ঢাকা, বৃহস্পতিবার 05 January 2017, ২২ পৌষ ১৪২৩, ০৬ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নিজেদের অপরাধকে ঢেকে রাখতে প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার ও দোষারোপের রাজনীতি করছে আ’লীগ-বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার: সারাদেশে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিাতি ভেঙ্গে পড়েছে অভিযোগ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আওয়ামী লীগের অন্তর্কোন্দলে দেশব্যাপী খুনোখুনীর ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ নিজেদের অপরাধকে ঢেকে রাখার জন্য বেসামাল হয়ে প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার ও দোষারোপের রাজনীতি শুরু করেছে, যার সাথে বাস্তবতার কোন মিল নেই। নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে মূলত: আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে বিরোধী দল দমন ও নিপীড়ণে ব্যবহার করার কারণেই সারাদেশে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবস্থা। গতকাল বুধবার দলের নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। 

সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সারোয়ার, খায়রুল কবির খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রয়োজন মন্তব্য করে রিজভী বলেন, স্বাধীন, শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপ ও মতবিনিময় অব্যাহত রেখেছেন। দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিও কিভাবে একটি শক্তিশালী, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করা যায় তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা রাষ্ট্রপতির নিকট উত্থাপন করেছে। রাষ্ট্রপতি বিএনপির প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে একটি স্বাধীন, শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনে তাঁর সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। গত কয়েকদিন আগে নির্বাচন কমিশনের ভবন উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, সব দলের মতামতের ভিত্তিতে শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ ইসি গঠনে তিনি আশাবাদী। কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপ শেষে রাষ্ট্রপতি বলেছেন-সব রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পারিক আস্থা ও বিশ্বাসের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য প্রয়োজন। 

রিজভী বলেন, রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের একজন অভিভাবক। বর্তমান গণতন্ত্রহীণ দেশে যেভাবে রক্তাক্ত পন্থায় নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে তাতে একটি স্বাধীন, শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন ছাড়া আগামী দিনে কোন নির্বাচন যে সুষ্ঠু হবে না সেটি বাংলাদেশের জনগণ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে মহামান্য রাষ্ট্রপতির আশাবাদের বাস্তব প্রতিফলন ঘটলে দেশের প্রতিটি জনগণ সেটিকে অন্তরের অন্তস্থল থেকে স্বাগত জানাবে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিও দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে সেটিকে স্বাগত জানাবে।

সারাদেশে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিাতি ভেঙ্গে পড়েছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের অন্তর্কোন্দলে দেশব্যাপী খুনোখুনীর ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ নিজেদের অপরাধকে ঢেকে রাখার জন্য বেসামাল হয়ে দলের নেতৃবৃন্দ প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার ও দোষারোপের রাজনীতি শুরু করেছে, যার সাথে বাস্তবতার কোন মিল নেই। নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে মূলত: আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে বিরোধী দল দমন ও নিপীড়ণে ব্যবহার করার কারণেই সারাদেশে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবস্থা। তিনি বলেন, সবচেয়ে আক্ষেপের বিষয় ঘরের ভিতরেও মানুষের নিরাপত্তা নেই। এছাড়াও প্রতিনিয়ত বিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ডের ঘটনা, বিরোধী দলের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের, গ্রেফতার, কারা নির্যাতন, অপহরণ, গুম, খুন যেন বিরোধী দলের ভাগ্যলিপিতে পরিণত করেছে সরকার। এদের স্বাভাবিক জীবন-যাপন, কর্ম, ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুই দখল করে নিচ্ছে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী। নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে গিয়ে নির্দোষ অপরের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে আওয়ামী নেতৃবৃন্দ কখনোই পার পাবে না। বরং দোষারোপের রাজনীতি ছেড়ে নিজেদের ঘর সামলান। স্বৈরাচারী আচরণ পরিত্যাগ করে সভ্য ও সহনশীল আচরণ প্রদর্শণ করুন। কারণ কত স্বৈরাচারের যুগ অস্তাচলে চলে গেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরির ওপর নির্ভর করছে বিএনপির পরবর্তী কর্মসূচি। তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করলে আমরা আন্দোলনে যাবো না। অন্যথায় পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে ভাববে বিএনপি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ