষ ১৪২৩, ০৬ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

যতবার ট্রাইব্যুনাল সরানোর চিঠি ততবার পাল্টা চিঠি -আইনমন্ত্রী 

স্টাফ রিপোর্টার : ট্রাইব্যুনাল সরানোর জন্য সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন যতবার চিঠি দেবে ততবারই তা না সরাতে পুনর্বিবেচনার জন্য পাল্টা চিঠি দেবে মন্ত্রণালয় বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। গতকাল বুধবার রাজধানীর বিচার প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক কর্মশালার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। চিঠি চালাচালির শেষ অবস্থান কী জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এর শেষ অবস্থানটা আমি বলতে পারবো না। ট্রাইব্যুনাল সরিয়ে নেয়ার যে আদেশ সুপ্রিম কোর্ট দিয়েছে আমি যতবারই আদেশ পাবো ততবারই এটা পুনর্বিবেচনার জন্য বলবো। যতবার চিঠি দেবে ততবারই আমি পুনর্বিবেচনার জন্য চিঠি লিখবো। 

আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধের বিচারের অভিজ্ঞতা ছিল না। আমরা এই ট্রাইব্যুনাল ও প্রসিকিউশন টিম গঠন করেছি। পর্যায়ক্রমে তাদের অভিজ্ঞতা বেড়েছে। আজকে এটা সারাবিশ্বে স্বীকৃত। এই ট্রাইব্যুনাল সুষ্ঠু বিচার আমাদের উপহার দিচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন নিয়ে সরকারের আইন করার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংবিধানে এটা স্পষ্টভাবেই লেখা আছে, এটা রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার। রাষ্ট্রপতি এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবেন। যদি আইন প্রণয়ন করতে হয় তাহলে রাষ্ট্রপতিই বলবেন। রাষ্ট্রপতির নির্দেশনার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি।

এই ব্যাপারে রাষ্ট্রপতি একটা আলাপ-আলোচনা করছেন। সেই ক্ষেত্রে সরকার থেকে এমন কোনো কথা আমি বলতে চাই না যা এই আলাপ-আলোচনাকে বিঘিœত করে।

মন্ত্রী বলেন, এই সরকার বদ্ধপরিকর একটা সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে। আমরা চেষ্টা করছি এই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এমন একটা বিষয় বেরিয়ে আসুক যা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে।

আইন করতে রাষ্ট্রপতি আদেশ দিলে আগামী সংসদ অধিবেশনে এ বিষয়ে কোনো আইন করতে আপনাদের প্রস্তুতি আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের একটি লেজিসলেটিভ বিভাগ আছে। রাষ্ট্রপতি কিছু করার জন্য যখন নির্দেশ দেবেন আমরা নিশ্চয় সেই কাজটা তড়িৎ করার ক্ষমতা রাখি।

আইনমন্ত্রী বলেন, আপনারা একটু অপেক্ষা করেন, দেখি এই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি কী সুপারিশ করেন। রাষ্ট্রপতি যে সুপারিশ করবেন সেটা আমরা মানতে বাধ্য।

হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে নতুন বিচারপতি নিয়োগের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি বিচারক নিয়োগ দিয়ে থাকেন। আমার মনে হয়, হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে বিচারপতির সংকট দেখা দিলে তখনই আমরা বিচারপতি নিয়োগের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে অনুরোধ জানাবো। সেই ক্ষেত্রে চলমান প্রক্রিয়ায় যখনই প্রয়োজনীয়তা দেখা দেবে তখনই বিচারপতি নিয়োগ হবে। এ ক্ষেত্রে নিয়োগটা যাতে বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকে এবং যোগ্য লোক নিয়োগ পায় সে চেষ্টা থাকবে।

বিচারপতি নিয়োগ দেয়ার বিষয়ে একটি আইন এই বছরের মধ্যে হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লা বাদ দেয়ার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন আপনাদের কাছে মতামত চেয়েছেন, সেই বিষয়ে আপনাদের সিদ্ধান্ত কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা মতামত দিয়ে দিয়েছি। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট একটি অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ আদেশে বলেছেন, দাঁড়িপাল্লা নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ব্যবহার না করার বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেয়ার পরে আমাদের কাছে পাঠিয়েছে এটা ভেটিং করে দেয়ার জন্য। প্রতীক নির্বাচনের এখতিয়ার হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচন কমিশন কোনো প্রতীক বাদ দিতে চাইলে বা কোনো প্রতীক অন্তর্ভুক্ত করতে চাইলে আইনত সেটা তারা পারে। নির্বাচন কমিশন দাঁড়িপাল্লা বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এটা ঠিক। আইনত যেহেতু তারা সেটা পারে, আমরা বলেছি, এটা ঠিক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ