ঢাকা, বৃহস্পতিবার 05 January 2017, ২২ পৌষ ১৪২৩, ০৬ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ডিএনসিসি মার্কেটেই ব্যবসা শুরু করতে চান ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা 

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর গুলশানের ডিএনসিসি মার্কেটে ভয়াবহ আগুনে সব হারিয়ে নিঃস্ব ব্যবসায়ীরা ওই মার্কেটেই নতুন করে ব্যবসা শুরু করতে চান। এজন্য তারা দ্রুত নতুন ভবন তৈরি করতে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চেয়েছেন। তারা বলেন, আমরা আবার উঠে দাঁড়াতে চাই। এখানেই থাকতে চাই। এজন্য অতি তাড়াতাড়ি আমাদের মার্কেটের ভবনটা তৈরি করে দেয়া হোক।

ডিএনসিসি মার্কেটের পাকা ও কাঁচা মার্কেট দোকান সমিতি গতকাল বুধবার দুপুরে মার্কেটের প্রবেশপথে পৃথক সমাবেশ করেছেন। সমাবেশে পাকা মার্কেট দোকান সমিতির কোষাধ্যক্ষ আখতারুজ্জামান বলেন, আমরা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের একটাই দাবি, আমরা এখানে ব্যবসা করতে চাই। যেহেতু তাদের ভবনটি ধসে পড়েনি, তাই তা মেরামত করে ব্যবসা করার সুযোগ দিতে হবে উত্তর সিটি করপোরেশনকে। ক্ষতিগ্রস্ত কাঁচা মার্কেট দোকান সমিতির ব্যবসায়ীরা বলেন, যেহেতু সিটি কপোরেশনের মার্কেট এটি। তাই মেরামত করে মার্কেট চালুর দায়িত্ব তাদের। সমাবেশে ব্যবসায়ীরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও ক্ষতিগ্রস্তদের দোকান বরাদ্দ দিয়ে এরপর নির্মাণ কাজ শুরুর দাবি জানান। আগুন নেভানোর কাজে ফায়ার সার্ভিসের গাফিলতির অভিযোগ করে ব্যবসায়ীরা বলেন, ২২ থেকে ২৩টি ইউনিটের কথা বলা হলেও আসলেই এসেছিল কি না, সে বিষয়ে তদন্ত করতে হবে। এদিকে দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগসহ সবদিক মাথায় রেখেই তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির প্রধান। 

ডিএনসিসি কাঁচা ও সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান শের মোহাম্মদ জানান, অগ্নিকাণ্ডে ডিএনসিসি মার্কেটের একাংশে (কাঁচা মার্কেট) ৬০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, কাঁচা মার্কেটে মোট ৪০০ দোকান ছিল। আগুনে দোতলার মার্কেটটি পুরোপুরি ধসে পড়েছে। আমরা প্রাথমিকভাবে বৈঠক করে হিসাব করে ক্ষয়ক্ষতির এ পরিমাণ নির্ধারণ করেছি। 

দ্বিতল এই বিপণী বিতানে কাঁচা ও পাকা মার্কেট মিলিয়ে দোকান আছে ছয়শর মত। নিচতলায় বড় একটি অংশে রয়েছে আসবাবপত্রের দোকান। বেশ কিছু খাবারের দোকানও রয়েছে। দোতলায় রয়েছে আমদানি করা খাদ্যপণ্য, প্রসাধনী, পোশাক, প্লাস্টিক পণ্য ও গয়নার দোকান। মার্কেটের নিচতলায় গ্যাস সিলিন্ডার মেরামতের কয়েকটি দোকান আছে। নিচতলায় পূর্ব অংশে কাঁচাবাজার। গত মঙ্গলবার রাত ২টায় আগুন লাগার পর ভোর সোয়া ৪টার দিকে মার্কেটের পেছনের একটি অংশ ধসে পড়ে। কাছাকাছি সময়ে ধসে পড়ে সামনের একটি অংশও।

সরেজমিনে গিয়ে দুপুর পর্যন্ত গুলশান-১ ডিএনসিসি মার্কেটের পুড়ে যাওয়া বিভিন্ন দোকান থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। বাতাস বাড়লে বেড়ে যাচ্ছে ধোঁয়ার মাত্রাও। মার্কেটের অনেক দোকান থেকে মালামাল সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। যেখান থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে পানি ছিটাচ্ছেন। দুপুরে ফায়ার সার্ভিসের ইন্সপেক্টর এমরান হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, পানি ছিটানোর কারণে পুড়ে যাওয়া মালামাল স্তূপ আকারে জমাট বেঁধে গেছে। তাই অনেক জায়গায় পানি ঢুকছে না। যেসব জায়গা থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। সকাল থেকে মার্কেটের সামনে জড়ো হয়েছেন দোকান মালিকরা। অনেকেই বেঁচে যাওয়া মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন। আগের মতোই ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আগুন লাগাটা ‘পরিকল্পিত’। তারা এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান। দোকান মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. বাবুল জানান, আগুন লাগার আগের রাতে মাত্র এক হাজার টাকা নিয়ে বাসায় গেছেন। পাঁচ লাখ টাকা ক্যাশে রেখে গিয়েছিলাম। আগুনে সব শেষ। আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। 

নিজের দোকান পুড়ে গেছে। আরেক বড় ভাইয়ের দোকানের মালামাল সরানোর কাজে সাহায্য করছিলেন তরুণ ব্যবসায়ী সুবর্ণা ভ্যারাইটিজের মালিক মো. ফয়জুর রহমান। তিনি বলেন, আমার ৩ নম্বর দোকানটা ছিল কাঁচা মার্কেটের একেবারে সাথে। শীতের জন্য মাত্র কয়েকদিন আগে ৬০ লাখ টাকার মাল তুলেছি। সব শেষ। রাতে দোকানে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। পারি নাই। সকালে আগুন নিভলে দেখি সব পুড়ে ছাই। মার্কেটের পশ্চিম অংশে আগুন না লাগলেও ধোঁয়া আর আগুনের প্রচ- তাপে অনেক দোকানের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দোকান মালিকরা। জেমস ফ্রেইজার নামে একজন জানান, আগুনের তাপে তার খেলনা ও ঘর সাজানোর মালামাল নষ্ট হয়েছে। শিশুদের খেলনা প্লাস্টিকের তৈরি। গরমে অনেক খেলনা গলে গেছে। এছাড়া অনেক ইলেকট্রনিক ডিভাইস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাতে মালামাল সরানোর সময় অনেক কিছু চুরি গেছে। 

সব দিক মাথায় রেখেই তদন্ত

 অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক প্রধান লে. কর্নেল মোশাররফ হোসেন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, সবদিক মাথায় রেখেই তদন্ত করা হচ্ছে। এটা নিছক অগ্নিকাণ্ড, নাকি নাশকতা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা দোকান মালিকদের অভিযোগ উড়িয়ে দিচ্ছি না। পুড়ে যাওয়া দোকানগুলো থেকে আলামত সংগ্রহ করছি। সেগুলো পরীক্ষা করে দেখা হবে, কি কারণে অগ্নিকাণ্ড হলো।

সহায়তা দেবে সরকারঃ দুপুর দুইটায় ঘটনাস্থলে আসেন সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মহীউদ্দীন খান আলমগীর। আগুনে পুড়ে যাওয়া মার্কেট ঘুরে দেখেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকদের সহায়তা দেয়া হবে। সরকার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশনসহ সবাই আপনাদের পাশে আছি বলে ব্যবসায়ীদের বলেন তিনি। 

উল্লেখ্য, গত সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর গুলশান-১ নম্বরে ডিএনসিসি মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে মার্কেটের কয়েকশ দোকান। রাত থেকে পরদিন মঙ্গলবার প্রায় সারাদিনের চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ